Dhaka , Monday, 3 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ঢাকায় আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি; চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র চন্দনাইশে মাদকসহ আটক দুই তরুণকে রাজনৈতিক মামলায় চালান ​পীরগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযান: মাদক ও যানবাহনসহ গ্রেফতার ১, পলাতকদের খোঁজে তৎপরতা মধুপুরের ব্যস্ততম সাথী সিনেমা হল সড়ক এখন মরণফাঁদ, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রামু গর্জনিয়াতে শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ করলেন ইউএনও জিল্লুর রহমান রামুতে ইট প্রস্তুতকারক সমিতির নতুন কমিটি গঠন; সভাপতি রফিক, সম্পাদক জামাল লোহাগাড়ায় সাদিয়া-ইভার প্রাইভেটকারে গোপন চেম্বারে তল্লাশি চালিয়ে ১৬ হাজার ইয়াবা; আটক ৪ রূপগঞ্জের নারী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র সহিতুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে নতুন অধ্যক্ষের যোগদান পাইকগাছায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উদ্বোধন ও আলোচনা সভা জন্মভূমি পাইকগাছায় পিসি রায়ের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন মধুপুরে বিকাশের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মধুপুরে কুকুরের আক্রমনে আহত -৩, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসী পটিয়া থানা পুলিশের দুর্ধর্ষ অভিযান; ০৪টি চোরাই সিএনজি অটোরিকশাসহ আন্তঃজেলা চক্রের ০৩ সদস্য গ্রেফতার আমরা মালিক নই, দেশের ১৮ কোটি জনগণের সেবক:- ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল যৌতুক ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে নিজের পরিবার থেকেই পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে:- ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে এক দিনের জন্যও দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করেনি: সাবেক রাবি উপাচার্য কাউখালীতে কঁচা নদীতে নৌ পুলিশের অভিযানে ৭ হাজার মিটার অবৈধ বেহুন্দি জাল উদ্ধার, আগুনে ধ্বংস চরভদ্রাসনের নবাগত ইউএনওর সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। জনগণই দেশের আসল মালিক, দল-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল মধুপুরে বিজিএসের উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ছাত্র জনতার বিপ্লবের প্রতিফলন এদেশের মানুষ এখনো পায়নি: রামগঞ্জে জুলাই যোদ্ধা সানজিদা চৌধুরী এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখা যাবে না: ডিসি জাহিদ ইসলাম নোয়াখালীতে সমাবেশের নামে উসকানি ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন; সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তার দাবি নৈতিক ও মানবিক জাতি গঠনের মূল ভিত্তি হলো সুশিক্ষা: এমপি জহিরুল দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে উদীয়মান খেলোয়াড়দের বাছাই করে ক্রীড়া অঙ্গনের সমৃদ্ধি ঘটাতে চাই:- প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল। ভয়াবহ দাবানলে সস্ত্রীক ফ্রান্স ছাড়লেন জর্জ ক্লুনি বিশ্বকাপ ট্রফি বিক্রি করে বিতর্কের মুখে ফ্রান্সের ফুটবলার যমজ কনে, যমজ বর, যমজ পুরোহিত, যমজ সহকারী – সম্পন্ন হলো ‘ঐতিহাসিক’ এক বিয়ে

রূপ পাল্টেও হয়নি শেষ রক্ষা, অবশেষে গ্রেফতার মুহসিন কলেজের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডার সাদিক আব্দুল্লাহ।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:22:37 pm, Saturday, 11 April 2026
  • 57 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের ক্যাডার সাদিক আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর অক্সিজেন এলাকার তার নিজ বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি একটি সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ অবশেষে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আগে থেকেই সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান পরিবর্তন করে চলাফেরা করছিলেন। তবে সর্বশেষ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হলে তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাদিক আব্দুল্লাহ একসময় সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজ ছাত্রলীগের দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ক্যাম্পাস রাজনীতিতে তার নাম ছিল বেশ আলোচিত এবং একইসঙ্গে বিতর্কিত। কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফজলে করিম জুনুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন তিনি। স্থানীয় সূত্র বলছে, কলেজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জুনুর নির্দেশ বাস্তবায়নে সাদিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেই সময় মুহসিন কলেজ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একটি অঘোষিত বলয় তৈরি হয়েছিল। ছাত্রাবাসে সিট দখল, নতুন শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সাদিক আব্দুল্লাহর নাম জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, সে সময় ক্যাম্পাসে নিরপেক্ষভাবে মত প্রকাশ করা বা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এছাড়া কলেজসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অনেক সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হতো এবং এতে কিছু ক্যাডারের নাম সামনে আসত। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করলে সাদিক আব্দুল্লাহ নিজের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তখন তিনি নিজেকে আড়াল করতে ভিন্ন পরিচয়ে চলাফেরা শুরু করেন এবং ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নতুনভাবে অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।

তবে নাম পরিবর্তন বা ভিন্ন পরিচয় গ্রহণ করলেও তার অতীতের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি চাপা থাকেনি। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, তিনি গোপনে তার আগের রাজনৈতিক অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন এবং পুরনো প্রভাববলয় টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে তার চলাফেরা নিয়ে অনেকের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলায় ওয়ারেন্ট জারি ছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হয়। তবে তিনি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করায় তাকে দীর্ঘদিন আটক করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তাকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

পাশাপাশি তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে সাদিক আব্দুল্লাহর গ্রেফতারের খবর মুহূর্তের মধ্যে মুহসিন কলেজ এলাকা এবং আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একজন ব্যক্তির গ্রেফতারের মাধ্যমে অন্তত একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

