
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।
কুমিল্লা তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের বারামবাড়ি নামক স্থানের সেতুটি তুলাকান্দি নামক স্থানে নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।ওই স্থানে কোন রাস্তা না থাকলে রাস্তা বিহীন জায়গায় সেতুটি নির্মাণ করেছে বলে জানা গেছে। জানাযায়
অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা সেতুটির দিকে তাকালে মনে হবে সেতু নয়,সামনে কোন গহিন জঙ্গল।সেতুটির ওপড়ে খেড় ও গরুর গোবরের খড়ি শুকাচ্ছেন সৌখিন কৃষকগণ।অর্থ লেনদেনের মাধ্যমেই সরকারি সেতুটি এক স্থানের পরিবর্তে অন্য স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।বরাদ্দকৃত স্থানে সেতুটি নির্মাণ না করে অন্যত্র স্থানান্তর করায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।বারামবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো.আলী মিয়া অভিযোগ করে বলেন,
সাবেক চেয়ারম্যান ইন্জিনিয়ার সালাউদ্দিন ও স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মকবুল হোসেনের কারসাজিতে ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিসকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজ করে বরাদ্ধকৃত স্থানের সেতুটি অন্য স্থানে নির্মাণ করছেন।স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, রাস্তাবিহীন যায়গায় সেতুটি নির্মাণ করেছে মোষ্টিমেয় কয়েকটি পরিবারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা খেয়ে তাদেরই সুবিধার্থে।প্রায় দুই যূগ ধরে আমরা আধুনিকতার ছোঁয়া না পেয়ে অবহেলায় অযত্নে পড়ে আছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকন বাঁশের সাঁকোপার হয়ে আমাদের শিশু শিক্ষার্থীরা পড়া-শোনা করতে যায়। এতে যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ।জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/ কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের নয়াচর বারামবাড়ি-খলিলাবাদ রাস্তার চকের খালের ওপর সেতু নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্য এই সেতুর চুরান্ত ব্যয় ৩০ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৭ টাকা এবং
কাজের অনুমোদনের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার ওই স্থানে সেতু নির্মাণের মালামাল বহন খরচ অতিরিক্ত হবে বলে এই অজুহাতে গরিমসি করে বরাদ্দকৃত স্থানে সেতু নির্মাণ না করে একই ইউনিয়নের তুলাকান্দি মধ্যপাড়া আবু তাহেরের বাড়ির পাশে খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করেছে বলে জানা গেছে।অপরদিকে তুলাকান্দি গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক,একজন মোয়াজ্জেম ও একজন প্রবাসী জানান,আমরা মকবুল মেম্বারের সহায়তায় এই ব্রীজ পেয়েছি ।তবে আমাদের ৪/৫ পরিবার মিলে চাঁদা দিতে হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসান উল্লাহর নিকট ঠিকাদার কোম্পানির নাম জানতে চাইলে কোন প্রকার তথ্য না দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বার বার পাশ কাটিয়ে যান।
এ ব্যাপারে ততকালীন ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন ও স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মকবুল হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেন নাই।তাই তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)
আহসান উল্লাহ বলেন, এক যায়গার সেতু অন্যস্থানে নির্মাণের নীতিমালা আছে।বারামবাড়ি নামক স্থানে কাঁদা থাকার কারণে মালামাল বহন করতে অসুবিধা ও অতিরিক্ত খরচের কথা চিন্তা করে একই ইউনিয়নের তুলাকান্দি মধ্যপাড়ায় সেতুটি স্থানান্তর করা হয়েছে।
তিতাস উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম মোর্শেদ জানান,এই সেতুটি আমার আমলে হয়নি, তাই এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে এই বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করব।

























