Dhaka , Tuesday, 27 October 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রাজধানীতে আঁধার প্রদীপ ফাউন্ডেশনের নবগঠিত কেন্দ্রীয় পর্ষদের শপথ গ্রহণ, প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও ‘ফ্রি অক্সিজেন সেবা’ কর্মসূচির উদ্বোধন কক্সবাজার শহরে মাদক সেবনের দায়ে ৭ জনের কারাদণ্ড বিশ্বাস, ভক্তি, ঐতিহ্যের বন্ধন গোলয়া পাগল নাথের ১৬৪ তম মেলা অনুষ্ঠিত সাজেক সংকটে সমঝোতা আটকে মূল দাবিতে, অব্যাহত অবরোধ ​দিনাজপুরে বিজিবির অভিযান বিরল সীমান্তে ৭৫ হাজার টাকার ভারতীয় মদ উদ্ধার সবচেয়ে কম বয়সে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন যারা ‘পৃথিবী বিপক্ষে দাঁড়ালেও রাশমিকার সঙ্গে থাকব’ দুর্নীতির অভিযোগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা স্বর্ণের দাম আরও বাড়ল কালিয়াকৈরে আনসার-ভিডিপি একাডেমির কুটিরশিল্পের পণ্যে আকৃষ্ট চার দেশের রাষ্ট্রদূত খালেদা জিয়ার সাজে চমক, শেষ পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন পেলেন না মেঘনা আলম ঝটিকা মিছিল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার সবজি আনতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে আহত সরাইলে মব সন্ত্রাসের প্রতিবাদে কৃষকদলের প্রতিবাদ মিছিল তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগ কাউখালীতে সন্ধ্যা নদীতে সাড়ে ৩ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ গাইবান্ধায় খেলা করতে গিয়ে ডোবায় ডুবে প্রাণ হারাল দুই শিশু রূপগঞ্জ উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির কমিটি গঠন শাহীন হত্যার বিচারের দাবিতে ফতুল্লা আদালত চত্বরে মানববন্ধন সিদ্ধিরগঞ্জে ইজিবাইকের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু, পরিচয় মেলেনি সিদ্ধিরগঞ্জে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় অসময়ের তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য লালমনিরহাটে তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা: জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অ্যাডভোকেসির গুরুত্বারোপ চট্টগ্রামে ১ দিনে ১ লাখ গাছ রোপণে ১৫ হাজার সহকর্মী নিয়ে মাঠে নামছেন ডিসি জাহিদ রূপগঞ্জে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে ১২জনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড পাঁচ লাখ লোকের জন্য ২ হাজার পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন: ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পুলিশ কমিশনার পাঁচবিবিতে এক দিনের ব্যবধানে ফের কোটি টাকার কালো বেলে পাথর উদ্ধার আটক ১ সরাইলে ১০ মাসে ১,১৫৮ আসামি গ্রেপ্তার, মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নাদিয়া পাঠান পাপন এমপির শুভেচ্ছা বিনিময় প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে বড় শিল্প গড়ার আহ্বান ডিসি জাহিদের

বাংলার প্রাচীণ শীতলপাটি ঝালকাঠির একটি ব্র্যান্ডিং পণ্য।। 

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 12:29:08 pm, Tuesday, 20 February 2024
  • 209 বার পড়া হয়েছে

বাংলার প্রাচীণ শীতলপাটি ঝালকাঠির একটি ব্র্যান্ডিং পণ্য।।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।

বাংলার প্রাচীণ ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি। নলছিটি উপজেলার পাটিশিল্পিদের সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। অনেক কারিগর পেয়েছেন সরকারি প্রশিক্ষন। তাই পূনরায় তারা কাজে ফিরতে শুরু করেছেন মুখ ফিরিয়ে নেয়া পাটিশিল্পি তৈরির কারিগররা। 

 

বর্তমানে শীতলপাটি তৈরির পাশাপাশি নতুন নতুন উপকরণ তৈরি করে নিজেদের আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন কারিগররা। উপজেলায় এই পেশার সাথে প্রায় এক হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জরিত আছেন। এটা শুধু তাদের পেশা না তারা একটি ঐতিহ্যবাহী পন্যের ধারক ও বাহক হিসেবে যুক্ত আছেন। দেরিতে হলেও সরকারী প্রশিক্ষণ পেয়ে আবারও স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন পাটি শিল্পিরা। শীতলপাটি ঝালকাঠির ব্র্যান্ডিং পন্যের তালিকাভুক্ত একটি পণ্য সারাদেশের মানুষের কাছে পছন্দনীয় ঐতিহ্যবাহী। শীতলপাটির একসময় রমরমা অবস্থা থাকলেও উচ্চ শ্রমমূল্য, প্লাস্টিক পন্যের সহজলভ্যতার কারনে বিক্রি কমতে থাকায় বাধ্য হয়ে এই পেশার সাথে জরিত লোকজন অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন।

