
আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে দখল করা ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না ইসরাইল। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক অনুষ্ঠানে কাটজ জানান, ওই এলাকায় দীর্ঘমেয়াদে সেনা মোতায়েন রাখার প্রস্তুতি নিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাটজ বলেন, হিজবুল্লাহর অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করা এবং লেবাননে সংগঠনটির হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরাইলি সেনাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে। সীমান্তবর্তী ইসরাইলি জনগোষ্ঠী ও সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘ সময় সেখানে থাকার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
ইসরাইলের এই অবস্থানের আগে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ লেবাননে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি ইসরাইলি সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। ওয়াশিংটনের মতে, সেখানে স্থায়ীভাবে ইসরাইলি সেনা মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি কাঠামোগত সমঝোতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ওই সমঝোতায় হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ধাপে ধাপে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ইসরাইলের অবস্থান ও হিজবুল্লাহর দাবির মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছে। ইসরাইল বলছে, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার সম্ভব নয়। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ ইসরাইলি সেনারা লেবানন থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত নিজেদের অস্ত্র নিয়ে আলোচনায় যেতে রাজি নয়।
ফলে ‘সেনা প্রত্যাহার নাকি নিরস্ত্রীকরণ—কোনটি আগে’—এই প্রশ্নে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি ‘পাইলট জোনে’ লেবাননের সেনাবাহিনী কার্যক্রম শুরু করেছে। ধাপে ধাপে এসব এলাকার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মতপার্থক্যের কারণে পুরো প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
কাটজের এই অবস্থান গাজা ইস্যুতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থানের সঙ্গেও সাদৃশ্যপূর্ণ। গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রেও হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণকে অন্যতম শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন নেতানিয়াহু।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর এটিই দেশটির প্রথম নির্বাচন। নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান তুলে ধরার রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের অবস্থান দীর্ঘায়িত হলে দেশটির সার্বভৌমত্ব, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরাইল-লেবানন সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।

























