
মো: রাজু তালুকদার, বরিশাল প্রতিনিধি,
দক্ষিণাঞ্চলের প্রাণ বরিশালের কীর্তনখোলা নদী এখন মৃত্যুশয্যায়। কারখানার দূষিত পানি, নগরবাসীর ফেলা বর্জ্য আর পলিথিনে প্রতিদিন দূষিত হচ্ছে নদীটি। ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীটি বরিশালের নৌ-যোগাযোগ, কৃষি ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হলেও অবহেলা ও দখল-দূষণে এর অস্তিত্ব হুমকির মুখে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর তীরবর্তী রূপাতলী, কাউনিয়া ও বন্দর রোড এলাকায় সিমেন্ট কারখানা, ওষুধ কারখানা, ডকইয়ার্ডসহ অন্তত ৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশেরই নেই বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি)। সরাসরি কেমিক্যালযুক্ত দূষিত পানি ফেলা হচ্ছে কীর্তনখোলায়। এতে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে গিয়ে মাছসহ জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে।
অন্যদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ২০টি খাল দিয়ে প্রতিদিন শহরের ৬০০ থেকে ৮০০ টন বর্জ্য নদীতে গিয়ে পড়ছে। মাছের আড়ৎ, বাজার ও লঞ্চঘাট এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৫০ টন মাছের উচ্ছিষ্ট, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ও বজ্র বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হয়। কোথাও কোথাও নদীর ৫০০ ফুটের বেশি তীর ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নদীর তলদেশে পলিথিনের স্তর এতটাই পুরু হয়েছে যে ড্রেজিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা জানান, আগে ড্রেজার মেশিনের ব্লেড ৪-৫ ঘণ্টা পর পর বদলাতে হতো, এখন প্রতি ঘণ্টায় বদলাতে হচ্ছে। ড্রেজারে বালুর পরিবর্তে উঠে আসছে পলিথিন, বস্তা, টায়ার ও প্লাস্টিক বর্জ্য।
স্থানীয় বাসিন্দা মানবেন্দ্র বটব্যাল (৮০) বলেন, “সারা জীবনে কীর্তনখোলার এমন করুণ দশা দেখিনি। আগে নদীর পানি দিয়ে রান্না করতাম, এখন হাত দিতেও ভয় লাগে।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বরিশালের সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, “আইন অনুযায়ী প্রতিটি কারখানায় ইটিপি থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বরিশালে ৭টির মধ্যে ১টিরও ঠিকমতো ইটিপি নেই। শুধু জরিমানা করে দায় এড়ালে নদী বাঁচবে না।”
বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কামাল মেহেদি বলেন, “আমরা দূষণ মনিটরিং করছি। বিসিসি ও লঞ্চ মালিক সমিতির সাথে আলোচনা করে শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।”
বিসিসি’র পরিচ্ছন্নতা বিভাগের দাবি, শহরে মাত্র ২০টি ডাস্টবিন রয়েছে, আরও ৮০টি স্থাপনের প্রস্তাব বিবেচনাধীন। তবে সচেতন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক গাজী জাহিদ হোসেন বলেন, “নগরবাসীকে সচেতন করার পাশাপাশি কারখানাগুলোকে বাধ্য করতে হবে ইটিপি চালাতে। নাহলে কীর্তনখোলা শুধু ইতিহাস হয়ে থাকবে।

