 

ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের কামদেবপুর ও গোপালপুর গ্রামে অবস্থিত পাটিকর পাড়ায় একটা সময় দুই হাজারেরও অধিক মানুষ এই পেশায় জরিত ছিল। তাদের হাতে তৈরি পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী শীতলপাটি দেশের গন্ডি পেড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হতো। তবে কালের পরিক্রমায় আধুনিক পন্যের ভিড়ে শীতলপাটির চাহিদা কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে শতশত বছরের পুরনো পেশা অনেকেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। 

 

আকার ভেদে একটি পাটি বুনতে একজনের ৫-৬ দিন লাগে। মজুরি পান ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। এক একটি পাটি বিক্রি হয় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এদিকে এই উৎপাদিত পাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নরসিন্দিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে। 

 

প্রবীন পাটি কারিগর বিবেকানন্দ বলেন, আনুমানিক পাঁচশত বছর আগে বা তার বেশি সময় থেকে এই এলাকার লোকজন এই পেশার সাথে জরিত। বর্তমানে ২শত পরিবার ও তাদের সদস্যরা এই পেশার সাথে জরিত আছেন। যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী পাটিকর রয়েছেন। আগে আরও বেশি ছিল তবে নানা রকম সমস্যার কারণে অনেক পরিবার এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা শীতলপাটি তৈরি উপাদান পাইত্রা গাছ জমি থেকে কেটে সেটা প্রসেস করেন। তারপর মহিলা সদস্যরা তা দিয়ে শীতলপাটি  তৈরি (বুনন) করেন।

 

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি আমাদের বিনা সুদে ঋণ দিতো তাহলে আমাদের জন্য খুব ভালো হতো। কারন শীতলপাটি তৈরির যে উপকরন পাইত্রা গাছ সেটা প্রক্রিয়াজাত করার জন্য বড় বড় ড্রামের দরকার হয় এবং কাটার জন্য ধারালো ও ভারী বটি তৈরি করতে হয়। এছাড়া আমাদের জমিতে পাইত্রা গাছ লাগানো থাকে সেখানে তো অন্য কোন কৃষি ফসল লাগাতে পারি না। সেটা পুষিয়ে নিতে বিনাসুদে আমরা ঋণ পেলে আমাদের উপকার হতো এবং পুরনো ঐতিহ্যবাহী পন্য শীতলপাটি সগর্বে টিকে থাকতো। 

 

পাটিকর মালতী রানি বলেন, বংশপরস্পরায় এই পেশার সাথে জরিত আছি। বিয়ের আগে বাবার বাড়িতে বসে আর এখন বিয়ের পরে স্বামীর বাড়িতে বসে পাটি তৈরি করি। আমার শ্বাশুড়ির বয়স ষাট বছরের বেশি তারপরও তিনি এখনো শীতলপাটি বুনন করতে পারেন। বর্তমানে আমাদের সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। কারণ শীতলপাটির সেই আগের মতো আর চাহিদা নেই। আমাদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাই আমরা শীতলপাটি তৈরির পাশাপাশি টিস্যু বক্স, কলমদানি, লেডিস ব্যাগ ইত্যাদি তৈরি করি। এর মাধ্যমে আমাদের বাড়তি আয় হচ্ছে। এছাড়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শীতলপাটি তৈরি নতুন কিছু ডিজাইন শেখানো হয়েছে যেগুলো তৈরি করতে পারলে আমাদের পাটির চাহিদা বাড়বে। তাই এখন আমরা আর্থিক সচ্ছল হওয়ার চেষ্টা করছি। সবমিলিয়ে যদি আমাদের বিক্রি ভালো হয় তাহলে আবারও পূনর আমাদের সুদিন ফিরে আসবে। 

 

ব্যবসায়ী সন্দিপ চন্দ্র বলেন, এখানের পাটিশিল্পিদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের শীতলপাটি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আমি বিক্রি করি। যার মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন বড় বড় শপিং মলও রয়েছে। তারা সেগুলো দেশের বাহিরেও বিক্রি করে থাকেন। প্রতিমাসে এখানে গড়ে প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকার শীতলপাটি তৈরি হয়। এখন তারা শীতলপাটি তৈরির পাশাপাশি অন্যান্য কিছু উপকরন তৈরি করছেন সেগুলোর বেশ চাহিদা আছে এবং বিক্রিও ভালো হচ্ছে। সরকার আরও একটু সুনজর দিলে শীতলপাটি তার হারানো গৌরব সম্পুর্নরুপে ফিরে পাবে এবং পাটিশিল্পিরাও তাদের পেশাকে আরও ভালোভাবে আকড়ে ধরবেন। প্রচারের মাধ্যমে যদি বিদেশে বিক্রি বাড়ানো যায় তাহলে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনে শীতলপাটির ভালো ভুমিকা থাকবে।

