Dhaka , Friday, 24 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
চট্টগ্রামে অত্যাধুনিক হাসপাতাল এবং পার্ক গড়তে চান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দুর্গম পাহাড়ে চিকিৎসা সেবায় যেনো কোনো ত্রুটি না হয়:- নির্দেশ পার্বত্য মন্ত্রীর সরকারের এক ইঞ্চি জমির রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না:- ভূমি প্রতিমন্ত্রী জরাজীর্ণ টিনের ঘরে পাঠদান, বিনা বেতনে পড়াচ্ছেন শিক্ষকরা মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬’এর উদ্বোধন রাজাপুরে খাল পুনঃখননে অনিয়ম: পরিদর্শনে গিয়ে অসঙ্গতি পেলেন ইউএনও বেগমগঞ্জে অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ অভিযানে ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা – বগুড়ায় কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা, দিনের আলোতেই নৃশংসতা শিকার রকি ০৩ জন পেশাদার মাদক কারবারির পরিহিত স্যান্ডেল হতে ৩২৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম শহরকে ভালোবাসতে না পারলে উন্নয়ন টেকসই হবে না”:- চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পাইকগাছায় লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ রোধে ক্যাম্পেইন ও র‌্যালি পূর্বাচলে মাদক ব্যবসায়ী ও প্লট খেকোদের বিরুদ্ধে সোচ্চার বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মানববন্ধন, বিক্ষোভ পাইকগাছায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন জঙ্গল সলিমপুরের ত্রাস ‘নলা কাসেম’ বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার মধুপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন রূপগঞ্জে ইলেকট্রিশিয়ান অপহরণ মামলায় গ্রেফতার ৫ জরাজীর্ণ টিনের ঘরেই চলছে পাঠদান কার্যক্রম, বিনা বেতনে পড়াচ্ছেন শিক্ষকরা রূপগঞ্জে ভায়েলা-মিয়াবাড়ি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ৩২ বছরেও সরকারীকরণ হয়নি দারোয়ানের কক্ষে বিদেশি মদের আস্তানা, আটক ১ রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৬ ঘণ্টার অভিযানে অপহৃত রুস্তম আলী উদ্ধার কালীগঞ্জে জ্বালানি কার্ড যাচাইয়ে ইউএনও’র কড়াকড়ি: বিভ্রান্তি কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পাইকগাছায় জেলা প্রশাসকের দিনব্যাপী কর্মসূচি: মতবিনিময়, পরিদর্শন ও রোভার মুট উদ্বোধন বাংলাদেশি শ্রমিকের ঘামে টিকছে পর্তুগালের কৃষি ; খরা-শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় প্রযুক্তি নির্ভরতা বৃদ্ধি শ্রীমঙ্গলে রক্তদান সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণা ডেমরায় পাম্প থেকে তেল সরিয়ে ড্রামে করে যাচ্ছে কালোবাজারে লালদিঘীতে বলি খেলার প্রতিকৃতি সম্বলিত ম্যুরাল উদ্বোধন করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন “চন্দনাইশে ব্রাকের ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিকে বিনামূল্যে গবাদিপশু চিকিৎসা সেবা প্রদান” রূপগঞ্জে ১১৪ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার রূপগঞ্জে পুলিশের পরিচয়ে সৌদি প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতি \ ১৭ লক্ষাধিক টাকা মাল লুট ডিকেএমসি হসপিটাল চিকিৎসা বিষয়ক সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

রামগঞ্জ বাসীর মরণফাঁদ বীরেন্দ্র খাল খনন না হলে এবারও ডুবতে হবে রামগঞ্জবাসীকে 

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 03:22:21 pm, Tuesday, 6 May 2025
  • 115 বার পড়া হয়েছে

রামগঞ্জ বাসীর মরণফাঁদ বীরেন্দ্র খাল খনন না হলে এবারও ডুবতে হবে রামগঞ্জবাসীকে 

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি
লক্ষীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার বীরেন্দ্র খালটি দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ লোককে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বীরেন্দ্র খাল খনন এখন মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।খালটির  কারণে এ উপজেলার অধিকাংশ এলাকা প্রায় সারা বছর পানিতে নিমজ্জিত থাকে। ফলে এই এলাকায় এক ফসলের বেশি দুই  ফসল করা সম্ভব হয় না। 
