
মোঃ মিজানুর রহমান, সাতকানিয়া প্রতিনিধি,
দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও অপরাধ দমনে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছরের জুলাই মাসে আবারও চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন সাতকানিয়া সার্কেলের (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী। এ নিয়ে চলতি বছরেই তৃতীয়বারের মতো চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসারের সম্মাননা অর্জন করলেন তিনি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইনের সিভিক সেন্টারে আয়োজিত বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব পালনে বিশেষ অবদান, পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ জুলাই মাসের জন্য তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসেও তিনি একই সম্মাননা অর্জন করেন।
অপরাধীদের কাছে কঠোর, সাধারণ মানুষের কাছে মানবিক: সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যেমন কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তেমনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিক ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে অর্জন করেছেন আস্থা।
অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকার কারণে স্থানীয়দের কাছে তিনি অনেকটা ‘অপরাধীদের যম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হলেও বিপদগ্রস্ত ও সাধারণ মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ ও সহযোগিতার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার মানবিক আচরণ প্রশংসিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরিতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ, সৌজন্য এবং মানুষের কথা শোনার মানসিকতা। আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর দায়িত্ব পালনে এসব গুণের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন তারা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান: সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পুলিশের কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন।
অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতি সংবেদনশীল থেকে পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা তার দায়িত্ব পালনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমিয়ে আস্থার সম্পর্ক তৈরিতেও তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের দায়িত্ব শুধু অপরাধী গ্রেপ্তার কিংবা আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানুষের অভিযোগ শোনা এবং তাদের আস্থা অর্জন করাও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করায় আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্ব প্রশংসিত হচ্ছে।
একই বছরে তিনবার শ্রেষ্ঠত্ব:
এপ্রিল, মে ও জুলাই চলতি বছরের এই তিন মাসে চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার নির্বাচিত হওয়া আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর কর্মদক্ষতা ও সাফল্যের ধারাবাহিকতার একটি উজ্জ্বল স্বীকৃতি বলে মনে করছেন পুলিশ সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে তিনি সাতকানিয়া সার্কেলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পটিয়া সার্কেল (পটিয়া-বোয়ালখালী)-এর অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন। দুই সার্কেলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলে একই বছরে তিনবার জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসারের স্বীকৃতি অর্জন তার পেশাগত দক্ষতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মানুষের আস্থাই বড় অর্জন:
সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন পুলিশ কর্মকর্তার সফলতার অন্যতম মাপকাঠি হলো অপরাধীর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান, দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি মানবিক আচরণ। আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর দায়িত্ব পালনে এই বিষয়গুলোর সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ কল্যাণ সভায় তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালনে তার আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও সাফল্যের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলেছে। একই সঙ্গে চলতি বছরে তৃতীয়বারের মতো জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসারের স্বীকৃতি অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সার্কেলের পুলিশ সদস্যদের জন্যও একটি গৌরবের বিষয়। এই অর্জনের ধারাবাহিকতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আরও মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশি সেবা পৌঁছে যাবে এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষের নিরাপত্তা, অপরাধ দমন এবং জনসেবায় তার এই পেশাদার ও মানবিক ভূমিকা অব্যাহত থাকুক এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।

























