Dhaka , Monday, 20 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ওআইসি দেশগুলোর উদ্যোগে ১০০০ দুর্গতের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক, আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর: ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল সীতাকুণ্ডে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার পথে বাধার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে STP Association-এর প্রতিবাদ পূবাইলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সরাইলে জিহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ মধুপুরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে নিষিদ্ধ চায়না জাল ধ্বংস রূপগঞ্জে বালুবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধ নিহত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার করা হবে:- চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পাইকগাছায় জুলাই শহীদদের স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা পাইকগাছায় ৪ লাখ প্রাকৃতিক উৎসের চিংড়ি পিএল জব্দ; নদীতে অবমুক্ত পাইকগাছায় কুটির শিল্পের সাফল্যের গল্প: মাদুর বুনে স্বাবলম্বী গ্রামের অর্ধেক মানুষ বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষ্যে ঢাকায় কনসার্ট, মঞ্চ মাতাবেন সঞ্জয় দেব ও প্রীতম হাসান ইয়ামালকে নিয়ে স্বস্তির খবর জানাল স্পেন কুয়েতে দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা হালাল সনদ পেতে ঘুষ ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ ব্যবসায়ীদের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল প্রতিটি ক্যাম্পে নিরাপদ পানি, ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হবে: আমিনুল হক রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের নতুন প্রশাসক নূর নবী ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স কার্যক্রমের নেতৃত্বে শাহ ইউসুফকে নিয়োগ দিল বৈশ্বিক ফিনটেক প্রতিষ্ঠান লেমফাই রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতায় লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তিতে \ বেদখল খাল উদ্ধার ও সংস্কারের দাবি মধুপুরে গোসল করতে গিয়ে আদিবাসী যুবকের মৃত্যু চন্দনাইশ সমিতি-ইউএই এর উদ্যোগে মেহনতী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ লিজেন্ড ফাউন্ডেশনের ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন: সভাপতি আশরাফুর, সম্পাদক রবিন পাইকগাছায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান; ইয়াবা সহ আটক – ১ জনগণই দেশের মালিক, প্রধানমন্ত্রীর ব্রত বৈষম্যহীন মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়া:- ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল নিখোঁজের একদিন পর পুকুরে পাওয়া গেল তুহিন সরদারের মরদেহ প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে চরভদ্রাসনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন। জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে শিশুর মৃত্যু নোয়াখালীতে দুই চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

হালিশহরে শীর্ষ ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ পাখির আস্তানা গুড়িয়ে দিল র‍্যাব ৭ চট্টগ্রাম

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:05:25 pm, Friday, 15 May 2026
  • 47 বার পড়া হয়েছে

ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম,

চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানাধীন রঙ্গিপাড়া রমনা আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ভয়ঙ্কর মাদক সাম্রাজ্যের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী পাখি আক্তার অবশেষে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের জালে ধরা পড়েছে। বহু বছর ধরে এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেট গঠন, যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত এই পাখিকে গ্রেফতারের পর এলাকাজুড়ে স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, কোথাও কোথাও মিষ্টি বিতরণ করেও আনন্দ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিনের আতঙ্ক, ভয় আর অসহায়ত্বের পর সাধারণ মানুষ বলছেন “অবশেষে হালিশহর একটু হলেও শান্তি পেল।”

র‍্যাব-৭ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, হালিশহর থানাধীন রঙ্গিপাড়া রমনা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে বিপুল পরিমাণ গাঁজা মজুদ করে খুচরা বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৪ মে ২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি বিশেষ আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জাহাঙ্গীর আলমের তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। ফ্ল্যাটের দরজায় নক করলে এক নারী দরজা খুলে দেয়। পরে র‍্যাব সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, কয়েকজন নারী-পুরুষ মিলে রুমের মেঝেতে বসে বড় বড় গাঁজার প্যাকেট খুলে ডিজিটাল ওজন মেশিনের সাহায্যে মেপে ছোট ছোট পুরিয়া তৈরি করছে।