 

এসএমই ফাউন্ডেশন এর উপব্যবস্থাপক অসীম কুমার হালদার বলেন, এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পণ্যের বহুমুখী করণের জন্য এখানকার পাটিকরদের প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা এই পণ্যগুলো বিদেশেও রপ্তানি করতে পারে। ব্রান্ডিং পন্য হিসেবে শীতল পাটির বিষয়ে জেলা প্রশাসন সচেতন রয়েছে।

 

নলছিটি উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা-ইউএনও-মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকার সকল ঐতিহ্যবাহী পন্যের প্রচার ও প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় নলছিটি উপজেলার ৬০জন পাটিশিল্পিকে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পাটিশিল্পের মানোন্নয়নে করনীয় শীর্ষক প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে। তাদের যে কোন প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন পাশে আছে।

 

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঝালকাঠির শীতল পাটি একটি ‘ব্র্যান্ড পণ্য’। পাটি প্রসারে পাটিকরদের প্রশিক্ষণসহ নানা রকম সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাটি শিল্প থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্র বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। আর এটি করা গেলে এখানকার পাটিকরদের ভাগ্যের চাকা ঘুরবে। সরকার পাটিকরদের উন্নয়নে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা সবার। ঝালকাঠির ‘ব্র্যান্ড পণ্য’ শীতল পাটিকে তুলে ধরতে সরকারিভাবেই বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে আঁধার প্রদীপ ফাউন্ডেশনের নবগঠিত কেন্দ্রীয় পর্ষদের শপথ গ্রহণ, প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও ‘ফ্রি অক্সিজেন সেবা’ কর্মসূচির উদ্বোধন

বাংলার প্রাচীণ শীতলপাটি ঝালকাঠির একটি ব্র্যান্ডিং পণ্য।। 

আপডেট সময় : 12:29:08 pm, Tuesday, 20 February 2024

ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।

বাংলার প্রাচীণ ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি। নলছিটি উপজেলার পাটিশিল্পিদের সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। অনেক কারিগর পেয়েছেন সরকারি প্রশিক্ষন। তাই পূনরায় তারা কাজে ফিরতে শুরু করেছেন মুখ ফিরিয়ে নেয়া পাটিশিল্পি তৈরির কারিগররা। 

 

বর্তমানে শীতলপাটি তৈরির পাশাপাশি নতুন নতুন উপকরণ তৈরি করে নিজেদের আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন কারিগররা। উপজেলায় এই পেশার সাথে প্রায় এক হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জরিত আছেন। এটা শুধু তাদের পেশা না তারা একটি ঐতিহ্যবাহী পন্যের ধারক ও বাহক হিসেবে যুক্ত আছেন। দেরিতে হলেও সরকারী প্রশিক্ষণ পেয়ে আবারও স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন পাটি শিল্পিরা। শীতলপাটি ঝালকাঠির ব্র্যান্ডিং পন্যের তালিকাভুক্ত একটি পণ্য সারাদেশের মানুষের কাছে পছন্দনীয় ঐতিহ্যবাহী। শীতলপাটির একসময় রমরমা অবস্থা থাকলেও উচ্চ শ্রমমূল্য, প্লাস্টিক পন্যের সহজলভ্যতার কারনে বিক্রি কমতে থাকায় বাধ্য হয়ে এই পেশার সাথে জরিত লোকজন অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন।

 

ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের কামদেবপুর ও গোপালপুর গ্রামে অবস্থিত পাটিকর পাড়ায় একটা সময় দুই হাজারেরও অধিক মানুষ এই পেশায় জরিত ছিল। তাদের হাতে তৈরি পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী শীতলপাটি দেশের গন্ডি পেড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হতো। তবে কালের পরিক্রমায় আধুনিক পন্যের ভিড়ে শীতলপাটির চাহিদা কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে শতশত বছরের পুরনো পেশা অনেকেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। 

 

আকার ভেদে একটি পাটি বুনতে একজনের ৫-৬ দিন লাগে। মজুরি পান ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। এক একটি পাটি বিক্রি হয় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এদিকে এই উৎপাদিত পাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নরসিন্দিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে। 

 

প্রবীন পাটি কারিগর বিবেকানন্দ বলেন, আনুমানিক পাঁচশত বছর আগে বা তার বেশি সময় থেকে এই এলাকার লোকজন এই পেশার সাথে জরিত। বর্তমানে ২শত পরিবার ও তাদের সদস্যরা এই পেশার সাথে জরিত আছেন। যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী পাটিকর রয়েছেন। আগে আরও বেশি ছিল তবে নানা রকম সমস্যার কারণে অনেক পরিবার এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা শীতলপাটি তৈরি উপাদান পাইত্রা গাছ জমি থেকে কেটে সেটা প্রসেস করেন। তারপর মহিলা সদস্যরা তা দিয়ে শীতলপাটি  তৈরি (বুনন) করেন।

