Dhaka , Thursday, 16 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
দক্ষিণ মিঠাছড়িতে বন্যার্তদের মাঝে শিশু সুরক্ষা কমিটির ত্রাণসামগ্রী বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮০০ নালা পরিস্কার করা হবে:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বন্দর–ডবলমুরিং এলাকায় চাল বিতরণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আশ্বাস চরভদ্রাসনে জেলের হাতে ধরা পড়ল মেছো বাঘের বাচ্চা: উৎসুক জনতার ভিড়: পরে বন বিভাগে হস্তান্তর। রায়পুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক বাঁশখালীতে বন্যার্তদের মাঝে চবি ছাত্রদল নেতা হাসানের উপহারসামগ্রী বিতরণ জলাবদ্ধতায় ঘরেই নবজাতকসহ প্রসূতির মৃত্যু বেগমগ‌ঞ্জে ভোক্তা অ‌ধিকা‌রের অ‌ভিযান ; তিন প্রতিষ্ঠান‌কে ২৭ হাজার টাকা জ‌রিমানা নগরীর একসেস রোডে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ০৮ (আট) আসামী গ্রেফতার কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো গাড়িতে ইয়াবা পাচার, আটক ৩ রূপগঞ্জে ৫০০ রোগীর মাঝে বিনামূল্যে চক্ষু ও ডায়াবেটিস সেবা রূপগঞ্জে যুবলীগ নেতার দখলে থাকা কৃষকের জমি উদ্ধার করে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ছাত্রদল নেতা বন্যার্ত মানুষের পাশে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীতে চউকের চাল বিতরন ‘ডায়নামাইটে হাত বাড়ালে ব্লাস্ট হবেই’ আর্জেন্টিনার ‘স্পেশাল’ অনুরোধ রাখল ফিফা আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল তেলের দাম টানা দুই দফায় ভরিতে কত কমল স্বর্ণের দাম ফারাক্কার চেয়ে বড় মরণফাঁদ হচ্ছে নেতৃত্ব সংস্কারের গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থতা: নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর পোস্ট প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে বিনির্মাণ করব: মাহ্দী আমিন চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বন্যাকবলিত এলাকায় এ্যাব চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের ত্রাণ বিতরণ বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার:- দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এক টাকায় শিক্ষা’র এক দশক পূর্তি উদযাপন নোয়াখালীর উন্নয়ন-সমৃদ্ধির রূপরেখা নির্ধারণে গোলটেবিল বৈঠক মৃত্যুর পর জানতে পারে মিজান বৃত্তি পেয়েছে বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় গাজীপুর নগরী, মিলেনি জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান বাঁশখালীর বন্যাকবলিত অঞ্চলে এ্যাব চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের ত্রাণ বিতরণ চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত ১৫০০ পরিবারের পাশে রিজভী আহম্মেদ ও প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল; দ্রুত সুষম ত্রাণ ও পুনর্বাসনের নির্দেশ চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করল চবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম রামগঞ্জের পশ্চিম শোশালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভাবনীয় সাফল্য PUNAB National Award 2026: ‘Bangla Innovator’ পেল স্পেশাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড

রূপগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশা রিমান্ডে সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্র ও ত্রাসের রাজত্বের চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:10:01 pm, Monday, 9 February 2026
  • 61 বার পড়া হয়েছে

রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আতঙ্কের জনপদ হিসেবে পরিচিত নাওড়াপাড়ার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ হোসেন ওরফে মোশাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র, নাশকতার পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রূপগঞ্জের নাওড়া মধ্যপাড়া এলাকায় আল-মামুনের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের ৩ নম্বর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত শুনানি শেষে মোশার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাকে রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল।

