Dhaka , Sunday, 18 October 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
মধুপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় এসআরবি-১৪-এর প্রেস ব্রিফিং খাগড়াছড়িতে ২০০ কোটি টাকার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, শিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশা এমপি ওয়াদুদ ভূইয়ার সারাদেশে বাড়ছে তামাকের ব্যবহার: তবুও নেই উৎপাদন ও আমদানি বন্ধের দাবী নেএকোণা সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি বরিশালে ডাকাতির চেষ্টায় ধারালো অস্ত্রসহ আটক ১: গত একমাসে ৪৭১টি অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত গাইবান্ধা ‎সাঘাটায় জ্বালানি তেল পাচারে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে পিটিয়ে জখম, গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন কাউখালীতে সড়ক দূর্ঘটনায় ৪জন আহত দুর্গাপূজার ছুটির আগেই পর্যটক মুখর কক্সবাজার, পাঁচ দিনে ৬ লাখ পর্যটকের প্রত্যাশা খাগড়াছড়িতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিদর্শনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি দুর্গম কাটারুংছড়ায় বৌদ্ধ বিহারের উন্নয়নে দীঘিনালা জোনের সহায়তা রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে পল্লী চিকিৎসকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: তানসিভ জুবায়ের পাঁচবিবিতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ১,৮০০ পরিবারের মাঝে পূজাসামগ্রী বিতরণ লালমনিরহাটে তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দিনব্যাপী কর্মশালা: জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অ্যাডভোকেসির ওপর জোর মধুপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম ফতুল্লায় শ্রমিক দলের প্রতিবাদ মিছিল দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় মাঠে ৬২ বিজিবি কক্সবাজারে ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার মামলার ১ নম্বর পলাতক আসামি গ্রেপ্তার এক দেশ এক কিউআর এই স্লোগান সামনে রেখে মাদারীপুরে ‘বাংলা কিউআর’ বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৬, ইয়াবাসহ আটক মাদক কারবারি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে রামকৃষ্ণ মন্দিরের পাশে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক আহত উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু, মালিক-ম্যানেজারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা কালিয়াকৈরে ওষুধ কারখানায় আগুন, আহত ১ মানবতাবাদী সমাজ গঠনে লালন সাঁইয়ের দর্শন অনুসরণের আহ্বান প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের এপিক হেলথ কেয়ার ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের কর্পোরেট চুক্তি স্বাক্ষর কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ট্রাকচাপায় নিহত ৫, একই পরিবারের ৩ জন অজয় দেবগনের বাংলো ভেঙে দিল বিএমসি রোববার ঢাকায় আসতে পারেন ফিফা সভাপতি দুর্গাপুরে সাংবাদিক হত্যা: খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের  দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে আড়াই হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদনে প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী পদক্ষেপ: মীর হেলাল

মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’র ৭৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:55:03 pm, Friday, 25 October 2024
  • 141 বার পড়া হয়েছে

মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী'র ৭৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত।।

ইসমাইল ইমন
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধ।।
  
  

কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা পরিচালনা পর্ষদ ও কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা প্রাক্তন ছাত্র পর্ষদ -কেএমও ছাত্র পরিষদ- এর আয়োজনে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ও জাতীয় জাগরণে আত্মোৎসর্গকারী মহাপুরুষ মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ৭৪ তম মৃত্যু বার্ষিকী ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভারতের খ্যাতিমান মনিষী মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী -১৮৭৫–১৯৫০- ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন অন্যতম বিপ্লবী নেতা ছিলেন। তিনি ইসলামি চিন্তাবিদ- জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ও সাংবাদিক ছিলেন। চেরাগি পাহাড় মোমিন রোড়ে-কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা প্রতিষ্ঠাতা। ধর্মচর্চা- শিক্ষা- সাহিত্য- রাজনীতি- সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার পরিমণ্ডলে তিনি অপরিসীম অবদান রেখে গেছেন। বাংলার মুসলমানদের মাঝে আত্মজাগরণের প্রেরণা ছড়িয়ে দেন এবং শিক্ষা–সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের অগ্রসর করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন মুসলিম জাতিসত্তা নির্মাণের অন্যতম দরদি রাহবার বা পথিকৃৎ।
২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে-এতিমখানা পরিচালনা পরিষদের সহ সভাপতি লায়ন সৈয়দ মোরশেদ হোসেন’র সভাপতিত্বে সম্পন্ন হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি’র প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান। সদ্যপ্রয়াত ভাষাবিজ্ঞানী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামানকে উৎসর্গ করে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষা প্রসার ও সমাজ উন্নয়নে অনন্য অবদানের জন্য পূর্ব বাংলার প্রথম মুসলিম চিকিৎসক ডা. এম.এ. হাসেমকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। কদম মোবারক প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের মঈনুল ইসলাম ও মো কায়ছার হামিদ’র সঞ্চালনায় সভায় অতিথি আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজ’র অধ্যক্ষ প্রফেসর মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী-শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. শামসুদ্দিন শিশির- ইসলামাবাদীর দৌহিত্র এএমএস ইসলামাবাদী গাজী- প্রিন্সিপাল ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ- অধ্যক্ষ আল্লামা বদিউল আলম রিজভী-আলাউদ্দিন আলী নূর-বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি খান-ইতিহাস গবেষক সোহেল মোঃ ফখরুদ্দীন- কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা’র তত্ত্বাবধায়ক আবুল কাশেম-মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ-মোতোয়াল্লি আজাদ উল্লাহ খান- কদম মোবারক এম.ওয়াই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জহুর- কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানার প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ ইলিয়াছ হোসেন-সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ-অর্থ সম্পাদক আবদুল আলিম-মোঃ নবাব মিয়া-মোঃ আরিফ- হাফেজ মিজানুর রহমান প্রমুখ।
প্রধান অতিথি প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান বলেন- উপমহাদেশে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী এক আলোকবর্তিকার নাম তিনি ধর্ম বর্ণ নির্বি শেষে মানুষের জন্য আত্ম উন্নয়ন এর জন্য কাজ করে গেছেন।সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য মাদ্রাসা- অনাথ শিশুদের জন্য এতিমখানা সহ বিভিন্ন সমাজ কল্যাণ মূলক কাজে তিনি অবদান রেখেছেন।তিনি একক কোন ব্যাক্তিতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি একটি বৈষম্যহীন সমাজের চিত্রকার ছিলেন।
প্রফেসর সিকান্দার বলেন- মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মানুষের আত্ম মুক্তির জন্য তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছেন। তার ভাবনা চিন্তায় ছিলো মানুষের জাগতিক পরিবর্তন ও আত্মিক উন্নয়ন।তার ইচ্ছে ছিলো আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন- মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী আজীবন মেহনতি মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল এতিমদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। যিনি আজীবন মানবতার কল্যাণে রাজনীতি ও সমাজসেবা করে গেছেন। একজন গুণী মনিষী হিসেবে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী অনেক প্রতিভাসম্পন্ন দূরদর্শী নেতা ছিলেন।
স্মরণসভায় প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান আরো বলে- মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর জীবনাদর্শ ও বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞ অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী আজীবন জনহিতকর- জাতীয় উন্নতিমূলক বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞে নিবেদিত ছিলেন। বিপ্লবী এই কীর্তিমান বাংলার মুসলিম সমাজের জাগরনে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন- প্রাদেশিক সংসদে তিনি বাংলায় বক্তৃতা ও বিতর্ক সম্পাদন করতেন। পরবর্তীকালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষায় উন্নীত করার ক্ষেত্রে এটি উদ্দীপকের ভূমিকা পালন করে। তিনি তৎকালীন পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে কুপ্রথামুক্ত ও সময়োপযোগী করে শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রগামী করে তুলতে অদম্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানের পাশাপাশি মাদ্রাসা এবং এতিমখানাসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনক ছিলেন তিনি। বাল্যবিবাহ ও নারী-নির্যাতন রোধ- সমাজের কু-সংস্কার নিরসন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে আজীবন উদগ্রীব ছিলেন এই মহান ব্যক্তিত্ব।
-সভাপতি লায়ন সৈয়দ মোরশেদ হোসেন বলেন- তিনি মাদ্রাসার ছাত্রদের সমাজনীতি- অর্থনীতি- ভূগোল- ইতিহাস এবং আধুনিক দর্শন ও বিজ্ঞানে যুগোত্তীর্ণ শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এতদ্ঞ্চলে জাতীয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা ও সংলগ্ন শিক্ষা কমপ্লেক্স তাঁর অন্যতম কীর্তি। মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী বৃটিশ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন- বঙ্গভঙ্গ রদ ও খিলাফত আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি স্বদেশী আন্দোলনের সময় ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য হন ও কৃষক প্রজা আন্দোলনের পরিচালক ছিলেন।
মোরশেদ হোসেন আরো বলেন- প্রখ্যাত আলেম হওয়া সত্বেও তিনি ধর্মান্ধ ছিলেন না বরং যুক্তিবাদী- বিজ্ঞানমনষ্ক ও সমাজনিবিষ্ট জনসেবক ছিলেন। একটি শিক্ষিত- জ্ঞাননির্ভর ও উদারপন্থী জাতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর সারাজীবনের ত্যাগ-তিতিক্ষা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অনুসরণীয় হয়ে আছে।
উল্লেখ্য, বাদে ফজর খতমে কোরআন- মিলাদ মাহফিল- মুনাজাত- কবর জিয়ারত ও বিভিন্ন সংগঠন-প্রতিষ্ঠান এর পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ, হিফজ সমাপ্তকারীদের পাগড়ি প্রদান, আলোচনা সভা ও তাবারুক বিতরন প্রভৃতির মধ্য দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধায় দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মধুপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় এসআরবি-১৪-এর প্রেস ব্রিফিং

মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’র ৭৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত।।

আপডেট সময় : 12:55:03 pm, Friday, 25 October 2024
ইসমাইল ইমন
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধ।।
  
  

কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা পরিচালনা পর্ষদ ও কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা প্রাক্তন ছাত্র পর্ষদ -কেএমও ছাত্র পরিষদ- এর আয়োজনে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন ও জাতীয় জাগরণে আত্মোৎসর্গকারী মহাপুরুষ মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ৭৪ তম মৃত্যু বার্ষিকী ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভারতের খ্যাতিমান মনিষী মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী -১৮৭৫–১৯৫০- ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন অন্যতম বিপ্লবী নেতা ছিলেন। তিনি ইসলামি চিন্তাবিদ- জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ও সাংবাদিক ছিলেন। চেরাগি পাহাড় মোমিন রোড়ে-কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা প্রতিষ্ঠাতা। ধর্মচর্চা- শিক্ষা- সাহিত্য- রাজনীতি- সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার পরিমণ্ডলে তিনি অপরিসীম অবদান রেখে গেছেন। বাংলার মুসলমানদের মাঝে আত্মজাগরণের প্রেরণা ছড়িয়ে দেন এবং শিক্ষা–সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের অগ্রসর করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন মুসলিম জাতিসত্তা নির্মাণের অন্যতম দরদি রাহবার বা পথিকৃৎ।
২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে-এতিমখানা পরিচালনা পরিষদের সহ সভাপতি লায়ন সৈয়দ মোরশেদ হোসেন’র সভাপতিত্বে সম্পন্ন হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনীতিবিদ ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি’র প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান। সদ্যপ্রয়াত ভাষাবিজ্ঞানী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামানকে উৎসর্গ করে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষা প্রসার ও সমাজ উন্নয়নে অনন্য অবদানের জন্য পূর্ব বাংলার প্রথম মুসলিম চিকিৎসক ডা. এম.এ. হাসেমকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। কদম মোবারক প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের মঈনুল ইসলাম ও মো কায়ছার হামিদ’র সঞ্চালনায় সভায় অতিথি আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজ’র অধ্যক্ষ প্রফেসর মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী-শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. শামসুদ্দিন শিশির- ইসলামাবাদীর দৌহিত্র এএমএস ইসলামাবাদী গাজী- প্রিন্সিপাল ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ- অধ্যক্ষ আল্লামা বদিউল আলম রিজভী-আলাউদ্দিন আলী নূর-বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি খান-ইতিহাস গবেষক সোহেল মোঃ ফখরুদ্দীন- কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা’র তত্ত্বাবধায়ক আবুল কাশেম-মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ-মোতোয়াল্লি আজাদ উল্লাহ খান- কদম মোবারক এম.ওয়াই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জহুর- কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানার প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ ইলিয়াছ হোসেন-সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ-অর্থ সম্পাদক আবদুল আলিম-মোঃ নবাব মিয়া-মোঃ আরিফ- হাফেজ মিজানুর রহমান প্রমুখ।
