Dhaka , Saturday, 25 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের কমিটি ঘোষণা; সভাপতি ইশরাক হোসেন দপ্তর লেখক আসাদ পারভেজ। প্রচণ্ড গরম ও লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত গাজীপুরের জনজীবন নোয়াখালীতে কাভার্ডভ্যানে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২ মধুপুরে জাসাসের উদ্যোগে মরহুম লোকমান হোসেন ফকির এর মৃত্যু বার্ষিকী পালন জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার প্রতিবাদে রাঙামাটিতে পিসিসিপি’র বিক্ষোভ লালমনিরহাটে মে দিবস ও পেশাগত স্বাস্থ্য দিবস পালনের তোড়জোড়: প্রস্তুতি সভা সম্পন্ টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ ১ মানবপাচারকারী কোস্ট গার্ডের হাতে আটক আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য একটাই, আগামীর সুন্দর দুর্গাপুর : ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল পাইকগাছায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি পালিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে কঠিন চ্যালেঞ্জ: পানি সম্পদ মন্ত্রী রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বিচার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে লাল পতাকা র‍্যালী আড়াইহাজারে জমি বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ৩—একজনের অবস্থা গুরুতর ইসলামি আদর্শের ভিত্তিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য: মাওঃ আব্দুল হালিম রূপগঞ্জে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে পুড়ল পিকআপ ভ্যান রূপগঞ্জে রাস্তা নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে অত্যাধুনিক হাসপাতাল এবং পার্ক গড়তে চান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দুর্গম পাহাড়ে চিকিৎসা সেবায় যেনো কোনো ত্রুটি না হয়:- নির্দেশ পার্বত্য মন্ত্রীর সরকারের এক ইঞ্চি জমির রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না:- ভূমি প্রতিমন্ত্রী জরাজীর্ণ টিনের ঘরে পাঠদান, বিনা বেতনে পড়াচ্ছেন শিক্ষকরা মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬’এর উদ্বোধন রাজাপুরে খাল পুনঃখননে অনিয়ম: পরিদর্শনে গিয়ে অসঙ্গতি পেলেন ইউএনও বেগমগঞ্জে অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ অভিযানে ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা – বগুড়ায় কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা, দিনের আলোতেই নৃশংসতা শিকার রকি ০৩ জন পেশাদার মাদক কারবারির পরিহিত স্যান্ডেল হতে ৩২৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম শহরকে ভালোবাসতে না পারলে উন্নয়ন টেকসই হবে না”:- চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পাইকগাছায় লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ রোধে ক্যাম্পেইন ও র‌্যালি পূর্বাচলে মাদক ব্যবসায়ী ও প্লট খেকোদের বিরুদ্ধে সোচ্চার বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মানববন্ধন, বিক্ষোভ পাইকগাছায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন জঙ্গল সলিমপুরের ত্রাস ‘নলা কাসেম’ বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার

কক্সবাজারের মহেশখালীতে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:57:43 pm, Saturday, 24 September 2022
  • 180 বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের মহেশখালীতে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প

সরওয়ার কামাল কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প । এক সময় গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে আলোর ব্যবস্থা, রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া ও অতিথি আপ্যায়ন সহ প্রায় সব কাজেই ব্যবহার হতো মাটির তৈরি সৌখিন তৈজসপত্র। দামে সহজলভ্য ও স্বাস্থ্যকর হওয়ায় সব পরিবারেই ব্যবহার করা হতো মাটির তৈরী ওই সব পাত্র।
উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের বড় কুলাল পাড়া, ছোট কুলাল পাড়া, কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা বড়ুয়া পাড়া গ্রামে মৃশিল্প পেশায় জড়িত আছে ৬০টি পরিবার। খড়, কাঠি আর মাঠির সাথে যুদ্ধ করে কুমারেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে ঝড়, বৃষ্টি ও প্রচন্ড খরা উপেক্ষা করে এই পেশা কে ধরে রেখেছে। শীতকালে খেজুরের রস সংগ্রহে মাটির হাড়ি, বাহারি চিতল, পুলি ও ভাপা পিঠা সহ হরেক জাতের পিঠা তৈরীতে খোলা দধির পাতিল, টালি, ঘট, মুটকি, থালাবাসন ও অন্ধকার দূর করার মাটির বাতি সহ বিভিন্ন রকমের জিনিস তৈরি করতো গ্রাম বাংলার কুমারেরা। ওইসব মাটির জিনিসপত্র অনেকে ভ্যান যোগে আবার কেউ কেউ মাথায় নিয়ে বিক্রি করতো। আর সেই উপার্জনেই চলতো কুমারদের পরিবার। প্লাস্টিক, মেলামাইন, স্টিল ও সিলভারের তৈরিকৃত সামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে ওই সব মাটির তৈরি সৌখিন জিনিসপত্র। তাই কুমারেরা পরিবার পরিজনের মুখে খাবার তুলে দিতে জাতিগত পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ধাবিত হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় যখন বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি তখন ভরসা ছিল কেবলই মাটির তৈরি বাতি। তাতে কেরাসিন তেল দিয়ে চলতো রাতের সকল কাজ। সেই হাজার বছরের ঐতিহ্য ও গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি এখন হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম। বড় মহেশখালী ইউনিয়নের বড় কুলাল পাড়া এলাকার কুমার জসিম উদ্দিন বলেন, আমার কোন সম্পদ নেই। এক ছেলে, ৩ মেয়ে। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়। অর্ধহারে ও অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করতে হয়। কালারমারছড়ার মিলনা রানী (৩৬) ও মনোরঞ্জন পাল (৭০) এর সাথে কথা হলে তারা বলেন, এক সময় বিনামূল্যে মাটি পাওয়া যেত। এখন তা পাওয়া যায়না। গত দু’বছর পূর্বেও প্রতি গাড়ি মাটির দাম যেখানে ছিল মাত্র ৪০০ টাকা। এখন সেই মাটিই ১ হাজার ২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। কাঁচামাল গুলো পোঁড়াতে কাঠ ও খড়ের দাম বেড়েছে কয়েকগুন। বাজারে সব কিছুর দাম বাড়লেও শুধু মাটির তৈরি জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। ৬০ বছর বয়সী বিধবা কানন রানী বলেন, ১২ বছর বয়স হতে এ পেশায় জড়িত আছি। স্বামী মারা যাওয়ায় ছেলের সংসারে আছি। ছেলেদেরকে এখনো এ পেশায় সাহায্য করে আসছি। মাটি সংগ্রহ করে কোন জিনিস বানাতে খুব কষ্ট করতে হয়। একদিনে কোন কিছুই তৈরি করা যায়না, সময় নিয়ে বানাতে হয় এবং সেগুলি শুকিয়ে পোড়ানো হয়। আগের মতো এখন আর মাটির জিনিসের চাহিদাও নেই তেমন।
সরকারি সহযোগিতা ও বাজারে মাটির তৈরী জিনিসের চাহিদা থাকলে হাজার বছরের ঐতিহ্য হিসেবে পেশাটি টিকে থাকতে পারবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের কমিটি ঘোষণা; সভাপতি ইশরাক হোসেন দপ্তর লেখক আসাদ পারভেজ।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প

