
দৈনিক আজকের বাংলা প্রতিবেদন,
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক হামলা-পালটা হামলা শুরু হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারের কাছাকাছি উঠে গেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ৯৭ দশমিক ০৪ ডলারে পৌঁছায়। পরে কিছুটা কমে ৯৪ দশমিক ৭৬ ডলারে দাঁড়ায়, যা আগের দিনের তুলনায় ১১ সেন্ট বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ছিল ৯০ দশমিক ২৬ ডলার।
বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও বাড়লে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তেলের বাজারে চাপ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, সংঘাত অব্যাহত থাকলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর এটি ওই নৌপথ দিয়ে এক দিনে তেল পরিবহনের সর্বোচ্চ পরিমাণ বলে জানান তিনি।
তবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার সমুদ্রের মাইনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অচল হয়ে পড়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে তেল পরিবহন আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে কাতার ও ওমানসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার যে উদ্যোগ চলছে, তাতেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতির ওপরই এখন অনেকটা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের পরবর্তী গতিপথ। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

