প্রধান অতিথি প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান বলেন- উপমহাদেশে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী এক আলোকবর্তিকার নাম তিনি ধর্ম বর্ণ নির্বি শেষে মানুষের জন্য আত্ম উন্নয়ন এর জন্য কাজ করে গেছেন।সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য মাদ্রাসা- অনাথ শিশুদের জন্য এতিমখানা সহ বিভিন্ন সমাজ কল্যাণ মূলক কাজে তিনি অবদান রেখেছেন।তিনি একক কোন ব্যাক্তিতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি একটি বৈষম্যহীন সমাজের চিত্রকার ছিলেন।
প্রফেসর সিকান্দার বলেন- মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মানুষের আত্ম মুক্তির জন্য তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছেন। তার ভাবনা চিন্তায় ছিলো মানুষের জাগতিক পরিবর্তন ও আত্মিক উন্নয়ন।তার ইচ্ছে ছিলো আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন- মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী আজীবন মেহনতি মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল এতিমদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। যিনি আজীবন মানবতার কল্যাণে রাজনীতি ও সমাজসেবা করে গেছেন। একজন গুণী মনিষী হিসেবে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী অনেক প্রতিভাসম্পন্ন দূরদর্শী নেতা ছিলেন।
স্মরণসভায় প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান আরো বলে- মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর জীবনাদর্শ ও বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞ অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী আজীবন জনহিতকর- জাতীয় উন্নতিমূলক বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞে নিবেদিত ছিলেন। বিপ্লবী এই কীর্তিমান বাংলার মুসলিম সমাজের জাগরনে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন- প্রাদেশিক সংসদে তিনি বাংলায় বক্তৃতা ও বিতর্ক সম্পাদন করতেন। পরবর্তীকালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষায় উন্নীত করার ক্ষেত্রে এটি উদ্দীপকের ভূমিকা পালন করে। তিনি তৎকালীন পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে কুপ্রথামুক্ত ও সময়োপযোগী করে শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রগামী করে তুলতে অদম্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বদানের পাশাপাশি মাদ্রাসা এবং এতিমখানাসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনক ছিলেন তিনি। বাল্যবিবাহ ও নারী-নির্যাতন রোধ- সমাজের কু-সংস্কার নিরসন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে আজীবন উদগ্রীব ছিলেন এই মহান ব্যক্তিত্ব।
-সভাপতি লায়ন সৈয়দ মোরশেদ হোসেন বলেন- তিনি মাদ্রাসার ছাত্রদের সমাজনীতি- অর্থনীতি- ভূগোল- ইতিহাস এবং আধুনিক দর্শন ও বিজ্ঞানে যুগোত্তীর্ণ শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এতদ্ঞ্চলে জাতীয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা ও সংলগ্ন শিক্ষা কমপ্লেক্স তাঁর অন্যতম কীর্তি। মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী বৃটিশ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন- বঙ্গভঙ্গ রদ ও খিলাফত আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি স্বদেশী আন্দোলনের সময় ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য হন ও কৃষক প্রজা আন্দোলনের পরিচালক ছিলেন।
মোরশেদ হোসেন আরো বলেন- প্রখ্যাত আলেম হওয়া সত্বেও তিনি ধর্মান্ধ ছিলেন না বরং যুক্তিবাদী- বিজ্ঞানমনষ্ক ও সমাজনিবিষ্ট জনসেবক ছিলেন। একটি শিক্ষিত- জ্ঞাননির্ভর ও উদারপন্থী জাতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর সারাজীবনের ত্যাগ-তিতিক্ষা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অনুসরণীয় হয়ে আছে।
উল্লেখ্য, বাদে ফজর খতমে কোরআন- মিলাদ মাহফিল- মুনাজাত- কবর জিয়ারত ও বিভিন্ন সংগঠন-প্রতিষ্ঠান এর পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ, হিফজ সমাপ্তকারীদের পাগড়ি প্রদান, আলোচনা সভা ও তাবারুক বিতরন প্রভৃতির মধ্য দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধায় দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।