আপডেট সময় : 07:57:43 pm, Saturday, 24 September 2022

সরওয়ার কামাল কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প । এক সময় গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে আলোর ব্যবস্থা, রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া ও অতিথি আপ্যায়ন সহ প্রায় সব কাজেই ব্যবহার হতো মাটির তৈরি সৌখিন তৈজসপত্র। দামে সহজলভ্য ও স্বাস্থ্যকর হওয়ায় সব পরিবারেই ব্যবহার করা হতো মাটির তৈরী ওই সব পাত্র।
উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের বড় কুলাল পাড়া, ছোট কুলাল পাড়া, কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা বড়ুয়া পাড়া গ্রামে মৃশিল্প পেশায় জড়িত আছে ৬০টি পরিবার। খড়, কাঠি আর মাঠির সাথে যুদ্ধ করে কুমারেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে ঝড়, বৃষ্টি ও প্রচন্ড খরা উপেক্ষা করে এই পেশা কে ধরে রেখেছে। শীতকালে খেজুরের রস সংগ্রহে মাটির হাড়ি, বাহারি চিতল, পুলি ও ভাপা পিঠা সহ হরেক জাতের পিঠা তৈরীতে খোলা দধির পাতিল, টালি, ঘট, মুটকি, থালাবাসন ও অন্ধকার দূর করার মাটির বাতি সহ বিভিন্ন রকমের জিনিস তৈরি করতো গ্রাম বাংলার কুমারেরা। ওইসব মাটির জিনিসপত্র অনেকে ভ্যান যোগে আবার কেউ কেউ মাথায় নিয়ে বিক্রি করতো। আর সেই উপার্জনেই চলতো কুমারদের পরিবার। প্লাস্টিক, মেলামাইন, স্টিল ও সিলভারের তৈরিকৃত সামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে ওই সব মাটির তৈরি সৌখিন জিনিসপত্র। তাই কুমারেরা পরিবার পরিজনের মুখে খাবার তুলে দিতে জাতিগত পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ধাবিত হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় যখন বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি তখন ভরসা ছিল কেবলই মাটির তৈরি বাতি। তাতে কেরাসিন তেল দিয়ে চলতো রাতের সকল কাজ। সেই হাজার বছরের ঐতিহ্য ও গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি এখন হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম। বড় মহেশখালী ইউনিয়নের বড় কুলাল পাড়া এলাকার কুমার জসিম উদ্দিন বলেন, আমার কোন সম্পদ নেই। এক ছেলে, ৩ মেয়ে। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়। অর্ধহারে ও অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করতে হয়। কালারমারছড়ার মিলনা রানী (৩৬) ও মনোরঞ্জন পাল (৭০) এর সাথে কথা হলে তারা বলেন, এক সময় বিনামূল্যে মাটি পাওয়া যেত। এখন তা পাওয়া যায়না। গত দু’বছর পূর্বেও প্রতি গাড়ি মাটির দাম যেখানে ছিল মাত্র ৪০০ টাকা। এখন সেই মাটিই ১ হাজার ২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। কাঁচামাল গুলো পোঁড়াতে কাঠ ও খড়ের দাম বেড়েছে কয়েকগুন। বাজারে সব কিছুর দাম বাড়লেও শুধু মাটির তৈরি জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। ৬০ বছর বয়সী বিধবা কানন রানী বলেন, ১২ বছর বয়স হতে এ পেশায় জড়িত আছি। স্বামী মারা যাওয়ায় ছেলের সংসারে আছি। ছেলেদেরকে এখনো এ পেশায় সাহায্য করে আসছি। মাটি সংগ্রহ করে কোন জিনিস বানাতে খুব কষ্ট করতে হয়। একদিনে কোন কিছুই তৈরি করা যায়না, সময় নিয়ে বানাতে হয় এবং সেগুলি শুকিয়ে পোড়ানো হয়। আগের মতো এখন আর মাটির জিনিসের চাহিদাও নেই তেমন।
সরকারি সহযোগিতা ও বাজারে মাটির তৈরী জিনিসের চাহিদা থাকলে হাজার বছরের ঐতিহ্য হিসেবে পেশাটি টিকে থাকতে পারবে।