Dhaka , Wednesday, 4 November 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি পাইকগাছা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্পেইন, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান একনেক সভায় বিসিসির জন্য ৭০১ কোটি টাকা অনুমোদন : অবহেলিত থেকে গেল দক্ষিণাঞ্চল মধুপুরে সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের দাবিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান দিচ্ছে জাইকা, চট্টগ্রামে নির্মিত হবে নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল সাভারে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৫০ ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ নারায়ণগঞ্জে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ কালিয়াকৈরে শ্রমিকের আন্দোলন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন নেত্রকোনার পূর্বধলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কাউখালীতে নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত স্পেনের ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ ইয়ামালের বাবার স্কুলে থাকতেই পাইলট, বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নাথালিয়ার স্বর্ণের চাহিদায় ভাটা, কমল বার ও কয়েন কেনার পূর্বাভাস শুধু ‘স্যরি’ বললেই কি মুছে যায় মনের কষ্ট? ‘ও আমাকে মা-বাবার চেয়েও বেশি বোঝে’ সরাইলে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারীসহ ৮ জন আহত, এলাকায় আতঙ্ক কালিয়াকৈরে তুরাগ নদীতে বন্ধুদের সাথে সাতার কাটতে গিয়ে নিখোজ গার্মেন্টস শ্রমিকের লাশ উদ্ধার কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদ ইসলামের শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি রূপগঞ্জে গৃহবধূকে কুপিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই রূপগঞ্জে সিম গ্রুপের পোশাক কারখানায় ডায়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ টেকনাফের সাগরে মাছ ধরার নৌকায় বজ্রপাতের আঘাতে ১ জেলে নিহত! নবপ্রজন্মের মাঝে ইসলামের সৌন্দর্য ও শাশ্বত জীবনদর্শন তুলে ধরতে হবে – ইসলামী যুবসমাজ দুর্গাপুরে নাঈমুরের সাফল্যের হেট্রিক : টানা তিন পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে নতুন ইতিহাস মধুপুরে পর্নোগ্রাফি ও ইয়াবা কারবারের অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, মোবাইল-ল্যাপটপ উদ্ধার পাইকগাছায় মরহুম শামসুর রহমানের স্মরণে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া মাহফিল ‎গাইবান্ধায় এলজিইডির বাস্তবায়নে খানাখন্দের রাস্তা ফিরে পেল প্রাণ

পার্বত্যের কৃষকদের বাজারজাতকৃত পণ্যে পরিবহন পারিশ্রমিক যোগ করে পণ্য মূল্য নির্ধারণ করুন:- প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এমপি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 01:09:01 pm, Thursday, 21 May 2026
  • 105 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কষ্টের কথা বিবেচনা করে তাদের উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের কৃষি ফলন ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সহজ যাতায়াত ব্যবস্থার অপ্রতুলতা রয়েছে। অনেক ভীষণ কষ্টের বিনিময়ে তারা পণ্য বাজারে নিয়ে আসেন। তাই কৃষকদের পণ্যের মূল্যের সাথে এই পণ্য আনা-নেওয়ার অতিরিক্ত পারিশ্রমিক ও কষ্টকে উৎপাদিত পণ্যের ক্রয়মূল্য বা উপযুক্ত মূল্য পরিশোধের হিসাবের সাথে যোগ করে কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।

গতকাল পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এর উদ্যোগে আয়োজিত “পার্বত্য চট্টগ্রামের পল্লী অঞ্চলের কৃষি পণ্যের সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিষয়ক প্রকল্প” এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বার্ডের আউটরিচ সেন্টার প্রতিষ্ঠা শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন এমপি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ফল ও সবজি বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে এ প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। তিনি উল্লেখ করেন, সরাসরি বৃহৎ পরিসরে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে বার্ড প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি প্রায়োগিক গবেষণা (Pilot Research) হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা একটি বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন এমপি আশা প্রকাশ করেন, বার্ড সমবায়ভিত্তিক কৃষিপণ্য সাপ্লাই চেইন মডেল গড়ে তোলার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের উৎপাদনশীল খাতের সাথে সম্পৃক্ত সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ বার্ডকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। এছাড়া অত্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বিশেষ কারণে আজকের সভায় উপস্থিত থাকতে না পারায়, তাঁকে প্রকল্পটির বিষয়ে বিস্তারিতভাবে অবহিত করে তাঁর মূল্যবান মতামত গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

