Dhaka , Monday, 21 September 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
টেকনাফে বনভোজন শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, বিএনপি নেতার উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক বরিশালে কারখানার বর্জ্য ও নগরবাসীর পলিথিনে মরছে কীর্তনখোলা কালিয়াকৈরে হাফেজ আলীমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সুন্দরগঞ্জে পরপর তিন ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক সাতকানিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ২ ‘মক্কা জোট’ হবে এক যুগান্তকারী প্ল্যাটফর্ম: তুরস্ক কর আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির টম ক্রুজকে ফুটবল শেখালেন টেলর সুইফট, জানালেন কী কথা হয়েছিল রাজার ব্যাটে জিম্বাবুয়ের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গাজা ইস্যুতে মুখ খুললেন এড শিরান ১৯ দিনে এলো ২৩ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স অপ্রতিমের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ন্যায়বিচার চাইলেন জামায়াত আমির আইফোন ছাড়াও অপ্রতিমকে হত্যার আরও যেসব কারণ জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিদেশ যাত্রীর গাড়িতে ডাকাতি, আহত ২ স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত রামগঞ্জের ভোলাকোট ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ রূপগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লকডাউন ঠেকাতে বিএনপির বিক্ষোভ লায়ন্স হাসপাতালের উদ্যোগে আড়াইহাজারে বিনামূল্যে ছানি অপারেশন শ্রীপুরে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে ভুক্তভোগী নারী ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির সংবাদ সম্মেলন সুন্দর সমাজ গঠনে তরুণদের ক্রীড়ামুখী করার আহ্বান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর ইবিতে আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের উদ্যোগে সিলেটে বৃক্ষ পরিচর্যা ক্যান্সার এখন মহামারি: বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে যুবদল-ছাত্রদলের মিছিল সিদ্ধিরগঞ্জে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে যুবকের আত্মহত্যা পাইকগাছায় ডেঙ্গুর ছোবলে নিভে গেল অপুর জীবন পাইকগাছায় আদর্শ লাইব্রেরির উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে পল্লীকবি জসীম উদ্দীন স্মৃতি গোল্ড মেডেল স্কলারশীপ প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মিয়ানমারে পাচারকালে ১২ টন ইউরিয়া সার, রসুন-পেঁয়াজসহ আটক ১০ কর্ণফুলী ব্রিজ ও কেন্দ্রীয় কারাগারে দুটি ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার উদ্বোধন করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মাদকমুক্ত সমাজের বার্তা নিয়ে, দুর্গাপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

বেগম খালেদা জিয়া দেশের ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী হয়ে থাকবেন:- ডা. শাহাদাত হোসেন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:10:14 pm, Sunday, 4 January 2026
  • 213 বার পড়া হয়েছে

ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নানা দুর্যোগ, সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ে আজীবন দেশের মানুষের পাশে থাকা প্রয়াত মানবিক নেত্রী শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী হয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

তিনি রবিবার (৪ জানুয়ারী) দুপুরে কাজীর দেউরী ভিআইপি ব্যাংকুয়েটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতম, অসহায় এতিম ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।

সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মেয়র এতিম ও দুস্থদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে মেজবানে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি নিজ হাতে তাদের আপ্যায়ন করেন, সবার সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রয়োজন ও কষ্টের কথা শোনেন এবং সবসময় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন চসিকের মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা হারুনুর রশীদ চৌধুরী।

মেয়র বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ এক আপসহীন নেত্রী। ব্যক্তিজীবন ও রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি মানুষের দুঃখ কষ্টকে নিজের কষ্ট হিসেবে দেখেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সামাজিক সংকট কিংবা রাষ্ট্রীয় যে কোনো দুর্বিপাকে তিনি দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল মানবিকতা, সহমর্মিতা ও গণতন্ত্রের প্রতি অটল আস্থা।

তিনি আরও বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই চলতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ যে অপরিহার্য তিনি তা কর্ম ও উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন।

তিনি ছিলেন দেশের মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। তিনি বাংলাদেশকে শুধু ভালোবাসেননি, বাংলাদেশকে নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছিলেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশ ত্যাগ না করে তিনি বলেছিলেন, ‘বাঁচতে হলে বাংলাদেশে বাঁচবো, মরতেও হলে বাংলাদেশেই। এই কথাটাই প্রমাণ করে তাঁর দেশপ্রেম কতটা গভীর ও আন্তরিক ছিল।

মেয়র বলেন, ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে বর্বর হামলায় চিকিৎসকসহ তিনজন নিহত এবং বহু ছাত্র আহত হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রামে ছুটে আসেন। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান, নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। ১৯৯৭ সালের হামজারবাগ ভূমিকম্পের পরও তিনি চট্টগ্রাম সফর করেন। সে সময় মেডিকেলে প্রবেশের পথে তাঁর গাড়িবহরে বোমা হামলা, এমনকি তাঁকে লিফটে আটকে রাখার ঘটনা ঘটলেও তিনি তিন থেকে চার ঘণ্টা হাসপাতালে অবস্থান করে রোগীদের খোঁজখবর নেন।

