Dhaka , Tuesday, 28 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
হারায়ে খুঁজি রাজধানীতে টিসিবির পণ্য নিতে এসে দেয়াল ধসে নিহত ১ সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি জনসেবা : বিভাগীয় কমিশনার পাইকগাছা পৌরসভার অন্যতম প্রধান সড়কে ভয়াবহ ধস; ঝুঁকিতে হাজারো মানুষের চলাচল, দ্রুত সংস্কারের দাবি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ৮ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি অস্ত্র মামলার ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোহাম্মাদ হোসেন গ্রেফতার মৃত্যুকে ভয় পাই না, আমি নিজেই একজন জুলাই যোদ্ধা: হিরো আলম চায়না অর্থায়নে নির্মিত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট পরিদর্শন করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বায়েজিদ বোস্তামী থানার অভিযানে বিদেশি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ চিহিৃত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন’র ২ সহযোগী গ্রেফতার চট্টগ্রামের ‎আনোয়ারায় ‘সিইআইজেড’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মাদারীপুরে মৃত্যুফাঁদ খ্যাত সেই সড়কের মেরামতের কাজ শুরু দক্ষিণ মিঠাছড়ির সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে গিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ ৫ বনকর্মী আহত লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্রাকচালককে অপহরণ ও কুপিয়ে ছিনতাই মামলায় ৩ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ট্রাক-সিএনজির সংঘর্ষে সাবেক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু প্রফেসর ড. রামদুলাল রায়ের আরোগ্য কামনায় গীতা পাঠ ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জের দুইশত পরিবার আবারো উচ্ছেদ আতঙ্কে \ অনাবাসিক জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি নগরীর আমবাগান বস্তিতে মিললো থানা লুটের জোড়া অস্ত্র দূর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি সীতাকুণ্ডে মহাসড়ক পার হতে গিয়ে মিনিবাসের ধাক্কায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু বছরের পর বছর গ্যাস সংকটে জর্জরিত আশুলিয়ার শ্রীপুর — বিল দিচ্ছেন, গ্যাস পাচ্ছেন না; চরম দুর্ভোগে হাজারো পরিবার রামুতে ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া সংগঠনের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করলেন এমপি লুৎফুর রহমান কাজল মাদক মামলায় ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কাশেম র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে র‍্যাবের অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার মাদারীপুর পৌরসভায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কর্মশালা। মাদারীপুরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় দুই প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পলাতক বহিরাগত নয়, নোবিপ্রবির শিক্ষককেই ট্রেজারার চান শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রামে ০৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হরমুজে তেলের ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ সৌদিতে ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার

হালিশহরে শীর্ষ ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ পাখির আস্তানা গুড়িয়ে দিল র‍্যাব ৭ চট্টগ্রাম

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:05:25 pm, Friday, 15 May 2026
  • 54 বার পড়া হয়েছে

ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম,

চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানাধীন রঙ্গিপাড়া রমনা আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ভয়ঙ্কর মাদক সাম্রাজ্যের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী পাখি আক্তার অবশেষে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের জালে ধরা পড়েছে। বহু বছর ধরে এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেট গঠন, যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত এই পাখিকে গ্রেফতারের পর এলাকাজুড়ে স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, কোথাও কোথাও মিষ্টি বিতরণ করেও আনন্দ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিনের আতঙ্ক, ভয় আর অসহায়ত্বের পর সাধারণ মানুষ বলছেন “অবশেষে হালিশহর একটু হলেও শান্তি পেল।”

র‍্যাব-৭ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, হালিশহর থানাধীন রঙ্গিপাড়া রমনা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে বিপুল পরিমাণ গাঁজা মজুদ করে খুচরা বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৪ মে ২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি বিশেষ আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জাহাঙ্গীর আলমের তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। ফ্ল্যাটের দরজায় নক করলে এক নারী দরজা খুলে দেয়। পরে র‍্যাব সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, কয়েকজন নারী-পুরুষ মিলে রুমের মেঝেতে বসে বড় বড় গাঁজার প্যাকেট খুলে ডিজিটাল ওজন মেশিনের সাহায্যে মেপে ছোট ছোট পুরিয়া তৈরি করছে।

