
ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,
চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকার আলোচিত ও কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. আবুল কাশেম ওরফে ‘নলা কাসেম’-কে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে সীতাকুণ্ড মডেল থানার একটি বিশেষ অভিযানে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এলাকায় অবস্থান নেয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নলা কাসেম পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি লোডেড বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর,আকবরশাহ,ভাটিয়ারী, কুমিরা ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, পাহাড় কাটা, আধিপত্য বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্ত্রের মহড়া দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছেৎএকাধিক। স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও বসতবাড়ির মালিকদের কাছ থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময় এলাকায় সহিংসতা, হামলা, অবৈধ দখল ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায়ও তার নাম উঠে এসেছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে গোপনে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। অবশেষে বুধবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, নলা কাসেম কথিত সন্ত্রাসী নেতা রোকন মেম্বার -এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, রোকন মেম্বারের নেতৃত্বাধীন বড় একটি অস্ত্রধারী চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতেন এই নলা কাশেম।
স্থানীয়দের দাবি, ওই চক্রের সঙ্গে দুই শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী জড়িত রয়েছে, যারা বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তবে এলাকাবাসী বলছেন রোকন মেম্বারকে যদি দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয় তাহলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড একেবারে কমে যাবে জঙ্গল সলিমপুরে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। সীতাকুণ্ডকে সন্ত্রাস, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিমুক্ত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি।
পুলিশ আরও জানায়, নলা কাসেমের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, তার সহযোগীদের পরিচয়, কারা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছিল এবং চক্রটির নেপথ্যে আর কারা রয়েছে,এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হবে। পাশাপাশি রোকন মেম্বার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
























