Dhaka , Thursday, 17 September 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় ১২ আসামি গ্রেপ্তার; আসামি আজাদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বিজয়নগর থানা পুলিশের অভিযানে ২০বোতল স্কফসহ গ্রেপ্তার-১ নোয়াখালীতে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি বেগমগঞ্জে র‍্যাব-১১ হাতে গ্রেফতার  দুর্যোগে পাশে থাকার অঙ্গীকার হাতিয়ার ৩০ স্বেচ্ছাসেবকের পজিটিভ সরাইল এর উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল স্কুল শিক্ষকের খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে হবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক কাউখালীতে কেন্দ্রীয় আশ্রমের তহবিল তসরুপের অভিযোগে বহিষ্কৃত সাবেক কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন কাউখালীতে ৪০ বছর পর উচ্ছেদ: কচুয়াকাঠি আধুনিক সেতু নির্মাণের পথ সুগম রামগঞ্জে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত লক্ষ্মীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু ঢোল সমুদ্র বালিকা বিদ্যানিকেতনে এডহক কমিটি, শিক্ষাঙ্গনে নতুন প্রত্যাশা পাইকগাছায় ইউএনও’কে নিসচা’র প্রকাশিত ‘নিরাপদ’ বই প্রদান পাইকগাছায় মৎস্য অভিযানে তিন চিংড়ি ব্যবসায়ীকে জরিমানা রাতারাতি ‘বিএনপি’, কাজীর দেউড়িতে বসে চাঁদার রফাদফা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় লালগালিচায় হাঁটলেন মাহিরা স্টোকসের নজরে পিটারসেনের চেয়েও এগিয়ে আছেন ব্রুক গাজায় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে প্রায় দুই হাজার ভবন বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ তরুণ উদ্ভাবকদের মেধায় নতুন সম্ভাবনা, শেষ হলো বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন নারায়ণগঞ্জে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু সিদ্ধিরগঞ্জে লিথি গার্মেন্টস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের অবস্থান নারায়ণগঞ্জে সজিব হত্যার জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন বায়ুদূষণের দায়ে নারায়ণগঞ্জে দুই প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা মাদারীপুরে রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের জমি দখলের অভিযোগে মানববন্ধন ২০ দিনব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত ফতুল্লায় কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনে মাঠে ডিসি জাহিদুল ইসলাম

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:53:04 pm, Thursday, 23 July 2026
  • 45 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো,

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম ধাপে ধাপে পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। উদ্ধার অভিযান থেকে শুরু করে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা, খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসাসেবা এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন—সবগুলো কার্যক্রম একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযান ও আশ্রয়কেন্দ্র

জেলা প্রশাসনের অনুরোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ও নৌকার মাধ্যমে পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার করছে। যেখানে সাধারণ নৌকা পৌঁছাতে পারছে না, সেখানে স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন স্থানে ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। সেখানে প্রায় ২৩ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দুর্গত মানুষের দুয়ারে ত্রাণ

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নিজেই দুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন। সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিনি ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন।

প্রতিটি পরিবারের জন্য দেওয়া ত্রাণ প্যাকেটে ছিল এক কেজি করে মুড়ি, চিড়া ও চিনি, দুটি বিস্কুটের প্যাকেট, দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি, চারটি মোমবাতি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে চট্টগ্রামের জন্য ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কাছে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।

শুধু সাতকানিয়া উপজেলার জন্যই ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে ওই চাল দিয়ে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাতেও একইভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জনে। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়ায়। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই প্লাবিত হয়েছে। শুধু এ উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধ

বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্গত এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

পুনর্বাসনের প্রস্তুতি

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষিজমি, মৎস্যঘের, বসতঘর এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ শুরু করবেন।

সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির মালিকদের জন্য নগদ অর্থ ও ঢেউটিন বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে ধানের চারা, বীজ ও সার বিতরণের উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে তারা দ্রুত কৃষিকাজে ফিরতে পারেন।

এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ ও প্রধান সড়ক দ্রুত সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি

প্রাথমিক হিসাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ২০টি সড়কের ৫০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ৫১৪টি সড়কের ২৪৭ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার অংশ এবং ১৭৬টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রশাসনের বার্তা

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকার ও জেলা প্রশাসন বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা কার্যক্রম চলবে।

তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় ১২ আসামি গ্রেপ্তার; আসামি আজাদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনে মাঠে ডিসি জাহিদুল ইসলাম

আপডেট সময় : 06:53:04 pm, Thursday, 23 July 2026

চট্টগ্রাম ব্যুরো,

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম ধাপে ধাপে পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। উদ্ধার অভিযান থেকে শুরু করে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা, খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসাসেবা এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন—সবগুলো কার্যক্রম একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযান ও আশ্রয়কেন্দ্র

জেলা প্রশাসনের অনুরোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ও নৌকার মাধ্যমে পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার করছে। যেখানে সাধারণ নৌকা পৌঁছাতে পারছে না, সেখানে স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন স্থানে ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। সেখানে প্রায় ২৩ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দুর্গত মানুষের দুয়ারে ত্রাণ

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নিজেই দুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন। সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিনি ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন।

প্রতিটি পরিবারের জন্য দেওয়া ত্রাণ প্যাকেটে ছিল এক কেজি করে মুড়ি, চিড়া ও চিনি, দুটি বিস্কুটের প্যাকেট, দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি, চারটি মোমবাতি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে চট্টগ্রামের জন্য ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কাছে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।

শুধু সাতকানিয়া উপজেলার জন্যই ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে ওই চাল দিয়ে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাতেও একইভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জনে। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়ায়। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই প্লাবিত হয়েছে। শুধু এ উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধ

বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্গত এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

পুনর্বাসনের প্রস্তুতি

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষিজমি, মৎস্যঘের, বসতঘর এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ শুরু করবেন।

সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির মালিকদের জন্য নগদ অর্থ ও ঢেউটিন বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে ধানের চারা, বীজ ও সার বিতরণের উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে তারা দ্রুত কৃষিকাজে ফিরতে পারেন।

এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ ও প্রধান সড়ক দ্রুত সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি

প্রাথমিক হিসাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ২০টি সড়কের ৫০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ৫১৪টি সড়কের ২৪৭ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার অংশ এবং ১৭৬টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রশাসনের বার্তা

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকার ও জেলা প্রশাসন বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা কার্যক্রম চলবে।

তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।