Dhaka , Tuesday, 4 August 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রূপগঞ্জের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ্ব আব্দুল মতিন চৌধুরীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত পূর্বাচল উপশহরে ডাকাতি করে পালানোর সময় লুন্ঠিত মালামালসহ  গ্রেফতার || ৬ জন মাইক্রোবাস জব্দ রূপগঞ্জে মাদ্রাসা ও কবরস্থানের জমি উদ্ধারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান মধুপুরে বৃদ্ধকে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ, নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুটের দাবি বোচাগঞ্জ ও বিরল সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযান, ট্যাপেন্টাডল, দেশি মদ ও মোটরসাইকেল জব্দ; আটক ২ প্রাণ দেবে তারুণ্য, ভুগবে পরিবার, সুবিধা নেবে এলিট শ্রেণি: আসিফ ৩৪ বছর বয়সেই ফুটবলকে বিদায় বলে দিতে পারেন নেইমার শ্রীলঙ্কায় ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ৬ জনের ‍মৃত্যু অর্থবছরের শুরুতেই তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা বাড়তি বিদ্যুৎ বিল বিতর্ক, যা বললেন তাসনিম জারা প্রতিবন্ধিতা যেন স্বপ্নের পথে বাধা না হয়: ডিসি ফরিদা ‘আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে, বিশ্বজয়ের স্বপ্ন নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে’: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন রায়পুরায় প্রেমিকাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার দুই কালীগঞ্জ-ঢাকা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন রূপগঞ্জে সাবেক মন্ত্রী গাজীর দখল থেকে মাদ্রাসার জমি দখলমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর তৈমূরের স্বারকলিপি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত শিক্ষা কর্মকর্তার হলো উচিৎ শিক্ষা। নোয়াখালীতে ডাকাতির ৩ দিন পর ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার চবিতে দুই দিনব্যাপী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উদযাপন অহেতুক প্রকল্প নয়, পাহাড়িদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর দুর্গাপুরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের উদ্যোগে জুলাই শহীদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পাইকগাছায় প্রশাসনের সঙ্গে এমপি ফাহমিদা হকের মতবিনিময় পাইকগাছা-কয়রাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবো-এমপি ফাহমিদা হক মতলব উত্তরে থামছেই না চুরি, এক রাতে উধাও আরও ৪ ট্রান্সফরমার বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল আশা সিমেন্ট গাজীপুরে রোটারি ক্লাব অব ভাওয়ালের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নোয়াখালীতে পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষে অটোচালকের মৃত্যু নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পুকুর থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার  ইবিতে শহীদ আনাসের লেখা চিঠির স্মৃতিফলক উন্মোচন এমপি লুৎফুর রহমান কাজলের সঙ্গে রামু ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রাণ দেবে তারুণ্য, ভুগবে পরিবার, সুবিধা নেবে এলিট শ্রেণি: আসিফ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 03:52:00 pm, Tuesday, 4 August 2026
  • 3 বার পড়া হয়েছে

বিনোদন ডেস্ক,

দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। ছোটখাটো চুরি ও অনিয়মের ঘটনা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও দেশ লুটের অভিযোগে অভিযুক্ত গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

একই সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের নেতৃত্ব, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বা বাফুফে এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই সংগীতশিল্পী। তার দাবি, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং এগুলো একই সূত্রে গাঁথা পুরোনো একটি নকশার অংশ।

সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন আসিফ আকবর।

পোস্টে তিনি লেখেন, স্কুলের টিফিন সরানোর অভিযোগে একজন শিক্ষককে পাকড়াও ও হেনস্তা করা হয়। পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ছোটখাটো চুরি, অনিয়ম ও অন্যায়ের খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। এসব ঘটনায় নেটিজেনদের তীব্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়।

তিনি বলেন, সামান্য খাবার চুরির অভিযোগে এ দেশে মানুষ এমনকি বোবা প্রাণীকেও পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। অথচ অন্যদিকে বড় বড় লুটেরা গোষ্ঠী দেশের সম্পদ লুট করে যাচ্ছে—এ নিয়ে সমাজে একই মাত্রার প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।

আসিফ আকবর আরও লেখেন, রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী দেশকে দুর্বল করে দেয়। পরে তারাই জনপ্রতিনিধি হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষ প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে তাদের নেতা ও অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে এবং নানা স্লোগানে তাদের পেছনে ছুটতে থাকে।

তার ভাষায়, মানুষই আন্দোলন-সংগ্রাম করে ত্যাগী ও মজলুমের পরিচয় পায়। কিন্তু পরবর্তীতে তারাই নিজেদের তৈরি করা নেতাদের আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়।

দেশের রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি চক্রের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই সংগীতশিল্পী।

তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষিত ও প্রভাবশালী একটি শ্রেণি চুরির নানা কৌশল জানে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ সেই কৌশলের ফাঁদে পড়ে লোভী হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারাই আবার ওই চক্রকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে শক্তিশালী করে।

পোস্টে ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সবাক বাংলা চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আসিফ আকবর। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ৩ আগস্টের একটি রাজনৈতিক ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।

