
সজল চন্দ্র রায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি,
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ৩ নম্বর লতা ইউনিয়নে জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এ উৎসবে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই চেতনাকে ধারণ করে লতা ইউনিয়নের কাঠামারী দুর্গামন্দিরে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়। উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবার অংশগ্রহণে এবারের দুর্গোৎসব লতা ইউনিয়নে সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ উপলক্ষে বক্তব্য দেন ৩ নম্বর লতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি গাজী আমিনুল ইসলাম বাহার। তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের এই প্রাণের উৎসবে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আনন্দঘন পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে ধারণ করে সবাই মিলে উৎসব উদযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই আদর্শকে ধারণ করেই একটি অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
বাহার জানান, খুলনা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী কামরুজ্জামান বাপ্পি দুর্গাপূজার সার্বিক পরিস্থিতি সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে উৎসবের পরিবেশ স্বাভাবিক ও আনন্দমুখর রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাই সচেষ্ট রয়েছেন।
তিনি সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে লতা ইউনিয়নের এবারের দুর্গাপূজা সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের এক ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এমন সম্প্রীতির চর্চা অব্যাহত থাকলে একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

