ঘটনাস্থল থেকেই র‍্যাব সদস্যরা কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী পাখি আক্তারসহ মোট ৬ জনকে আটক করতে সক্ষম হন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পাখি আক্তার (৩৫), মোঃ ফারুক (২৬), ফারজানা বেগম (২৬), মোঃ হানিফ মিয়া (২৭), শেখ ফরিদ (৩০) ও শাহানা বেগম (৫০)। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১১ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য জব্দ করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হালিশহর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাখি আক্তার শুধু একজন সাধারণ মাদক ব্যবসায়ী নয়, বরং সে ছিল পুরো এলাকার একটি ভয়ঙ্কর মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা, অভিযোগ এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনার তথ্য। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, রঙ্গিপাড়া, রমনা আবাসিক এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চলতো। সন্ধ্যার পর এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল পর্যন্ত কমে যেত। তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে মাদকের ভয়াল থাবায় জড়িয়ে পড়ে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাতেন।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, পাখির এই মাদক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে নেপথ্যে কাজ করেছে একটি শক্তিশালী আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা চক্র। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা, কথিত রাজনৈতিক নেতা, সুবিধাভোগী কোটাবাজ এবং নামধারী সাংবাদিক নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে পাখিকে রক্ষা করতো। অভিযোগ রয়েছে, মাস শেষে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এসব অসাধু চক্র পাখির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দিতো। ফলে বছরের পর বছর ধরেই পাখি এলাকাজুড়ে মাদকের নেটওয়ার্ক বিস্তার করতে সক্ষম হয়। স্থানীয়রা মনে করছেন, শুধু পাখিকে গ্রেফতার করলেই হবে না, যারা তাকে পেছন থেকে শক্তি যুগিয়েছে এবং সমাজ ধ্বংসের এই খেলায় সহযোগিতা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

পাখি আক্তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রঙ্গিপাড়া এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় যুবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আনন্দ প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণ করেন। কেউ কেউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে র‍্যাব সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। একাধিক বাসিন্দা বলেন, “বহু বছর ধরে আমরা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করেছি। এলাকার পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেরা মাদকে জড়িয়ে পড়ছিল। আজ মনে হচ্ছে, অবশেষে অন্ধকারের বিরুদ্ধে একটা বড় আঘাত এসেছে।”

আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “পাখির কারণে পুরো এলাকা বদনামের কেন্দ্র হয়ে গিয়েছিল। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হতো, কিন্তু কেউ কিছু বলার সাহস পেত না। আজ এলাকাবাসী স্বস্তি পেয়েছে। তবে যারা এতদিন তাকে আশ্রয় দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।”
সচেতন মহল বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান যথেষ্ট নয়, বরং পুরো সিন্ডিকেট ও গডফাদারদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ মাঠপর্যায়ের কারবারিদের পেছনে থেকে যারা অর্থ, ক্ষমতা ও প্রভাবের জোরে এসব অপরাধ চালিয়ে যেতে সাহায্য করে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা কঠিন হবে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন। তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো মাদক কারবারি কিংবা তাদের আশ্রয়দাতাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হারায়ে খুঁজি

হালিশহরে শীর্ষ ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ পাখির আস্তানা গুড়িয়ে দিল র‍্যাব ৭ চট্টগ্রাম

আপডেট সময় : 08:05:25 pm, Friday, 15 May 2026

ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম,

চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানাধীন রঙ্গিপাড়া রমনা আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ভয়ঙ্কর মাদক সাম্রাজ্যের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী পাখি আক্তার অবশেষে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের জালে ধরা পড়েছে। বহু বছর ধরে এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেট গঠন, যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত এই পাখিকে গ্রেফতারের পর এলাকাজুড়ে স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, কোথাও কোথাও মিষ্টি বিতরণ করেও আনন্দ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিনের আতঙ্ক, ভয় আর অসহায়ত্বের পর সাধারণ মানুষ বলছেন “অবশেষে হালিশহর একটু হলেও শান্তি পেল।”