মেয়র আরও বলেন, ২০০৮ সালে কারাবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তির পর তাঁকে বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠে অনুষ্ঠিত তাঁর মহাসমাবেশে তিনি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে শুধু একটি কথা বলেছিলেন, ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও।

তিনি বলেন, একই বছর আকবরশাহ পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেন এবং আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান। ২০১৩ সালে রামু ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও মন্দির পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনা দেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়নে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেখতে তিনি লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে দেশে ফিরে কক্সবাজার সফর করেন। কোনো সমাবেশে বক্তব্য না দিয়ে নিঃশব্দে মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

মেয়র বলেন, মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে তিনি তিন বাহিনীর সদস্যদের সম্প্রতি দেশে হওয়া ভূমিকম্পে আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন, এটাই ছিল তাঁর জীবনের শেষ মানবিক বার্তা।

অনুষ্ঠানের বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। উপস্থিত সবাই সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাস ও দরুদ শরিফ পাঠ করে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম ৯ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বেগম খালেদা জিয়া দেশের ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী হয়ে থাকবেন:- ডা. শাহাদাত হোসেন

আপডেট সময় : 08:10:14 pm, Sunday, 4 January 2026

ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নানা দুর্যোগ, সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ে আজীবন দেশের মানুষের পাশে থাকা প্রয়াত মানবিক নেত্রী শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ের নেত্রী হয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

তিনি রবিবার (৪ জানুয়ারী) দুপুরে কাজীর দেউরী ভিআইপি ব্যাংকুয়েটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতম, অসহায় এতিম ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।

সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মেয়র এতিম ও দুস্থদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে মেজবানে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি নিজ হাতে তাদের আপ্যায়ন করেন, সবার সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রয়োজন ও কষ্টের কথা শোনেন এবং সবসময় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন চসিকের মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা হারুনুর রশীদ চৌধুরী।

মেয়র বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ এক আপসহীন নেত্রী। ব্যক্তিজীবন ও রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি মানুষের দুঃখ কষ্টকে নিজের কষ্ট হিসেবে দেখেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সামাজিক সংকট কিংবা রাষ্ট্রীয় যে কোনো দুর্বিপাকে তিনি দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল মানবিকতা, সহমর্মিতা ও গণতন্ত্রের প্রতি অটল আস্থা।

তিনি আরও বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই চলতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ যে অপরিহার্য তিনি তা কর্ম ও উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন।

তিনি ছিলেন দেশের মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। তিনি বাংলাদেশকে শুধু ভালোবাসেননি, বাংলাদেশকে নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছিলেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশ ত্যাগ না করে তিনি বলেছিলেন, ‘বাঁচতে হলে বাংলাদেশে বাঁচবো, মরতেও হলে বাংলাদেশেই। এই কথাটাই প্রমাণ করে তাঁর দেশপ্রেম কতটা গভীর ও আন্তরিক ছিল।

মেয়র বলেন, ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে বর্বর হামলায় চিকিৎসকসহ তিনজন নিহত এবং বহু ছাত্র আহত হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রামে ছুটে আসেন। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান, নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। ১৯৯৭ সালের হামজারবাগ ভূমিকম্পের পরও তিনি চট্টগ্রাম সফর করেন। সে সময় মেডিকেলে প্রবেশের পথে তাঁর গাড়িবহরে বোমা হামলা, এমনকি তাঁকে লিফটে আটকে রাখার ঘটনা ঘটলেও তিনি তিন থেকে চার ঘণ্টা হাসপাতালে অবস্থান করে রোগীদের খোঁজখবর নেন।

মেয়র আরও বলেন, ২০০৮ সালে কারাবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তির পর তাঁকে বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠে অনুষ্ঠিত তাঁর মহাসমাবেশে তিনি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে শুধু একটি কথা বলেছিলেন, ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও।

তিনি বলেন, একই বছর আকবরশাহ পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেন এবং আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান। ২০১৩ সালে রামু ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও মন্দির পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনা দেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়নে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেখতে তিনি লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে দেশে ফিরে কক্সবাজার সফর করেন। কোনো সমাবেশে বক্তব্য না দিয়ে নিঃশব্দে মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

মেয়র বলেন, মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে তিনি তিন বাহিনীর সদস্যদের সম্প্রতি দেশে হওয়া ভূমিকম্পে আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন, এটাই ছিল তাঁর জীবনের শেষ মানবিক বার্তা।

অনুষ্ঠানের বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। উপস্থিত সবাই সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাস ও দরুদ শরিফ পাঠ করে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম ৯ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু প্রমুখ।