
এম জালাল উদ্দীন, খুলনা,
খুলনার পাইকগাছা চৌকি কোর্টের বহু পুরাতন ও জরাজীর্ণ ভবনের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ায় চরম ঝুঁকির মধ্যে চলছে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম। দীর্ঘদিন সংস্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ভবনটির ছাদসহ বিভিন্ন অংশ এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কোর্টের সিএসআই অফিস কক্ষের পুরাতন ছাদের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। এ সময় বিকট শব্দ হলে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা ছুটে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ছাদের ভেঙে পড়া অংশ কক্ষের ভেতরে ছড়িয়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনাটি দিনের বেলা আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন কিংবা অফিস সময়ে ঘটলে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিরা গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হতে পারতেন। তবে গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
জানা গেছে, খুলনা জেলার দুর্গম এলাকা হিসেবে ১৯৮৩ সালে পাইকগাছায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও সিনিয়র সহকারী জজ চৌকি আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। ফলে বর্তমানে ভবনটি ভঙ্গুর ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালত ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদসহ ভবনের অন্যান্য অংশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য এবং আদালতে সেবা নিতে আসা বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
পাইকগাছা কোর্টের সিএসআই মো. তরিকুল ইসলাম ছাদ ধসের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি দিনের বেলায় ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এমনকি তার মাথার উপর পড়ার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।
























