Dhaka , Thursday, 23 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
অব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে সড়ক নির্মাণ করায় রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতায় নগরপাড়া বাজারে কেনাবেচা বন্ধ \ দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ পাইকগাছায় স্পটে হাটবাজারের চান্দিনা ভিটি লাইসেন্স নবায়ন; রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত ১৮তম নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম কেন ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদানে বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল? স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান নিয়ে ইসলাম কী বলে চায়ের সঙ্গে বিস্কুটের মতো সাধারণ অভ্যাসেই লুকিয়ে আছে বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি! দেশের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আমি গর্বিত: টুইঙ্কেল খান্না গার্দিওলার ইতালির কোচ হওয়া নিয়ে যা জানা গেল যন্তর মন্তর অভিমুখে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আটকে দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রপতির ‘পদত্যাগ’ নিয়ে যা বললেন আসিফ মাহমুদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে ইনোভারের বিজনেস মিট ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে ছাত্রশিবিরের গণহত্যার বিচার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে মিছিল নোয়াখালীতে বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগে দুই বিরিয়ানি হাউজে জরিমানা মৎস্য সুরক্ষায় ঝালকাঠিতে যৌথ অভিযানে জব্দ ২২ হাজার মিটার অবৈধ জাল দেলপাড়া-চিতাশাল সড়কের সংস্কারকাজ পরিদর্শনে নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও ভক্তের ছদ্মবেশে বাসায় ঢুকে স্বর্ণালংকার লুট গ্রেপ্তার প্রতারক সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বিবৃতি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনে মাঠে ডিসি জাহিদুল ইসলাম রামগঞ্জ পৌরশহরে সড়ক সংস্কারের ধীরগতি জন দুর্ভোগ চরমে টাঙ্গাইলের মধুপুরে শিশুমেলা অনুষ্ঠিত পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে চরভদ্রাসনে ‘এক দেশ এক QR লেনদেন’ শীর্ষক BANGLA QR সভা অনুষ্ঠিত সাত বছর পরকীয়া, বিয়ের মাস পেরোতেই সেই স্ত্রীকে তালাক দিলেন রেলের ডিজির পিএস। মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে রামগঞ্জের এক রেমিটেন্স যোদ্ধার মৃত্যু মধুপুর পৌরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে নিরলস ভাবে কাজ করছেন মেয়র প্রার্থী খন্দকার মোতালিব সোনারগাঁয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে পাইপলাইন ও কালভার্ট নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন কুতুবপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান: তিন ফার্মেসিকে ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা ১৮ জনের সমস্যা শুনে ডিসি ‘র তাৎক্ষণিক নির্দেশনা; অসহায়দের আর্থিক সহায়তা, ২১ পরিবার পেল ত্রাণ ৫০ লাখ টাকা জলে, এক মাসেই ধসে গেল রাস্তা, অবরুদ্ধ ৫ গ্রামের মানুষ

সংস্কারে নতুন রূপে ফিরছে আচার্য পিসি রায়ের জন্মভিটা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:28:57 pm, Saturday, 24 January 2026
  • 61 বার পড়া হয়েছে

এম জালাল উদ্দীন, পাইকগাছা:

বাংলার জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা ও মানবকল্যাণের ইতিহাসে যে ক’টি নাম চিরভাস্বর হয়ে আছে, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় তাঁদের অন্যতম। উপমহাদেশের আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞানের পথিকৃৎ, শিল্পোদ্যোক্তা ও মানবতাবাদী এই মনীষীর স্মৃতিবাহী পৈতৃক ভিটা অবশেষে ফিরে পাচ্ছে তার হারানো গৌরব। খুলনা জেলার দক্ষিণে পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নে অবস্থিত আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পৈতৃক বসতভিটা বর্তমানে সংস্কারের মাধ্যমে নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।

১৮৬১ সালের ২ আগস্ট রাড়ুলী ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এই বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী। তাঁর পিতা হরিশ্চন্দ্র রায় ছিলেন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসচেতন একজন মানুষ। রাড়ুলীতে অবস্থিত হরিশ্চন্দ্র রায়ের এই পৈতৃক বাড়িতেই কেটেছে প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের শৈশব ও কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এখানেই গড়ে ওঠে তাঁর মনন, চিন্তা ও ভবিষ্যৎ জীবনপথের ভিত্তি। একারণে এই বাড়িটি শুধু একটি স্থাপনা নয়-এটি ইতিহাস, স্মৃতি ও আদর্শের এক জীবন্ত নিদর্শন।

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভারতীয় রসায়নবিদ অধ্যাপক। তাঁর হাত ধরেই গড়ে ওঠে উপমহাদেশে আধুনিক রসায়ন গবেষণার ভিত। ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর “বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস” ছিল এশিয়ার প্রথম ওষুধ শিল্প, যা আজও তাঁর শিল্পদর্শনের সাক্ষ্য বহন করে। বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি সমাজসেবা, শিক্ষা বিস্তার ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান ইতিহাসে অনন্য।

কিন্তু সময়ের নিষ্ঠুর স্রোতে শতবর্ষের বেশি পুরোনো এই ঐতিহাসিক বাড়িটি দীর্ঘদিন অবহেলা ও অযত্নে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। দেয়ালে ফাটল, খসে পড়া প্লাস্টার ও ভঙ্গুর কাঠামো যা বাড়িটিকে বিলুপ্তির মুখে ঠেলে দেয়। ইতিহাসপ্রেমী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয় গভীর উদ্বেগ।