র‍্যাব-৭ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, হালিশহর থানাধীন রঙ্গিপাড়া রমনা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে বিপুল পরিমাণ গাঁজা মজুদ করে খুচরা বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৪ মে ২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি বিশেষ আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জাহাঙ্গীর আলমের তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। ফ্ল্যাটের দরজায় নক করলে এক নারী দরজা খুলে দেয়। পরে র‍্যাব সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, কয়েকজন নারী-পুরুষ মিলে রুমের মেঝেতে বসে বড় বড় গাঁজার প্যাকেট খুলে ডিজিটাল ওজন মেশিনের সাহায্যে মেপে ছোট ছোট পুরিয়া তৈরি করছে।

ঘটনাস্থল থেকেই র‍্যাব সদস্যরা কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী পাখি আক্তারসহ মোট ৬ জনকে আটক করতে সক্ষম হন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পাখি আক্তার (৩৫), মোঃ ফারুক (২৬), ফারজানা বেগম (২৬), মোঃ হানিফ মিয়া (২৭), শেখ ফরিদ (৩০) ও শাহানা বেগম (৫০)। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১১ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য জব্দ করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হালিশহর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাখি আক্তার শুধু একজন সাধারণ মাদক ব্যবসায়ী নয়, বরং সে ছিল পুরো এলাকার একটি ভয়ঙ্কর মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা, অভিযোগ এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনার তথ্য। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, রঙ্গিপাড়া, রমনা আবাসিক এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চলতো। সন্ধ্যার পর এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল পর্যন্ত কমে যেত। তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে মাদকের ভয়াল থাবায় জড়িয়ে পড়ে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাতেন।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, পাখির এই মাদক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে নেপথ্যে কাজ করেছে একটি শক্তিশালী আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা চক্র। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা, কথিত রাজনৈতিক নেতা, সুবিধাভোগী কোটাবাজ এবং নামধারী সাংবাদিক নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে পাখিকে রক্ষা করতো। অভিযোগ রয়েছে, মাস শেষে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এসব অসাধু চক্র পাখির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দিতো। ফলে বছরের পর বছর ধরেই পাখি এলাকাজুড়ে মাদকের নেটওয়ার্ক বিস্তার করতে সক্ষম হয়। স্থানীয়রা মনে করছেন, শুধু পাখিকে গ্রেফতার করলেই হবে না, যারা তাকে পেছন থেকে শক্তি যুগিয়েছে এবং সমাজ ধ্বংসের এই খেলায় সহযোগিতা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

পাখি আক্তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রঙ্গিপাড়া এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় যুবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আনন্দ প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণ করেন। কেউ কেউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে র‍্যাব সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। একাধিক বাসিন্দা বলেন, “বহু বছর ধরে আমরা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করেছি। এলাকার পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেরা মাদকে জড়িয়ে পড়ছিল। আজ মনে হচ্ছে, অবশেষে অন্ধকারের বিরুদ্ধে একটা বড় আঘাত এসেছে।”

আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “পাখির কারণে পুরো এলাকা বদনামের কেন্দ্র হয়ে গিয়েছিল। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হতো, কিন্তু কেউ কিছু বলার সাহস পেত না। আজ এলাকাবাসী স্বস্তি পেয়েছে। তবে যারা এতদিন তাকে আশ্রয় দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।”
সচেতন মহল বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান যথেষ্ট নয়, বরং পুরো সিন্ডিকেট ও গডফাদারদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ মাঠপর্যায়ের কারবারিদের পেছনে থেকে যারা অর্থ, ক্ষমতা ও প্রভাবের জোরে এসব অপরাধ চালিয়ে যেতে সাহায্য করে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা কঠিন হবে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন। তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো মাদক কারবারি কিংবা তাদের আশ্রয়দাতাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”