
ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,
নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) মাসব্যাপী নালা-নর্দমা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলমান ক্রাশ প্রোগ্রাম সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদারকি করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সকালে তিনি ১৪নং লালখান বাজার ওয়ার্ডের ইস্পাহানী এলাকা থেকে এমইএস কলেজ পর্যন্ত নালা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এরপর গরীবউল্লাহ্ হাউজিং সোসাইটি এলাকায় চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পরে ৯নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আল-আমিন হাসপাতাল থেকে এ.কে খান গেইট পর্যন্ত নালা-নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “শহরকে ভালোবাসতে না পারলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। এই শহর আমাদের সবার—এটি কোনো ব্যক্তির একক সম্পদ নয়। তাই খাল, নালা ও জলাধার রক্ষা করা নাগরিকদের নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা নিজেরাই অনেক সময় নালা-খাল দখল ও ভরাট করে জলাবদ্ধতার সমস্যা সৃষ্টি করছি। শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালালেই হবে না, নাগরিক সচেতনতা না বাড়লে আবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হবে।”

মেয়র জানান, “গত বর্ষা মৌসুমে যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা বেশি হয়েছিল, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ভরাট হয়ে যাওয়া নালা-খালগুলো পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধার করা হবে, যাতে আগামী বর্ষায় নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে না পড়তে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি গণসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। জনগণ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল না হয়, তাহলে কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ, জনসংযোগ ও প্রটোকল কর্মকর্তা আজিজ আহমদ, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোঃ শরফুল ইসলাম মাহি, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া এবং মারুফুল হক চৌধুরী (মারুফ)।
চসিক সূত্রে জানা যায়, জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে এই মাসব্যাপী ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ নালা-নর্দমা ও খালসমূহ নিয়মিতভাবে পরিষ্কার করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে বর্ষা মৌসুমের আগেই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা যায়।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। এ প্রেক্ষাপটে চসিকের চলমান এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
























