Dhaka , Saturday, 7 February 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ভোটকেন্দ্র দখলের যেকোনো অপচেষ্টায় শক্ত হাতে প্রতিরোধের আহ্বান জামায়াত আমিরের ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলায় চৌরঙ্গী বাজারে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে  রামগঞ্জে পুলিশের দাপট, বেড়া দিয়ে একমাস যাবত অবরুদ্ধ করে রেখেছে একটি পরিবার সকলকে সম্পৃক্ত করে  হাটহাজারীর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই:- মীর হেলাল। আলেম সমাজ বিএনপির পাশে, ব্যালেটেই মিলবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রমাণ: সালাহউদ্দিন আহমদ শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে যমুনার সামনে ছাত্র-জনতার অবস্থান উপকূলীয় পাবলিক লাইব্রেরিতে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস পালিত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ফলক উদ্ধার ঈদগাঁওতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী আটক শ্রীপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রবাসী যুবকের মৃত্যু কলোনি’ নয় এখন থেকে ‘শহীদ শাহজাহান নিবাস’; ভাড়াটিয়া প্রার্থী দিয়ে লালমনিরহাটকে অপমান করা হয়েছে: আসাদুল হাবিব দুলু ইবিতে বর্ণাঢ্য সাইকেল র‍্যালি ও সমাবেশ ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গণভোটের মাধ্যমেই নির্ধারণ হবে আগামীর বাংলাদেশ ইনসাফ নাকি জুলুমের পথে চলবে: আল্লামা মামুনুল হক রূপগঞ্জে ধানের শীষের পক্ষে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ চন্দনাইশে দোহাজারীতে অবৈধ রোহিঙ্গা কলোনীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৩৪৫ জন নারী পুরুষ আটক বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে দেশ দুর্নীতিতে ৫বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে: সৈয়দ রেজাউল করীম আগামীকাল শুক্রবার ঝালকাঠি আসছেন জামায়াত আমির, অর্ধলক্ষাধিক মানুষের জনসমাগমের প্রস্তুতি আশুলিয়ায় ৭ হত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল রায়: ৬ মৃত্যুদণ্ড, ৮ সাজা তুরাগ নদে শিল্পবর্জ্যের আগ্রাসন: বিষাক্ত পানিতে দুর্বল মাছ, সহজ শিকারে জেলেদের হিড়িক মধুপুরে বিএনপির এমপি প্রার্থী স্বপন ফকিরের গণমিছিল নবীগঞ্জে সেনাবাহিনীর অভিযানে ইয়াবাসহ চারজন আটক নারায়ণগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় গণজোয়ার। কেউ ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে—মাও: আবুল কালাম আজাদ পাইকগাছা-কয়রায় জেলা ওলামা দলের ধানের শীষের জনসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ ফ্রান্স দূতাবাসের রাজনৈতিক কাউন্সিলরের সাথে মতবিনিময়কালে ডা. শাহাদাত হোসেন মধুপুরে গারোদের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির প্রতিশ্রুতি দিলেন ডা. কাফি বরকল ইউনিয়নের কানাইমাদারী’র ছালেহ্ আহমেদ এর শেষ বিদায়” নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান:- বেতার–টেলিভিশন ও সংস্কৃতির কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সন্দ্বীপে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ ২ দুস্কৃতিকারী আটক

হাটহাজারীতে জুনায়েদ বাবুনগরীর জীবন,কর্ম ও অবদান শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:27:47 pm, Saturday, 13 September 2025
  • 142 বার পড়া হয়েছে
মোঃ আবু তৈয়ব, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