ঘটনাস্থল থেকেই র‍্যাব সদস্যরা কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী পাখি আক্তারসহ মোট ৬ জনকে আটক করতে সক্ষম হন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পাখি আক্তার (৩৫), মোঃ ফারুক (২৬), ফারজানা বেগম (২৬), মোঃ হানিফ মিয়া (২৭), শেখ ফরিদ (৩০) ও শাহানা বেগম (৫০)। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১১ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য জব্দ করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হালিশহর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাখি আক্তার শুধু একজন সাধারণ মাদক ব্যবসায়ী নয়, বরং সে ছিল পুরো এলাকার একটি ভয়ঙ্কর মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা, অভিযোগ এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনার তথ্য। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, রঙ্গিপাড়া, রমনা আবাসিক এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চলতো। সন্ধ্যার পর এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল পর্যন্ত কমে যেত। তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে মাদকের ভয়াল থাবায় জড়িয়ে পড়ে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাতেন।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, পাখির এই মাদক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে নেপথ্যে কাজ করেছে একটি শক্তিশালী আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা চক্র। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা, কথিত রাজনৈতিক নেতা, সুবিধাভোগী কোটাবাজ এবং নামধারী সাংবাদিক নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে পাখিকে রক্ষা করতো। অভিযোগ রয়েছে, মাস শেষে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এসব অসাধু চক্র পাখির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দিতো। ফলে বছরের পর বছর ধরেই পাখি এলাকাজুড়ে মাদকের নেটওয়ার্ক বিস্তার করতে সক্ষম হয়। স্থানীয়রা মনে করছেন, শুধু পাখিকে গ্রেফতার করলেই হবে না, যারা তাকে পেছন থেকে শক্তি যুগিয়েছে এবং সমাজ ধ্বংসের এই খেলায় সহযোগিতা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

পাখি আক্তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রঙ্গিপাড়া এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় যুবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আনন্দ প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণ করেন। কেউ কেউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে র‍্যাব সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। একাধিক বাসিন্দা বলেন, “বহু বছর ধরে আমরা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করেছি। এলাকার পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেরা মাদকে জড়িয়ে পড়ছিল। আজ মনে হচ্ছে, অবশেষে অন্ধকারের বিরুদ্ধে একটা বড় আঘাত এসেছে।”

আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “পাখির কারণে পুরো এলাকা বদনামের কেন্দ্র হয়ে গিয়েছিল। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হতো, কিন্তু কেউ কিছু বলার সাহস পেত না। আজ এলাকাবাসী স্বস্তি পেয়েছে। তবে যারা এতদিন তাকে আশ্রয় দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।”
সচেতন মহল বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান যথেষ্ট নয়, বরং পুরো সিন্ডিকেট ও গডফাদারদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ মাঠপর্যায়ের কারবারিদের পেছনে থেকে যারা অর্থ, ক্ষমতা ও প্রভাবের জোরে এসব অপরাধ চালিয়ে যেতে সাহায্য করে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা কঠিন হবে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন। তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো মাদক কারবারি কিংবা তাদের আশ্রয়দাতাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ওআইসি দেশগুলোর উদ্যোগে ১০০০ দুর্গতের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

হালিশহরে শীর্ষ ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ পাখির আস্তানা গুড়িয়ে দিল র‍্যাব ৭ চট্টগ্রাম

আপডেট সময় : 08:05:25 pm, Friday, 15 May 2026

ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম,

চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানাধীন রঙ্গিপাড়া রমনা আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ভয়ঙ্কর মাদক সাম্রাজ্যের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী পাখি আক্তার অবশেষে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের জালে ধরা পড়েছে। বহু বছর ধরে এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেট গঠন, যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত এই পাখিকে গ্রেফতারের পর এলাকাজুড়ে স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, কোথাও কোথাও মিষ্টি বিতরণ করেও আনন্দ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিনের আতঙ্ক, ভয় আর অসহায়ত্বের পর সাধারণ মানুষ বলছেন “অবশেষে হালিশহর একটু হলেও শান্তি পেল।”