রামগঞ্জ বিরেন্দ্র খাল  খনন এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।  এবারও যদি এ খালটি খনন করা না হয় তাহলে আবারও রামগঞ্জের  সাড়ে পাঁচ লক্ষ লোককে পানিতে ডুবতে হবে।  দীর্ঘদিন যাবত  বীরেন্দ্র খাল খনন না হওয়ায় জলবদ্ধতার কারণে  গত বছর ২০২৪ সালে  এই উপজেলার কয়েক লক্ষ লোককে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে। হাজার হাজার পরিবারকে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
রামগঞ্জ উপজেলার বুক চিরে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ বীরেন্দ্র খালটির দুই পাড় অবৈধ দখল ও দীর্ঘদিনের দূষণে আজ মৃতপ্রায়। এক সময়ের প্রাণবন্ত এই খালটি রূপ নিয়েছে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে। খালের বেশির ভাগ অংশে বেহালজাল, গড়া জালসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারনে পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ। 
বর্ষা এলেই রামগঞ্জে দেখা দেয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা।
স্থানীয় সূত্রে ও এলাকাবাসীর তথ্যমতে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় এই খালের পানিপ্রবাহ থেমে গিয়ে রামগঞ্জ উপজেলায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা। চরম বিপর্যস্ত করে তোলে এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কৃষিকাজ ও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা।
উপজেলার কাঞ্চনপুর, নোয়াগাঁও, ভাদুর,ভাটরা,দল্টা, করপাড়া, গাজীপুর, লামচর, চন্ডিপুর, ইছাপুর, লামচর, ভোলাকোট, টিউরী, আথাকরা, উদয়পুর, হাফানিয়া গ্রামসহ পুরো উপজেলাবাসী পড়েন চরম বিপাকে।  
আবুল কালাম খোকা, দেলোয়ার হোসেনসহ বয়স্করা মনে করছেন, বীরেন্দ্র খালসহ সংযোগ খালগুলো নিয়মিত খনন না করা হলে এমন দুর্যোগ অব্যাহত থাকবে- বরং তার মাত্রা হবে আরও ভয়াবহ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রামগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ খাল খননের কোনো উদ্যোগ নেই। উল্টো খালের বিভিন্ন অংশে অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট, এমনকি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, কোথাও কোথাও সংযোগ খালে মাটি ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বাসা-বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যা স্বাভাবিক পানি চলাচলের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতার কারনে একদিকে প্রবাহমান খালটিতে পানি জমে থাকে অন্যদিকে কোথাও কোথাও শুকিয়ে চৌচির হয়ে যায়। ফলে ব্যহত হয় চাষাবাদ।
২০২৪ এর বন্যায় পানি আটকে পানিবন্ধী মানুষকে দ্রুততম সময় উদ্ধারে গত বছর রামগঞ্জ ব্লাড ডোনার’স ক্লাবের উদ্যোগে রামগঞ্জ ব্লাড ডোনার’স ক্লাবসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা প্রায় ৪০ দিন পরিশ্রম করে খালের গুরুত্বপূর্ণ ২ কিলোমিটার (রামগঞ্জ-সোনাপুর বাজার) এলাকা পরিষ্কার করলে পানি দ্রুত নেমে যায়। 
খাল পরিস্কারের উদ্যেক্তা ফারুক হোসেন বলেন, “আমরা দীর্ঘ ৪০-৪৫ বছরের জমে থাকা ময়লার স্তুপ পরিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু প্রয়োজনীয় খনন ও সংস্কার না হলে এই খাল আবারও ভরে যাবে ময়লা আবর্জনায়। খনন প্রক্রিয়া দ্রুত গতিশীল না করলে ২০২৪ সালের মতো ভয়াবহ বন্যা আবারও দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে উপজেলার প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষের জীবনে-কৃষি- স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে।”
আনোয়ার হোসেন বাবুল বলেন, “খালের অনেক অংশে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখা হয়েছে। ফলে ফসলের জমিতে প্রয়োজনীয় পানি পৌঁছায় না। আবার কোথাও পানির অতিরিক্ত চাপে ঘরবাড়ি ভেসে যায়। একটু পরিকল্পিত ব্যবস্থা নিলেই স্থায়ী দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে এ উপজেলাবাসী।
রাইসুল ইসলাম জানান, বর্ষা এলে এক শ্রেণির জেলে মাছ ধরতে খালে বেড়া দেয়। খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ পানি প্রবাহে তীব্র প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। কোথাও কোথাও এমনভাবে বাঁধ দেয়া হয় যার কারনে খাল সংলগ্ন জমি থেকে পানিও নামতে পারে না। এতে তৈরি হয় জলাবদ্ধতার। ডুবে যায় গ্রামীণ জনপদ। 