  বৃহস্পতিবার ( ১১ই সেপ্টেম্বর) দেশের প্রথিতযশা আলেম সাবেক হেফাজত আমীর ও হাটহাজারী মাদরাসার সাবেক শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহঃ) এর জীবন,কর্ম ও অবদান শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুফতী খলিল আহমদ কাসেমীর সভাপতিত্বে ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহঃ) স্মারক প্রকাশনা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় হাটহাজারী ডাক বাংলো চত্বরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
আলোচনা সভায় বক্তারা আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. এর পারিবারিক পরিচিতি,তাঁর শিক্ষা-দীক্ষা,শৈশব,হাদিস শাস্ত্রে তাঁর বিশেষ অবদান,হাটহাজারীতে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন,ধর্মীয় নানা ইস্যুতে তাঁর আন্দোলন-সংগ্রাম-আপোষহীনতা,বিশেষত আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে তাঁর অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে মুসলিম উম্মাহর দুর্দিনের রাহবার উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন,২০১৩ সালে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতের অবস্থান কর্মসূচিতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্দেশে তার লেলিয়ে দেয়া পেটোয়া বাহিনী যখন সরাসরি গুলি করছিল তখনও তিনি সরাসরি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। নির্ভীকভাবে পুরো ঘটনাপ্রবাহে তিনি ছিলেন অবিচল।শাপলা চত্বর গণহত্যা পরবর্তী সময়ে এক শ্রেণীর নেতৃবৃন্দ যখন আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে আপোষ ও সমঝোতার দিকে ঝুঁকে পড়েন। আওয়ামী সরকারের সাথে সে সময়ে হেফাজতের সেইসব নেতৃবৃন্দের একটা সখ্যতা তৈরি হয়েছিল।কিন্তু আপোষ ও সমঝোতার ওই সময়টাতে জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ:) ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি ছিলেন জালিমের বিরুদ্ধে সরব,প্রতিবাদমুখর ও আপোষহীন। তিনি ২০১৩ সালে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতের অবস্থান কর্মসূচিতে হামলার কারণে আওয়ামী সরকারকে দায়ী করেছেন। জনগণকে সরকারের মিথ্যা গালগল্প আর কওমি সনদের ধোঁকায় বিভ্রান্ত না হয়ে সত্যের উপর অটল থাকতে পরামর্শ দিয়েছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতী খলিল আহমদ কাসেমী বলেন,আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ছিলেন একজন বরেণ্য আলিমে দ্বীন, ইসলামের বিশুদ্ধ চিন্তা-চেতনাধারী মধ্যপন্থার অনুসারী। তাঁর কথা ও আচরণে প্রান্তিকতার ছাপ ছিল না। অত্যন্ত সাদাসিধে জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন তিনি। ভাবগম্ভীর পরিবেশে কথা বলতেন। সবসময় আল্লাহর স্মরণ ও উম্মাহর চিন্তায় বিভোর থাকতেন। অযথা সময় নষ্ট করতেন না। ইলমে হাদিস শাস্ত্রের খেদমত ও দ্বীনের প্রচার ও প্রসার ছিল তাঁর জীবনের মিশন।
তাঁকে স্বর্ণযুগের আলেমের প্রতিচ্ছবি উল্লেখ করে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আল্লামা মামুনুল হক বলেন,আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. ছিলেন সালফে সালেহিন তথা স্বর্ণযুগের আলেমদের প্রতিচ্ছবি। ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানের ইতিহাস দেখলে প্রতীয়মান হয় যে, এমন আলেম ইতিহাসে খুব কমই এসেছেন যাঁদের মধ্যে গভীর ইলম, আমল, জিহাদ, তাজদিদ তথা ইসলামের সংস্কার, গোমরাহ ফিরকার মোকাবেলাসহ ইত্যকার গুণাবলির সমাগম ঘটেছিল। আল্লামা বাবুনগরী রহ. ইতিহাসের সেই ক্ষনজন্মা বিরল ব্যাক্তিদের মধ্যে একজন ছিলেন যাঁরা এইসব গুণে গুণান্বিত ছিলেন। আল্লামা বাবুনগরীকে দেখলে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মোবারক, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এর কথা স্মরণ হতো। সম্রাট