মুহসিন কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, অতীতে ক্যাম্পাসে নানা সময় সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাই এমন একজন ব্যক্তির গ্রেফতার অনেকের কাছে স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সাদিক আব্দুল্লাহ নামটি এলাকায় বিভিন্ন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ থাকলেও অনেক সময় তা প্রকাশ্যে আসত না। তবে এবার তাকে গ্রেফতার করায় এলাকাবাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এলাকাবাসীর মতে, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। এতে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একইভাবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

অনেকেই আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা। তাই ক্যাম্পাসকে সহিংসতামুক্ত রাখা সবার দায়িত্ব।
স্থানীয়রা আরও দাবি করেছেন, অতীতে যারা ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।এতে করে ভবিষ্যতে কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়াতে সাহস পাবে না।

অপরদিকে শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। তারা চান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সহিংসতার পরিবর্তে সুস্থ ও গঠনমূলক রাজনীতি চর্চা হোক।

সবশেষে স্থানীয়দের অভিমত, সাদিক আব্দুল্লাহর গ্রেফতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও এর মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতির সমাধান হয়ে যায়নি। বরং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতীতের ঘটনাগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এতে করে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল তারা আইনের মুখোমুখি হবে।

এখন দেখার বিষয়, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর কী ধরনের অগ্রগতি হয় এবং তদন্তে আর কী কী তথ্য সামনে আসে। তবে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে সমাজে একটি শক্ত বার্তা প্রতিষ্ঠিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি; চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র

রূপ পাল্টেও হয়নি শেষ রক্ষা, অবশেষে গ্রেফতার মুহসিন কলেজের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডার সাদিক আব্দুল্লাহ।

আপডেট সময় : 02:22:37 pm, Saturday, 11 April 2026

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের ক্যাডার সাদিক আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর অক্সিজেন এলাকার তার নিজ বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি একটি সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ অবশেষে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আগে থেকেই সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান পরিবর্তন করে চলাফেরা করছিলেন। তবে সর্বশেষ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হলে তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাদিক আব্দুল্লাহ একসময় সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজ ছাত্রলীগের দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ক্যাম্পাস রাজনীতিতে তার নাম ছিল বেশ আলোচিত এবং একইসঙ্গে বিতর্কিত। কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফজলে করিম জুনুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন তিনি। স্থানীয় সূত্র বলছে, কলেজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জুনুর নির্দেশ বাস্তবায়নে সাদিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেই সময় মুহসিন কলেজ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একটি অঘোষিত বলয় তৈরি হয়েছিল। ছাত্রাবাসে সিট দখল, নতুন শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সাদিক আব্দুল্লাহর নাম জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, সে সময় ক্যাম্পাসে নিরপেক্ষভাবে মত প্রকাশ করা বা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এছাড়া কলেজসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অনেক সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হতো এবং এতে কিছু ক্যাডারের নাম সামনে আসত। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করলে সাদিক আব্দুল্লাহ নিজের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তখন তিনি নিজেকে আড়াল করতে ভিন্ন পরিচয়ে চলাফেরা শুরু করেন এবং ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নতুনভাবে অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।

তবে নাম পরিবর্তন বা ভিন্ন পরিচয় গ্রহণ করলেও তার অতীতের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি চাপা থাকেনি। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, তিনি গোপনে তার আগের রাজনৈতিক অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন এবং পুরনো প্রভাববলয় টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে তার চলাফেরা নিয়ে অনেকের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলায় ওয়ারেন্ট জারি ছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হয়। তবে তিনি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করায় তাকে দীর্ঘদিন আটক করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর তাকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

পাশাপাশি তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে সাদিক আব্দুল্লাহর গ্রেফতারের খবর মুহূর্তের মধ্যে মুহসিন কলেজ এলাকা এবং আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একজন ব্যক্তির গ্রেফতারের মাধ্যমে অন্তত একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

মুহসিন কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, অতীতে ক্যাম্পাসে নানা সময় সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাই এমন একজন ব্যক্তির গ্রেফতার অনেকের কাছে স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সাদিক আব্দুল্লাহ নামটি এলাকায় বিভিন্ন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ থাকলেও অনেক সময় তা প্রকাশ্যে আসত না। তবে এবার তাকে গ্রেফতার করায় এলাকাবাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এলাকাবাসীর মতে, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। এতে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একইভাবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

অনেকেই আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা। তাই ক্যাম্পাসকে সহিংসতামুক্ত রাখা সবার দায়িত্ব।
স্থানীয়রা আরও দাবি করেছেন, অতীতে যারা ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।এতে করে ভবিষ্যতে কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়াতে সাহস পাবে না।

অপরদিকে শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। তারা চান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সহিংসতার পরিবর্তে সুস্থ ও গঠনমূলক রাজনীতি চর্চা হোক।

সবশেষে স্থানীয়দের অভিমত, সাদিক আব্দুল্লাহর গ্রেফতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও এর মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতির সমাধান হয়ে যায়নি। বরং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতীতের ঘটনাগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এতে করে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল তারা আইনের মুখোমুখি হবে।

এখন দেখার বিষয়, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর কী ধরনের অগ্রগতি হয় এবং তদন্তে আর কী কী তথ্য সামনে আসে। তবে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে সমাজে একটি শক্ত বার্তা প্রতিষ্ঠিত হবে।