রামগঞ্জ মডেল কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, বীরেন্দ্র খালের সংকট সমাধানে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বৃষ্টির পানিতে পুরো রামগঞ্জ উপজেলা পরিণত হতে পারে একটি দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চলে। চাষাবাদ কমে যাবে, বাড়বে রোগবালাই- ক্ষতিগ্রস্থ হবে শিক্ষা ব্যবস্থা। ২০২৪ এর বন্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরো বলেন মূলত নোয়াখালি, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও রামগঞ্জ উজানের পানিতে মানুষ পানিবন্ধী হয়নি। রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ খাল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল, সংযোগ খালগুলোর বেশিরভাগ বিভিন্নভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় প্রবল বৃষ্টির কারনে এ এলাকা দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ বীরেন্দ্র খালসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি খাল দখলমুক্ত করে নিয়মিত খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই রামগঞ্জবাসী প্রতিবছরের এই বন্যা বা জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ রবিন শীষ বলেন, বীরেন্দ্র খাল খনন সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে। ২০২৪ এর বন্যা বা জলাবদ্ধতায় উপজেলা প্রশাসন শতাধীক বাঁধ কেটেছে। বেহাল জালসহ খালে প্রতিবন্ধকতা অপসারনে বিহীত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা, রামগঞ্জ সোনাপুর ও মৌলভী বাজারের ব্যবসায়ীদের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দুই কিলোমিটার খালের ময়লার ভাগাড় পরিস্কার করা হয়েছে। খাল খননে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি আগামী ডিসেম্বরে চাটখিল-রামগঞ্জ এবং কাটাখালি অংশের প্রায় ১৩ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে অত্যাধুনিক হাসপাতাল এবং পার্ক গড়তে চান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

রামগঞ্জ বাসীর মরণফাঁদ বীরেন্দ্র খাল খনন না হলে এবারও ডুবতে হবে রামগঞ্জবাসীকে 

আপডেট সময় : 03:22:21 pm, Tuesday, 6 May 2025
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি
লক্ষীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার বীরেন্দ্র খালটি দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ লোককে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বীরেন্দ্র খাল খনন এখন মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।খালটির  কারণে এ উপজেলার অধিকাংশ এলাকা প্রায় সারা বছর পানিতে নিমজ্জিত থাকে। ফলে এই এলাকায় এক ফসলের বেশি দুই  ফসল করা সম্ভব হয় না। 
রামগঞ্জ বিরেন্দ্র খাল  খনন এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।  এবারও যদি এ খালটি খনন করা না হয় তাহলে আবারও রামগঞ্জের  সাড়ে পাঁচ লক্ষ লোককে পানিতে ডুবতে হবে।  দীর্ঘদিন যাবত  বীরেন্দ্র খাল খনন না হওয়ায় জলবদ্ধতার কারণে  গত বছর ২০২৪ সালে  এই উপজেলার কয়েক লক্ষ লোককে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে। হাজার হাজার পরিবারকে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
রামগঞ্জ উপজেলার বুক চিরে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ বীরেন্দ্র খালটির দুই পাড় অবৈধ দখল ও দীর্ঘদিনের দূষণে আজ মৃতপ্রায়। এক সময়ের প্রাণবন্ত এই খালটি রূপ নিয়েছে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে। খালের বেশির ভাগ অংশে বেহালজাল, গড়া জালসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারনে পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ। 
বর্ষা এলেই রামগঞ্জে দেখা দেয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা।
স্থানীয় সূত্রে ও এলাকাবাসীর তথ্যমতে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় এই খালের পানিপ্রবাহ থেমে গিয়ে রামগঞ্জ উপজেলায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা। চরম বিপর্যস্ত করে তোলে এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কৃষিকাজ ও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা।
উপজেলার কাঞ্চনপুর, নোয়াগাঁও, ভাদুর,ভাটরা,দল্টা, করপাড়া, গাজীপুর, লামচর, চন্ডিপুর, ইছাপুর, লামচর, ভোলাকোট, টিউরী, আথাকরা, উদয়পুর, হাফানিয়া গ্রামসহ পুরো উপজেলাবাসী পড়েন চরম বিপাকে।  