আকবের দ্বীনে ইলাহির মোকাবেলায় যেরকম মুজাদ্দিদে আলফেসানী রহ. সীসা ঢালা প্রাচিরের মতো দাঁড়িয়েছিলেন, শাহ্ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি রহ. যেমন পতন্মোখ মোঘল সাম্রাজ্যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠা ধর্মহীনতা ও যাবতীয় পাপাচারের লাগাম টেনে ধরেছিলেন, বালাকোটে যেমন সাইয়েদ আহমাদ শহীদ এবং ইসমাইল শহীদ রহ. বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশকে দখলদারমুক্ত করতে চেয়েছিলেন, শামেলির যুদ্ধে যেমন বালাকোটের অসম্পূর্ণ কাজকে পূর্ণতা দান করতে ভারতবর্ষের উলামায়ে কেরাম আরেকবার শাহাদাতের নজরানা পেশ করেছিলেন, আল্লামা বাবুনগরী রহ.ও তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ইসলামবিরোধী যাবতীয় অপশক্তির বিরুদ্ধে আমরণ সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছিলেন। জেল জুলুম সহ্য করেছেন, কিন্তু একটুও পিছপা হননি। তাঁর মধ্যে সন্নিবেশ ঘটেছিল হাজী এমাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কীর এশকে এলাহী, হযরত গঙ্গুহীর প্রখর ইলম, হযরত নানুতবীর হিকমতের মতো বহু বিরল গুণ। নিকট অতীতের কোন আলেমের মধ্যে এইরূপ বহুগুণের সমারোহ আরও কোন আলেমের মধ্যে দেখা যায়নি।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন পটিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা আবু তাহের নদভী,নানুপুর ওবাইদিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী,হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র মুফতী ও মুহাদ্দিস মুবাল্লিগে ইসলাম আল্লামা মুফতী জসিম উদ্দিন,হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষা সচিব আল্লামা মুফতী কিফায়াতুল্লাহ,নাজিরহাট বড় মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতী হাবিবুর রহমান কাসেমী,চারিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা ওসমান সাঈদী,মাওলানা জহুরুল ইসলাম,মাওলানা মীর কাসেম,মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী,মাওলানা যুবাইর বাবুনগরী,মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী,মুফতী কুতুব উদ্দিন,মুফতী হারুন ইজহার,মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির,মাওলানা মীর ইদরিস নদভী,মাওলানা জাফর আহমদ,জনাব আহসান উল্লাহ,মাওলানা ফরিদ আহমদ আনসারী,মাওলানা হারুন আজীজি নদভী,মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী।
মাওলানা আনোয়ার শাহ আযহারী,মাওলানা কামরুল ইসলাম কাসেমী,মুফতী মুহাম্মদ বাবুনগরী ও মাওলানা নিজাম সাইয়্যিদ,মাওলানা ইরফান সাদেকের যৌথ সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন মাওলানা নূর হোসাইন নূরানী,মুফতী আজহারুল ইসলাম,মাওলানা ওয়াহিদুল আলম,মাওলানা শরীফ উল্লাহ,মাওলানা ইলিয়াস হামিদী,ড. নূরুল আবছার আযহারী,ড. বেলাল নূর আজিজী,ড.ফরিদ উদ্দিন ফারুক, মাওলানা আব্দুল্লাহ,মাওলানা মাহমুদুল হাসান গুনবী,মুফতী ওসমান সাদেক,মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ নোমানী,মাওলানা মাহমুদ হোসাইন,মুফতী শওকত,মাওলানা হাফেজ মোস্তফা,মাওলানা এমরান সিকদার,মুফতী আব্দুল হামিদ,মাওলানা নোমান আযহারী,মাওলানা ইন’আমুল হাসান ফারুকী,মাওলানা ইরফান শাহ,মাওলানা আবু বকর,মুফতী মাসউদুর রহমান চৌধুরী,জনাব মোরশেদ আলম,মাওলানা হাফেজ আব্দুল মাবুদ,মাওলানা আসাদ উল্লাহ প্রমূখ আলেমগণ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটকেন্দ্র দখলের যেকোনো অপচেষ্টায় শক্ত হাতে প্রতিরোধের আহ্বান জামায়াত আমিরের

হাটহাজারীতে জুনায়েদ বাবুনগরীর জীবন,কর্ম ও অবদান শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : 07:27:47 pm, Saturday, 13 September 2025