অবশেষে সেই আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পৈতৃক ভিটাকে সংরক্ষণ ও সংস্কারের আওতায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২২ জানুয়ারি) সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে চলমান সংস্কারকাজের মাধ্যমে বাড়িটি ধীরে ধীরে তার ঐতিহ্যবাহী রূপ ফিরে পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংস্কার কার্যক্রমে স্যার পি.সি. রায়ের বসতবাড়ির ৫টি কক্ষ, ২টি বারান্দা, বাহিরের প্লাস্টার, চারপাশের রং ও নান্দনিক নকশা নতুনভাবে নির্মাণ ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। চলমান এই কাজ আগামী ৪ থেকে ৫ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এই সংস্কার কার্যক্রম শুধু একটি বাড়ি রক্ষার উদ্যোগ নয়; এটি একটি ইতিহাস, একটি আদর্শ ও একটি প্রজন্মকে সংরক্ষণের প্রয়াস। সংস্কার সম্পন্ন হলে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পৈতৃক ভিটা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে, যা দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকারিভাবে এই স্থাপনাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে এখানে গবেষণা কেন্দ্র, জাদুঘর ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হলে নতুন প্রজন্ম আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জীবন, কর্ম ও মানবিক দর্শন সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হবে।

এ বিষয়ে রাড়ুলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল হাসেম জানান, বাংলার এই গর্বিত সন্তানের স্মৃতি ও অবদান ধরে রাখতে তাঁর পৈতৃক ভিটা সংরক্ষণ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী, প্রশংসনীয় ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ-যা অতীতকে বাঁচিয়ে রেখে ভবিষ্যতের পথে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে সড়ক নির্মাণ করায় রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতায় নগরপাড়া বাজারে কেনাবেচা বন্ধ \ দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ

সংস্কারে নতুন রূপে ফিরছে আচার্য পিসি রায়ের জন্মভিটা

আপডেট সময় : 12:28:57 pm, Saturday, 24 January 2026

এম জালাল উদ্দীন, পাইকগাছা:

বাংলার জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা ও মানবকল্যাণের ইতিহাসে যে ক’টি নাম চিরভাস্বর হয়ে আছে, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় তাঁদের অন্যতম। উপমহাদেশের আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞানের পথিকৃৎ, শিল্পোদ্যোক্তা ও মানবতাবাদী এই মনীষীর স্মৃতিবাহী পৈতৃক ভিটা অবশেষে ফিরে পাচ্ছে তার হারানো গৌরব। খুলনা জেলার দক্ষিণে পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নে অবস্থিত আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পৈতৃক বসতভিটা বর্তমানে সংস্কারের মাধ্যমে নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।

১৮৬১ সালের ২ আগস্ট রাড়ুলী ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এই বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী। তাঁর পিতা হরিশ্চন্দ্র রায় ছিলেন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসচেতন একজন মানুষ। রাড়ুলীতে অবস্থিত হরিশ্চন্দ্র রায়ের এই পৈতৃক বাড়িতেই কেটেছে প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের শৈশব ও কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এখানেই গড়ে ওঠে তাঁর মনন, চিন্তা ও ভবিষ্যৎ জীবনপথের ভিত্তি। একারণে এই বাড়িটি শুধু একটি স্থাপনা নয়-এটি ইতিহাস, স্মৃতি ও আদর্শের এক জীবন্ত নিদর্শন।

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভারতীয় রসায়নবিদ অধ্যাপক। তাঁর হাত ধরেই গড়ে ওঠে উপমহাদেশে আধুনিক রসায়ন গবেষণার ভিত। ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর “বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস” ছিল এশিয়ার প্রথম ওষুধ শিল্প, যা আজও তাঁর শিল্পদর্শনের সাক্ষ্য বহন করে। বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি সমাজসেবা, শিক্ষা বিস্তার ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান ইতিহাসে অনন্য।

কিন্তু সময়ের নিষ্ঠুর স্রোতে শতবর্ষের বেশি পুরোনো এই ঐতিহাসিক বাড়িটি দীর্ঘদিন অবহেলা ও অযত্নে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। দেয়ালে ফাটল, খসে পড়া প্লাস্টার ও ভঙ্গুর কাঠামো যা বাড়িটিকে বিলুপ্তির মুখে ঠেলে দেয়। ইতিহাসপ্রেমী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয় গভীর উদ্বেগ।

অবশেষে সেই আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পৈতৃক ভিটাকে সংরক্ষণ ও সংস্কারের আওতায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২২ জানুয়ারি) সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে চলমান সংস্কারকাজের মাধ্যমে বাড়িটি ধীরে ধীরে তার ঐতিহ্যবাহী রূপ ফিরে পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংস্কার কার্যক্রমে স্যার পি.সি. রায়ের বসতবাড়ির ৫টি কক্ষ, ২টি বারান্দা, বাহিরের প্লাস্টার, চারপাশের রং ও নান্দনিক নকশা নতুনভাবে নির্মাণ ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। চলমান এই কাজ আগামী ৪ থেকে ৫ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এই সংস্কার কার্যক্রম শুধু একটি বাড়ি রক্ষার উদ্যোগ নয়; এটি একটি ইতিহাস, একটি আদর্শ ও একটি প্রজন্মকে সংরক্ষণের প্রয়াস। সংস্কার সম্পন্ন হলে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পৈতৃক ভিটা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে, যা দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকারিভাবে এই স্থাপনাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে এখানে গবেষণা কেন্দ্র, জাদুঘর ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হলে নতুন প্রজন্ম আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জীবন, কর্ম ও মানবিক দর্শন সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হবে।

এ বিষয়ে রাড়ুলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল হাসেম জানান, বাংলার এই গর্বিত সন্তানের স্মৃতি ও অবদান ধরে রাখতে তাঁর পৈতৃক ভিটা সংরক্ষণ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী, প্রশংসনীয় ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ-যা অতীতকে বাঁচিয়ে রেখে ভবিষ্যতের পথে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।