আবুল কালাম খোকা, দেলোয়ার হোসেনসহ বয়স্করা মনে করছেন, বীরেন্দ্র খালসহ সংযোগ খালগুলো নিয়মিত খনন না করা হলে এমন দুর্যোগ অব্যাহত থাকবে- বরং তার মাত্রা হবে আরও ভয়াবহ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রামগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ খাল খননের কোনো উদ্যোগ নেই। উল্টো খালের বিভিন্ন অংশে অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট, এমনকি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, কোথাও কোথাও সংযোগ খালে মাটি ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বাসা-বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যা স্বাভাবিক পানি চলাচলের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতার কারনে একদিকে প্রবাহমান খালটিতে পানি জমে থাকে অন্যদিকে কোথাও কোথাও শুকিয়ে চৌচির হয়ে যায়। ফলে ব্যহত হয় চাষাবাদ।
২০২৪ এর বন্যায় পানি আটকে পানিবন্ধী মানুষকে দ্রুততম সময় উদ্ধারে গত বছর রামগঞ্জ ব্লাড ডোনার’স ক্লাবের উদ্যোগে রামগঞ্জ ব্লাড ডোনার’স ক্লাবসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা প্রায় ৪০ দিন পরিশ্রম করে খালের গুরুত্বপূর্ণ ২ কিলোমিটার (রামগঞ্জ-সোনাপুর বাজার) এলাকা পরিষ্কার করলে পানি দ্রুত নেমে যায়। 
খাল পরিস্কারের উদ্যেক্তা ফারুক হোসেন বলেন, “আমরা দীর্ঘ ৪০-৪৫ বছরের জমে থাকা ময়লার স্তুপ পরিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু প্রয়োজনীয় খনন ও সংস্কার না হলে এই খাল আবারও ভরে যাবে ময়লা আবর্জনায়। খনন প্রক্রিয়া দ্রুত গতিশীল না করলে ২০২৪ সালের মতো ভয়াবহ বন্যা আবারও দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে উপজেলার প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষের জীবনে-কৃষি- স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে।”
আনোয়ার হোসেন বাবুল বলেন, “খালের অনেক অংশে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখা হয়েছে। ফলে ফসলের জমিতে প্রয়োজনীয় পানি পৌঁছায় না। আবার কোথাও পানির অতিরিক্ত চাপে ঘরবাড়ি ভেসে যায়। একটু পরিকল্পিত ব্যবস্থা নিলেই স্থায়ী দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে এ উপজেলাবাসী।
রাইসুল ইসলাম জানান, বর্ষা এলে এক শ্রেণির জেলে মাছ ধরতে খালে বেড়া দেয়। খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ পানি প্রবাহে তীব্র প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। কোথাও কোথাও এমনভাবে বাঁধ দেয়া হয় যার কারনে খাল সংলগ্ন জমি থেকে পানিও নামতে পারে না। এতে তৈরি হয় জলাবদ্ধতার। ডুবে যায় গ্রামীণ জনপদ। 
রামগঞ্জ মডেল কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, বীরেন্দ্র খালের সংকট সমাধানে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বৃষ্টির পানিতে পুরো রামগঞ্জ উপজেলা পরিণত হতে পারে একটি দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চলে। চাষাবাদ কমে যাবে, বাড়বে রোগবালাই- ক্ষতিগ্রস্থ হবে শিক্ষা ব্যবস্থা। ২০২৪ এর বন্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরো বলেন মূলত নোয়াখালি, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও রামগঞ্জ উজানের পানিতে মানুষ পানিবন্ধী হয়নি। রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ খাল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল, সংযোগ খালগুলোর বেশিরভাগ বিভিন্নভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় প্রবল বৃষ্টির কারনে এ এলাকা দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ বীরেন্দ্র খালসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি খাল দখলমুক্ত করে নিয়মিত খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই রামগঞ্জবাসী প্রতিবছরের এই বন্যা বা জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ রবিন শীষ বলেন, বীরেন্দ্র খাল খনন সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে। ২০২৪ এর বন্যা বা জলাবদ্ধতায় উপজেলা প্রশাসন শতাধীক বাঁধ কেটেছে। বেহাল জালসহ খালে প্রতিবন্ধকতা অপসারনে বিহীত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা, রামগঞ্জ সোনাপুর ও মৌলভী বাজারের ব্যবসায়ীদের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দুই কিলোমিটার খালের ময়লার ভাগাড় পরিস্কার করা হয়েছে। খাল খননে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি আগামী ডিসেম্বরে চাটখিল-রামগঞ্জ এবং কাটাখালি অংশের প্রায় ১৩ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।