ডিবির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ৫ নভেম্বর গভীর রাতে নাশকতার চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার হওয়া মোশার মোবাইল ফোনে সরকার উৎখাতের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে এবং তাদের অর্থায়নে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের নাশকতার ছক কষেছিলেন তিনি। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় মোশা অন্তত ৫৬ জন পেশাদার অপরাধীর নাম প্রকাশ করেছেন, যারা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণে পারদর্শী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে রূপগঞ্জে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন মোশা। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অস্ত্র মামলা, চাঁদাবাজি ও পুলিশের ওপর হামলাসহ অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষকে তুলে এনে তার নিজস্ব ‘টর্চার সেলে’ নির্যাতন করা ছিল নিয়মিত ঘটনা। চাঁদা না পেলে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর চলত পাশবিক হামলা। ৫ ফেব্রুয়ারির হামলায় মোশা বাহিনী আল-মামুনের বাড়ি থেকে ৪৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪ লাখ টাকা লুট করে। এসময় হকিস্টিকের আঘাতে প্রতিবেশী সাইফুলের তিনটি দাঁত ভেঙে যায় এবং নারীদের শ্লীলতাহানি করা হয়। মোশা সবসময় ৭০-৮০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে চলতেন। তার বডিগার্ডরা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুরো এলাকায় মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করত।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে মোশা বাহিনী সরাসরি যুক্ত ছিল। তারা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অস্ত্র সরবরাহ করেছে এবং রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ রাজধানীর বাড্ডা ও ভাটারা এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি ভোল পাল্টে বিএনপিতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।মোশাকে রূপগঞ্জ থানায় আনার খবরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে শত শত মানুষ থানার সামনে জড়ো হয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক ও ফাঁসির দাবি জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে রূপগঞ্জ থানার নিরাপত্তা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল আলম বলেন, মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মোশার অস্ত্রের ভাণ্ডার ও ককটেলের উৎস শনাক্ত করতে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার পেছনে থাকা মদদদাতাদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ মিঠাছড়িতে বন্যার্তদের মাঝে শিশু সুরক্ষা কমিটির ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

রূপগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশা রিমান্ডে সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্র ও ত্রাসের রাজত্বের চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : 02:10:01 pm, Monday, 9 February 2026

রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আতঙ্কের জনপদ হিসেবে পরিচিত নাওড়াপাড়ার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ হোসেন ওরফে মোশাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র, নাশকতার পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রূপগঞ্জের নাওড়া মধ্যপাড়া এলাকায় আল-মামুনের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের ৩ নম্বর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত শুনানি শেষে মোশার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাকে রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল।

ডিবির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ৫ নভেম্বর গভীর রাতে নাশকতার চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার হওয়া মোশার মোবাইল ফোনে সরকার উৎখাতের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে এবং তাদের অর্থায়নে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের নাশকতার ছক কষেছিলেন তিনি। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় মোশা অন্তত ৫৬ জন পেশাদার অপরাধীর নাম প্রকাশ করেছেন, যারা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণে পারদর্শী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে রূপগঞ্জে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন মোশা। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অস্ত্র মামলা, চাঁদাবাজি ও পুলিশের ওপর হামলাসহ অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষকে তুলে এনে তার নিজস্ব ‘টর্চার সেলে’ নির্যাতন করা ছিল নিয়মিত ঘটনা। চাঁদা না পেলে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর চলত পাশবিক হামলা। ৫ ফেব্রুয়ারির হামলায় মোশা বাহিনী আল-মামুনের বাড়ি থেকে ৪৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪ লাখ টাকা লুট করে। এসময় হকিস্টিকের আঘাতে প্রতিবেশী সাইফুলের তিনটি দাঁত ভেঙে যায় এবং নারীদের শ্লীলতাহানি করা হয়। মোশা সবসময় ৭০-৮০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে চলতেন। তার বডিগার্ডরা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুরো এলাকায় মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করত।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে মোশা বাহিনী সরাসরি যুক্ত ছিল। তারা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অস্ত্র সরবরাহ করেছে এবং রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ রাজধানীর বাড্ডা ও ভাটারা এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি ভোল পাল্টে বিএনপিতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।মোশাকে রূপগঞ্জ থানায় আনার খবরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে শত শত মানুষ থানার সামনে জড়ো হয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক ও ফাঁসির দাবি জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে রূপগঞ্জ থানার নিরাপত্তা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল আলম বলেন, মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মোশার অস্ত্রের ভাণ্ডার ও ককটেলের উৎস শনাক্ত করতে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার পেছনে থাকা মদদদাতাদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।