সভার শুরুতে বার্ডের মহাপরিচালক সাইফউদ্দীন আহমেদ সভার এজেন্ডা অনুযায়ী প্রকল্পের সার্বিক ধারণা উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে প্রকল্পের মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন কুমিল্লার বার্ড-এর পরিচালক ফৌজিয়া নাসরিন সুলতানা।
সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষিজ পণ্যের পোস্ট-হারভেস্ট (ফসল কাটার পরবর্তী) ক্ষতি হ্রাস করা, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের একটি টেকসই মডেল তৈরি করাই এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এই প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে উৎপাদিত কৃষিজ পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ব্লকচেইনভিত্তিক সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ৯৫০ জন কৃষককে জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদনের উত্তম চর্চা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। শিক্ষানবিশ কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ জন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাকে সমবায়ভিত্তিক সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে সমিতিভিত্তিক সঞ্চয় সহায়তা প্রদান, ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধকরণ এবং কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে বার্ডের আউটরিচ সেন্টার প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত গবেষণা প্রস্তাবনায় স্থানীয় পল্লী উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনসমূহ চিহ্নিত করে গবেষণা ও প্রায়োগিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে সভায় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার মাধ্যমে পুনরায় বিবেচনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় উপস্থিত বক্তারা প্রকল্পটিকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ প্রকল্প পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, বাজার সম্প্রসারণ ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জনাব প্রদীপ কুমার মহোত্তম এনডিসি, বার্ডের মহাপরিচালক জনাব সাইফউদ্দীন আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মনিরুল ইসলাম, যুগ্মসচিব জনাব কংকন চাকমা, জনাব অতুল সরকার, জনাব মমিনুর রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব শেখ ছালেহ আহাম্মদ (যুগ্ম-সচিব), বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য শ্রী ফদাং তাং রান্দাল, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, ওমেগা লজিস্টিক ও সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ জনাব জিয়া করিম, বার্ডের যুগ্ম পরিচালক মিজ আযমা মাহমুদা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

পার্বত্যের কৃষকদের বাজারজাতকৃত পণ্যে পরিবহন পারিশ্রমিক যোগ করে পণ্য মূল্য নির্ধারণ করুন:- প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এমপি

আপডেট সময় : 01:09:01 pm, Thursday, 21 May 2026

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কষ্টের কথা বিবেচনা করে তাদের উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের কৃষি ফলন ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সহজ যাতায়াত ব্যবস্থার অপ্রতুলতা রয়েছে। অনেক ভীষণ কষ্টের বিনিময়ে তারা পণ্য বাজারে নিয়ে আসেন। তাই কৃষকদের পণ্যের মূল্যের সাথে এই পণ্য আনা-নেওয়ার অতিরিক্ত পারিশ্রমিক ও কষ্টকে উৎপাদিত পণ্যের ক্রয়মূল্য বা উপযুক্ত মূল্য পরিশোধের হিসাবের সাথে যোগ করে কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।

গতকাল পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এর উদ্যোগে আয়োজিত “পার্বত্য চট্টগ্রামের পল্লী অঞ্চলের কৃষি পণ্যের সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিষয়ক প্রকল্প” এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বার্ডের আউটরিচ সেন্টার প্রতিষ্ঠা শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন এমপি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ফল ও সবজি বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে এ প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। তিনি উল্লেখ করেন, সরাসরি বৃহৎ পরিসরে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে বার্ড প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি প্রায়োগিক গবেষণা (Pilot Research) হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা একটি বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন এমপি আশা প্রকাশ করেন, বার্ড সমবায়ভিত্তিক কৃষিপণ্য সাপ্লাই চেইন মডেল গড়ে তোলার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের উৎপাদনশীল খাতের সাথে সম্পৃক্ত সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ বার্ডকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। এছাড়া অত্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বিশেষ কারণে আজকের সভায় উপস্থিত থাকতে না পারায়, তাঁকে প্রকল্পটির বিষয়ে বিস্তারিতভাবে অবহিত করে তাঁর মূল্যবান মতামত গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

সভার শুরুতে বার্ডের মহাপরিচালক সাইফউদ্দীন আহমেদ সভার এজেন্ডা অনুযায়ী প্রকল্পের সার্বিক ধারণা উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে প্রকল্পের মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন কুমিল্লার বার্ড-এর পরিচালক ফৌজিয়া নাসরিন সুলতানা।
সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষিজ পণ্যের পোস্ট-হারভেস্ট (ফসল কাটার পরবর্তী) ক্ষতি হ্রাস করা, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের একটি টেকসই মডেল তৈরি করাই এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এই প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে উৎপাদিত কৃষিজ পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ব্লকচেইনভিত্তিক সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ৯৫০ জন কৃষককে জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদনের উত্তম চর্চা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। শিক্ষানবিশ কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ জন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাকে সমবায়ভিত্তিক সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে সমিতিভিত্তিক সঞ্চয় সহায়তা প্রদান, ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধকরণ এবং কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে বার্ডের আউটরিচ সেন্টার প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত গবেষণা প্রস্তাবনায় স্থানীয় পল্লী উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনসমূহ চিহ্নিত করে গবেষণা ও প্রায়োগিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে সভায় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার মাধ্যমে পুনরায় বিবেচনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় উপস্থিত বক্তারা প্রকল্পটিকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ প্রকল্প পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, বাজার সম্প্রসারণ ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জনাব প্রদীপ কুমার মহোত্তম এনডিসি, বার্ডের মহাপরিচালক জনাব সাইফউদ্দীন আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মনিরুল ইসলাম, যুগ্মসচিব জনাব কংকন চাকমা, জনাব অতুল সরকার, জনাব মমিনুর রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব শেখ ছালেহ আহাম্মদ (যুগ্ম-সচিব), বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য শ্রী ফদাং তাং রান্দাল, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, ওমেগা লজিস্টিক ও সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ জনাব জিয়া করিম, বার্ডের যুগ্ম পরিচালক মিজ আযমা মাহমুদা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।