
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
কাঁদা ছোড়াছুড়ি বা একে অপরকে দোষারোপ না করে, অতীতের হিসাব ভুলে সবাইকে নিয়ে একযোগে দেশের উন্নয়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি। সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
সোমবার বিকেলে ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত এপ্রিল মাসের পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন বলেন,
“আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্পিরিট ও স্পিড বুঝে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যদি ১০০ মাইল বেগে চলেন আর আমরা যদি মাইনাস ১০ মাইলে থাকি, তাহলে সামগ্রিকভাবে আমাদের সবারই ক্ষতি হবে। কারণ প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।”
তিনি কর্মকর্তাদের স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শুধু কোটি কোটি টাকার ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ কিংবা খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দিলেই হবে না। টেকসই উন্নয়নের জন্য এখন প্রয়োজন সাধারণ মানুষকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার মতো দূরদর্শী প্রকল্প গ্রহণ করা।
এডিপি অগ্রগতি পর্যালোচনা:
সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ৮৭২ কোটি ৪০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
জিওবি খাত: ৭৩৯ কোটি ৭৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।
পিএ খাত: ১৩২ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
বর্তমান প্রকল্প: ৮টি অনুমোদিত প্রকল্প এবং ৩টি উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচি।
আর্থিক অগ্রগতি: এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৪১০ কোটি ২৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা (বরাদ্দের ৪৭.০২%) ছাড় করা হয়েছে এবং ব্যয় হয়েছে ৩৪৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা (বরাদ্দের ৩৯.৪০%)।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে তুলা চাষ বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে সড়ক ও গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, জলবায়ু সহনশীল জীবিকায়ন (CRLIWM-CHT), টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান এবং সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
উক্ত সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মনিরুল ইসলাম, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদ্বয়সহ তিন পার্বত্য জেলার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
