সাফ ফুটবলের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, কয়েক দিন আগে দেখলাম, সাফ ফুটবলের প্রধানও সেই ফ্যাসিস্টেরই প্রতিচ্ছবি। নির্বাচিত বাফুফে এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো কথা বলছে না।

তার মতে, সবকিছু খুব হিসাব করে পরিচালিত হচ্ছে এবং নতুন এক ‘নির্বাক ছবির’ শুটিং চলছে। এগুলো সাধারণ বা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং একই সূত্রে গাঁথা একটি পুরোনো নকশার অংশ।

পোস্টের শেষাংশে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আসিফ আকবর লেখেন, দেশের মানুষের শত্রুর প্রয়োজন নেই; নিজেদের ক্ষতির জন্য নিজেরাই যথেষ্ট।

তিনি আরও দাবি করেন, বিষাক্ত সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ এবং সুবিধাবাদী কিছু গণমাধ্যম দেশের অভ্যন্তরীণ বড় শত্রু হিসেবে কাজ করছে।

তার ভাষায়, পরিস্থিতির বাস্তবতা না বুঝলে একই চক্র চলতে থাকবে। প্রাণ দেবে তরুণ প্রজন্ম, ভোগান্তিতে পড়বে তাদের পরিবার, সুবিধা নেবে প্রভাবশালী শ্রেণি আর হাততালি দেবে সাধারণ মানুষের একটি অংশ—এভাবেই সমাজের পুরোনো নিয়ম চলতে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ্ব আব্দুল মতিন চৌধুরীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রাণ দেবে তারুণ্য, ভুগবে পরিবার, সুবিধা নেবে এলিট শ্রেণি: আসিফ

আপডেট সময় : 03:52:00 pm, Tuesday, 4 August 2026

বিনোদন ডেস্ক,

দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। ছোটখাটো চুরি ও অনিয়মের ঘটনা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও দেশ লুটের অভিযোগে অভিযুক্ত গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

একই সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের নেতৃত্ব, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বা বাফুফে এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই সংগীতশিল্পী। তার দাবি, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং এগুলো একই সূত্রে গাঁথা পুরোনো একটি নকশার অংশ।

সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন আসিফ আকবর।

পোস্টে তিনি লেখেন, স্কুলের টিফিন সরানোর অভিযোগে একজন শিক্ষককে পাকড়াও ও হেনস্তা করা হয়। পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ছোটখাটো চুরি, অনিয়ম ও অন্যায়ের খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। এসব ঘটনায় নেটিজেনদের তীব্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়।

তিনি বলেন, সামান্য খাবার চুরির অভিযোগে এ দেশে মানুষ এমনকি বোবা প্রাণীকেও পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। অথচ অন্যদিকে বড় বড় লুটেরা গোষ্ঠী দেশের সম্পদ লুট করে যাচ্ছে—এ নিয়ে সমাজে একই মাত্রার প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।

আসিফ আকবর আরও লেখেন, রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী দেশকে দুর্বল করে দেয়। পরে তারাই জনপ্রতিনিধি হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষ প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে তাদের নেতা ও অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে এবং নানা স্লোগানে তাদের পেছনে ছুটতে থাকে।

তার ভাষায়, মানুষই আন্দোলন-সংগ্রাম করে ত্যাগী ও মজলুমের পরিচয় পায়। কিন্তু পরবর্তীতে তারাই নিজেদের তৈরি করা নেতাদের আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়।

দেশের রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি চক্রের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই সংগীতশিল্পী।

তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষিত ও প্রভাবশালী একটি শ্রেণি চুরির নানা কৌশল জানে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ সেই কৌশলের ফাঁদে পড়ে লোভী হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারাই আবার ওই চক্রকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে শক্তিশালী করে।

পোস্টে ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সবাক বাংলা চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আসিফ আকবর। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ৩ আগস্টের একটি রাজনৈতিক ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।

সাফ ফুটবলের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, কয়েক দিন আগে দেখলাম, সাফ ফুটবলের প্রধানও সেই ফ্যাসিস্টেরই প্রতিচ্ছবি। নির্বাচিত বাফুফে এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো কথা বলছে না।

তার মতে, সবকিছু খুব হিসাব করে পরিচালিত হচ্ছে এবং নতুন এক ‘নির্বাক ছবির’ শুটিং চলছে। এগুলো সাধারণ বা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং একই সূত্রে গাঁথা একটি পুরোনো নকশার অংশ।

পোস্টের শেষাংশে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আসিফ আকবর লেখেন, দেশের মানুষের শত্রুর প্রয়োজন নেই; নিজেদের ক্ষতির জন্য নিজেরাই যথেষ্ট।

তিনি আরও দাবি করেন, বিষাক্ত সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ এবং সুবিধাবাদী কিছু গণমাধ্যম দেশের অভ্যন্তরীণ বড় শত্রু হিসেবে কাজ করছে।

তার ভাষায়, পরিস্থিতির বাস্তবতা না বুঝলে একই চক্র চলতে থাকবে। প্রাণ দেবে তরুণ প্রজন্ম, ভোগান্তিতে পড়বে তাদের পরিবার, সুবিধা নেবে প্রভাবশালী শ্রেণি আর হাততালি দেবে সাধারণ মানুষের একটি অংশ—এভাবেই সমাজের পুরোনো নিয়ম চলতে থাকবে।