র‍্যাব-৭ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, হালিশহর থানাধীন রঙ্গিপাড়া রমনা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে বিপুল পরিমাণ গাঁজা মজুদ করে খুচরা বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৪ মে ২০২৬ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি বিশেষ আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জাহাঙ্গীর আলমের তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। ফ্ল্যাটের দরজায় নক করলে এক নারী দরজা খুলে দেয়। পরে র‍্যাব সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, কয়েকজন নারী-পুরুষ মিলে রুমের মেঝেতে বসে বড় বড় গাঁজার প্যাকেট খুলে ডিজিটাল ওজন মেশিনের সাহায্যে মেপে ছোট ছোট পুরিয়া তৈরি করছে।

ঘটনাস্থল থেকেই র‍্যাব সদস্যরা কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী পাখি আক্তারসহ মোট ৬ জনকে আটক করতে সক্ষম হন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পাখি আক্তার (৩৫), মোঃ ফারুক (২৬), ফারজানা বেগম (২৬), মোঃ হানিফ মিয়া (২৭), শেখ ফরিদ (৩০) ও শাহানা বেগম (৫০)। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১১ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য জব্দ করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হালিশহর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাখি আক্তার শুধু একজন সাধারণ মাদক ব্যবসায়ী নয়, বরং সে ছিল পুরো এলাকার একটি ভয়ঙ্কর মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা, অভিযোগ এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনার তথ্য। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, রঙ্গিপাড়া, রমনা আবাসিক এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চলতো। সন্ধ্যার পর এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল পর্যন্ত কমে যেত। তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে মাদকের ভয়াল থাবায় জড়িয়ে পড়ে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাতেন।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, পাখির এই মাদক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে নেপথ্যে কাজ করেছে একটি শক্তিশালী আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা চক্র। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা, কথিত রাজনৈতিক নেতা, সুবিধাভোগী কোটাবাজ এবং নামধারী সাংবাদিক নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে পাখিকে রক্ষা করতো। অভিযোগ রয়েছে, মাস শেষে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এসব অসাধু চক্র পাখির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দিতো। ফলে বছরের পর বছর ধরেই পাখি এলাকাজুড়ে মাদকের নেটওয়ার্ক বিস্তার করতে সক্ষম হয়। স্থানীয়রা মনে করছেন, শুধু পাখিকে গ্রেফতার করলেই হবে না, যারা তাকে পেছন থেকে শক্তি যুগিয়েছে এবং সমাজ ধ্বংসের এই খেলায় সহযোগিতা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

পাখি আক্তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রঙ্গিপাড়া এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় যুবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আনন্দ প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণ করেন। কেউ কেউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে র‍্যাব সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। একাধিক বাসিন্দা বলেন, “বহু বছর ধরে আমরা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করেছি। এলাকার পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেরা মাদকে জড়িয়ে পড়ছিল। আজ মনে হচ্ছে, অবশেষে অন্ধকারের বিরুদ্ধে একটা বড় আঘাত এসেছে।”

আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “পাখির কারণে পুরো এলাকা বদনামের কেন্দ্র হয়ে গিয়েছিল। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হতো, কিন্তু কেউ কিছু বলার সাহস পেত না। আজ এলাকাবাসী স্বস্তি পেয়েছে। তবে যারা এতদিন তাকে আশ্রয় দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।”
সচেতন মহল বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান যথেষ্ট নয়, বরং পুরো সিন্ডিকেট ও গডফাদারদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ মাঠপর্যায়ের কারবারিদের পেছনে থেকে যারা অর্থ, ক্ষমতা ও প্রভাবের জোরে এসব অপরাধ চালিয়ে যেতে সাহায্য করে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা কঠিন হবে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন। তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো মাদক কারবারি কিংবা তাদের আশ্রয়দাতাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”