মোঃ আবু তৈয়ব, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
  বৃহস্পতিবার ( ১১ই সেপ্টেম্বর) দেশের প্রথিতযশা আলেম সাবেক হেফাজত আমীর ও হাটহাজারী মাদরাসার সাবেক শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহঃ) এর জীবন,কর্ম ও অবদান শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুফতী খলিল আহমদ কাসেমীর সভাপতিত্বে ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহঃ) স্মারক প্রকাশনা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় হাটহাজারী ডাক বাংলো চত্বরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
আলোচনা সভায় বক্তারা আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. এর পারিবারিক পরিচিতি,তাঁর শিক্ষা-দীক্ষা,শৈশব,হাদিস শাস্ত্রে তাঁর বিশেষ অবদান,হাটহাজারীতে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন,ধর্মীয় নানা ইস্যুতে তাঁর আন্দোলন-সংগ্রাম-আপোষহীনতা,বিশেষত আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে তাঁর অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে মুসলিম উম্মাহর দুর্দিনের রাহবার উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন,২০১৩ সালে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতের অবস্থান কর্মসূচিতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্দেশে তার লেলিয়ে দেয়া পেটোয়া বাহিনী যখন সরাসরি গুলি করছিল তখনও তিনি সরাসরি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। নির্ভীকভাবে পুরো ঘটনাপ্রবাহে তিনি ছিলেন অবিচল।শাপলা চত্বর গণহত্যা পরবর্তী সময়ে এক শ্রেণীর নেতৃবৃন্দ যখন আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে আপোষ ও সমঝোতার দিকে ঝুঁকে পড়েন। আওয়ামী সরকারের সাথে সে সময়ে হেফাজতের সেইসব নেতৃবৃন্দের একটা সখ্যতা তৈরি হয়েছিল।কিন্তু আপোষ ও সমঝোতার ওই সময়টাতে জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ:) ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি ছিলেন জালিমের বিরুদ্ধে সরব,প্রতিবাদমুখর ও আপোষহীন। তিনি ২০১৩ সালে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতের অবস্থান কর্মসূচিতে হামলার কারণে আওয়ামী সরকারকে দায়ী করেছেন। জনগণকে সরকারের মিথ্যা গালগল্প আর কওমি সনদের ধোঁকায় বিভ্রান্ত না হয়ে সত্যের উপর অটল থাকতে পরামর্শ দিয়েছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতী খলিল আহমদ কাসেমী বলেন,আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ছিলেন একজন বরেণ্য আলিমে দ্বীন, ইসলামের বিশুদ্ধ চিন্তা-চেতনাধারী মধ্যপন্থার অনুসারী। তাঁর কথা ও আচরণে প্রান্তিকতার ছাপ ছিল না। অত্যন্ত সাদাসিধে জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন তিনি। ভাবগম্ভীর পরিবেশে কথা বলতেন। সবসময় আল্লাহর স্মরণ ও উম্মাহর চিন্তায় বিভোর থাকতেন। অযথা সময় নষ্ট করতেন না। ইলমে হাদিস শাস্ত্রের খেদমত ও দ্বীনের প্রচার ও প্রসার ছিল তাঁর জীবনের মিশন।
তাঁকে স্বর্ণযুগের আলেমের প্রতিচ্ছবি উল্লেখ করে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে আল্লামা মামুনুল হক বলেন,আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. ছিলেন সালফে সালেহিন তথা স্বর্ণযুগের আলেমদের প্রতিচ্ছবি। ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানের ইতিহাস দেখলে প্রতীয়মান হয় যে, এমন আলেম ইতিহাসে খুব কমই এসেছেন যাঁদের মধ্যে গভীর ইলম, আমল, জিহাদ, তাজদিদ তথা ইসলামের সংস্কার, গোমরাহ ফিরকার মোকাবেলাসহ ইত্যকার গুণাবলির সমাগম ঘটেছিল। আল্লামা বাবুনগরী রহ. ইতিহাসের সেই ক্ষনজন্মা বিরল ব্যাক্তিদের মধ্যে একজন ছিলেন যাঁরা এইসব গুণে গুণান্বিত ছিলেন। আল্লামা বাবুনগরীকে দেখলে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মোবারক, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এর কথা স্মরণ হতো। সম্রাট আকবের দ্বীনে ইলাহির মোকাবেলায় যেরকম মুজাদ্দিদে আলফেসানী রহ. সীসা ঢালা প্রাচিরের মতো দাঁড়িয়েছিলেন, শাহ্ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি রহ. যেমন পতন্মোখ মোঘল সাম্রাজ্যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠা ধর্মহীনতা ও যাবতীয় পাপাচারের লাগাম টেনে ধরেছিলেন, বালাকোটে যেমন সাইয়েদ আহমাদ শহীদ এবং ইসমাইল শহীদ রহ. বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশকে দখলদারমুক্ত করতে চেয়েছিলেন, শামেলির যুদ্ধে যেমন বালাকোটের অসম্পূর্ণ কাজকে পূর্ণতা দান করতে ভারতবর্ষের উলামায়ে কেরাম আরেকবার শাহাদাতের নজরানা পেশ করেছিলেন, আল্লামা বাবুনগরী রহ.ও তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ইসলামবিরোধী যাবতীয় অপশক্তির বিরুদ্ধে আমরণ সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছিলেন। জেল জুলুম সহ্য করেছেন, কিন্তু একটুও পিছপা হননি। তাঁর মধ্যে সন্নিবেশ ঘটেছিল হাজী এমাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কীর এশকে এলাহী, হযরত গঙ্গুহীর প্রখর ইলম, হযরত নানুতবীর হিকমতের মতো বহু বিরল গুণ। নিকট অতীতের কোন আলেমের মধ্যে এইরূপ বহুগুণের সমারোহ আরও কোন আলেমের মধ্যে দেখা যায়নি।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন পটিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা আবু তাহের নদভী,নানুপুর ওবাইদিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী,হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র মুফতী ও মুহাদ্দিস মুবাল্লিগে ইসলাম আল্লামা মুফতী জসিম উদ্দিন,হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষা সচিব আল্লামা মুফতী কিফায়াতুল্লাহ,নাজিরহাট বড় মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতী হাবিবুর রহমান কাসেমী,চারিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা ওসমান সাঈদী,মাওলানা জহুরুল ইসলাম,মাওলানা মীর কাসেম,মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী,মাওলানা যুবাইর বাবুনগরী,মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী,মুফতী কুতুব উদ্দিন,মুফতী হারুন ইজহার,মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির,মাওলানা মীর ইদরিস নদভী,মাওলানা জাফর আহমদ,জনাব আহসান উল্লাহ,মাওলানা ফরিদ আহমদ আনসারী,মাওলানা হারুন আজীজি নদভী,মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী।
মাওলানা আনোয়ার শাহ আযহারী,মাওলানা কামরুল ইসলাম কাসেমী,মুফতী মুহাম্মদ বাবুনগরী ও মাওলানা নিজাম সাইয়্যিদ,মাওলানা ইরফান সাদেকের যৌথ সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন মাওলানা নূর হোসাইন নূরানী,মুফতী আজহারুল ইসলাম,মাওলানা ওয়াহিদুল আলম,মাওলানা শরীফ উল্লাহ,মাওলানা ইলিয়াস হামিদী,ড. নূরুল আবছার আযহারী,ড. বেলাল নূর আজিজী,ড.ফরিদ উদ্দিন ফারুক, মাওলানা আব্দুল্লাহ,মাওলানা মাহমুদুল হাসান গুনবী,মুফতী ওসমান সাদেক,মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ নোমানী,মাওলানা মাহমুদ হোসাইন,মুফতী শওকত,মাওলানা হাফেজ মোস্তফা,মাওলানা এমরান সিকদার,মুফতী আব্দুল হামিদ,মাওলানা নোমান আযহারী,মাওলানা ইন’আমুল হাসান ফারুকী,মাওলানা ইরফান শাহ,মাওলানা আবু বকর,মুফতী মাসউদুর রহমান চৌধুরী,জনাব মোরশেদ আলম,মাওলানা হাফেজ আব্দুল মাবুদ,মাওলানা আসাদ উল্লাহ প্রমূখ আলেমগণ।