 

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি আমাদের বিনা সুদে ঋণ দিতো তাহলে আমাদের জন্য খুব ভালো হতো। কারন শীতলপাটি তৈরির যে উপকরন পাইত্রা গাছ সেটা প্রক্রিয়াজাত করার জন্য বড় বড় ড্রামের দরকার হয় এবং কাটার জন্য ধারালো ও ভারী বটি তৈরি করতে হয়। এছাড়া আমাদের জমিতে পাইত্রা গাছ লাগানো থাকে সেখানে তো অন্য কোন কৃষি ফসল লাগাতে পারি না। সেটা পুষিয়ে নিতে বিনাসুদে আমরা ঋণ পেলে আমাদের উপকার হতো এবং পুরনো ঐতিহ্যবাহী পন্য শীতলপাটি সগর্বে টিকে থাকতো। 

 

পাটিকর মালতী রানি বলেন, বংশপরস্পরায় এই পেশার সাথে জরিত আছি। বিয়ের আগে বাবার বাড়িতে বসে আর এখন বিয়ের পরে স্বামীর বাড়িতে বসে পাটি তৈরি করি। আমার শ্বাশুড়ির বয়স ষাট বছরের বেশি তারপরও তিনি এখনো শীতলপাটি বুনন করতে পারেন। বর্তমানে আমাদের সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। কারণ শীতলপাটির সেই আগের মতো আর চাহিদা নেই। আমাদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাই আমরা শীতলপাটি তৈরির পাশাপাশি টিস্যু বক্স, কলমদানি, লেডিস ব্যাগ ইত্যাদি তৈরি করি। এর মাধ্যমে আমাদের বাড়তি আয় হচ্ছে। এছাড়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শীতলপাটি তৈরি নতুন কিছু ডিজাইন শেখানো হয়েছে যেগুলো তৈরি করতে পারলে আমাদের পাটির চাহিদা বাড়বে। তাই এখন আমরা আর্থিক সচ্ছল হওয়ার চেষ্টা করছি। সবমিলিয়ে যদি আমাদের বিক্রি ভালো হয় তাহলে আবারও পূনর আমাদের সুদিন ফিরে আসবে। 

 

ব্যবসায়ী সন্দিপ চন্দ্র বলেন, এখানের পাটিশিল্পিদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের শীতলপাটি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আমি বিক্রি করি। যার মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন বড় বড় শপিং মলও রয়েছে। তারা সেগুলো দেশের বাহিরেও বিক্রি করে থাকেন। প্রতিমাসে এখানে গড়ে প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকার শীতলপাটি তৈরি হয়। এখন তারা শীতলপাটি তৈরির পাশাপাশি অন্যান্য কিছু উপকরন তৈরি করছেন সেগুলোর বেশ চাহিদা আছে এবং বিক্রিও ভালো হচ্ছে। সরকার আরও একটু সুনজর দিলে শীতলপাটি তার হারানো গৌরব সম্পুর্নরুপে ফিরে পাবে এবং পাটিশিল্পিরাও তাদের পেশাকে আরও ভালোভাবে আকড়ে ধরবেন। প্রচারের মাধ্যমে যদি বিদেশে বিক্রি বাড়ানো যায় তাহলে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনে শীতলপাটির ভালো ভুমিকা থাকবে।

 

এসএমই ফাউন্ডেশন এর উপব্যবস্থাপক অসীম কুমার হালদার বলেন, এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পণ্যের বহুমুখী করণের জন্য এখানকার পাটিকরদের প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা এই পণ্যগুলো বিদেশেও রপ্তানি করতে পারে। ব্রান্ডিং পন্য হিসেবে শীতল পাটির বিষয়ে জেলা প্রশাসন সচেতন রয়েছে।

 

নলছিটি উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা-ইউএনও-মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকার সকল ঐতিহ্যবাহী পন্যের প্রচার ও প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় নলছিটি উপজেলার ৬০জন পাটিশিল্পিকে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পাটিশিল্পের মানোন্নয়নে করনীয় শীর্ষক প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে। তাদের যে কোন প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন পাশে আছে।

 

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঝালকাঠির শীতল পাটি একটি ‘ব্র্যান্ড পণ্য’। পাটি প্রসারে পাটিকরদের প্রশিক্ষণসহ নানা রকম সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাটি শিল্প থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্র বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। আর এটি করা গেলে এখানকার পাটিকরদের ভাগ্যের চাকা ঘুরবে। সরকার পাটিকরদের উন্নয়নে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা সবার। ঝালকাঠির ‘ব্র্যান্ড পণ্য’ শীতল পাটিকে তুলে ধরতে সরকারিভাবেই বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।