Dhaka , Thursday, 23 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
অব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে সড়ক নির্মাণ করায় রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতায় নগরপাড়া বাজারে কেনাবেচা বন্ধ \ দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ পাইকগাছায় স্পটে হাটবাজারের চান্দিনা ভিটি লাইসেন্স নবায়ন; রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত ১৮তম নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম কেন ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদানে বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল? স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান নিয়ে ইসলাম কী বলে চায়ের সঙ্গে বিস্কুটের মতো সাধারণ অভ্যাসেই লুকিয়ে আছে বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি! দেশের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আমি গর্বিত: টুইঙ্কেল খান্না গার্দিওলার ইতালির কোচ হওয়া নিয়ে যা জানা গেল যন্তর মন্তর অভিমুখে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আটকে দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রপতির ‘পদত্যাগ’ নিয়ে যা বললেন আসিফ মাহমুদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে ইনোভারের বিজনেস মিট ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে ছাত্রশিবিরের গণহত্যার বিচার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে মিছিল নোয়াখালীতে বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগে দুই বিরিয়ানি হাউজে জরিমানা মৎস্য সুরক্ষায় ঝালকাঠিতে যৌথ অভিযানে জব্দ ২২ হাজার মিটার অবৈধ জাল দেলপাড়া-চিতাশাল সড়কের সংস্কারকাজ পরিদর্শনে নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও ভক্তের ছদ্মবেশে বাসায় ঢুকে স্বর্ণালংকার লুট গ্রেপ্তার প্রতারক সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বিবৃতি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনে মাঠে ডিসি জাহিদুল ইসলাম রামগঞ্জ পৌরশহরে সড়ক সংস্কারের ধীরগতি জন দুর্ভোগ চরমে টাঙ্গাইলের মধুপুরে শিশুমেলা অনুষ্ঠিত পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে চরভদ্রাসনে ‘এক দেশ এক QR লেনদেন’ শীর্ষক BANGLA QR সভা অনুষ্ঠিত সাত বছর পরকীয়া, বিয়ের মাস পেরোতেই সেই স্ত্রীকে তালাক দিলেন রেলের ডিজির পিএস। মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে রামগঞ্জের এক রেমিটেন্স যোদ্ধার মৃত্যু মধুপুর পৌরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে নিরলস ভাবে কাজ করছেন মেয়র প্রার্থী খন্দকার মোতালিব সোনারগাঁয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে পাইপলাইন ও কালভার্ট নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন কুতুবপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান: তিন ফার্মেসিকে ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা ১৮ জনের সমস্যা শুনে ডিসি ‘র তাৎক্ষণিক নির্দেশনা; অসহায়দের আর্থিক সহায়তা, ২১ পরিবার পেল ত্রাণ ৫০ লাখ টাকা জলে, এক মাসেই ধসে গেল রাস্তা, অবরুদ্ধ ৫ গ্রামের মানুষ

উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনে মাঠে ডিসি জাহিদুল ইসলাম

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:53:04 pm, Thursday, 23 July 2026
  • 6 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো,

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম ধাপে ধাপে পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। উদ্ধার অভিযান থেকে শুরু করে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা, খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসাসেবা এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন—সবগুলো কার্যক্রম একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযান ও আশ্রয়কেন্দ্র

জেলা প্রশাসনের অনুরোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ও নৌকার মাধ্যমে পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার করছে। যেখানে সাধারণ নৌকা পৌঁছাতে পারছে না, সেখানে স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন স্থানে ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। সেখানে প্রায় ২৩ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দুর্গত মানুষের দুয়ারে ত্রাণ

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নিজেই দুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন। সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিনি ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন।

প্রতিটি পরিবারের জন্য দেওয়া ত্রাণ প্যাকেটে ছিল এক কেজি করে মুড়ি, চিড়া ও চিনি, দুটি বিস্কুটের প্যাকেট, দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি, চারটি মোমবাতি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে চট্টগ্রামের জন্য ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কাছে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।

শুধু সাতকানিয়া উপজেলার জন্যই ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে ওই চাল দিয়ে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাতেও একইভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জনে। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়ায়। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই প্লাবিত হয়েছে। শুধু এ উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধ

বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্গত এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

পুনর্বাসনের প্রস্তুতি

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষিজমি, মৎস্যঘের, বসতঘর এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ শুরু করবেন।

সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির মালিকদের জন্য নগদ অর্থ ও ঢেউটিন বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে ধানের চারা, বীজ ও সার বিতরণের উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে তারা দ্রুত কৃষিকাজে ফিরতে পারেন।

এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ ও প্রধান সড়ক দ্রুত সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি

প্রাথমিক হিসাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ২০টি সড়কের ৫০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ৫১৪টি সড়কের ২৪৭ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার অংশ এবং ১৭৬টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রশাসনের বার্তা

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকার ও জেলা প্রশাসন বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা কার্যক্রম চলবে।

তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে সড়ক নির্মাণ করায় রূপগঞ্জে জলাবদ্ধতায় নগরপাড়া বাজারে কেনাবেচা বন্ধ \ দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ

উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনে মাঠে ডিসি জাহিদুল ইসলাম

আপডেট সময় : 06:53:04 pm, Thursday, 23 July 2026

চট্টগ্রাম ব্যুরো,

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম ধাপে ধাপে পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। উদ্ধার অভিযান থেকে শুরু করে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা, খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসাসেবা এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন—সবগুলো কার্যক্রম একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযান ও আশ্রয়কেন্দ্র

জেলা প্রশাসনের অনুরোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ও নৌকার মাধ্যমে পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার করছে। যেখানে সাধারণ নৌকা পৌঁছাতে পারছে না, সেখানে স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন স্থানে ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। সেখানে প্রায় ২৩ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দুর্গত মানুষের দুয়ারে ত্রাণ

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নিজেই দুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন। সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিনি ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন।

প্রতিটি পরিবারের জন্য দেওয়া ত্রাণ প্যাকেটে ছিল এক কেজি করে মুড়ি, চিড়া ও চিনি, দুটি বিস্কুটের প্যাকেট, দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি, চারটি মোমবাতি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে চট্টগ্রামের জন্য ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কাছে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।

শুধু সাতকানিয়া উপজেলার জন্যই ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে ওই চাল দিয়ে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাতেও একইভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জনে। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়ায়। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই প্লাবিত হয়েছে। শুধু এ উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধ

বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্গত এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

পুনর্বাসনের প্রস্তুতি

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষিজমি, মৎস্যঘের, বসতঘর এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ শুরু করবেন।

সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির মালিকদের জন্য নগদ অর্থ ও ঢেউটিন বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে ধানের চারা, বীজ ও সার বিতরণের উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে তারা দ্রুত কৃষিকাজে ফিরতে পারেন।

এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ ও প্রধান সড়ক দ্রুত সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি

প্রাথমিক হিসাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ২০টি সড়কের ৫০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ৫১৪টি সড়কের ২৪৭ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার অংশ এবং ১৭৬টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রশাসনের বার্তা

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকার ও জেলা প্রশাসন বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা কার্যক্রম চলবে।

তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।