Dhaka , Tuesday, 3 November 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
স্পেনের ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ ইয়ামালের বাবার স্কুলে থাকতেই পাইলট, বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নাথালিয়ার স্বর্ণের চাহিদায় ভাটা, কমল বার ও কয়েন কেনার পূর্বাভাস শুধু ‘স্যরি’ বললেই কি মুছে যায় মনের কষ্ট? ‘ও আমাকে মা-বাবার চেয়েও বেশি বোঝে’ সরাইলে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারীসহ ৮ জন আহত, এলাকায় আতঙ্ক কালিয়াকৈরে তুরাগ নদীতে বন্ধুদের সাথে সাতার কাটতে গিয়ে নিখোজ গার্মেন্টস শ্রমিকের লাশ উদ্ধার কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদ ইসলামের শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি রূপগঞ্জে গৃহবধূকে কুপিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই রূপগঞ্জে সিম গ্রুপের পোশাক কারখানায় ডায়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ টেকনাফের সাগরে মাছ ধরার নৌকায় বজ্রপাতের আঘাতে ১ জেলে নিহত! নবপ্রজন্মের মাঝে ইসলামের সৌন্দর্য ও শাশ্বত জীবনদর্শন তুলে ধরতে হবে – ইসলামী যুবসমাজ দুর্গাপুরে নাঈমুরের সাফল্যের হেট্রিক : টানা তিন পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে নতুন ইতিহাস মধুপুরে পর্নোগ্রাফি ও ইয়াবা কারবারের অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, মোবাইল-ল্যাপটপ উদ্ধার পাইকগাছায় মরহুম শামসুর রহমানের স্মরণে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া মাহফিল ‎গাইবান্ধায় এলজিইডির বাস্তবায়নে খানাখন্দের রাস্তা ফিরে পেল প্রাণ ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত দীর্ঘদিন পর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক লন্ডনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কারি শিল্পের জয়গান: সেরা রেস্তোরাঁ ও শেফদের বিসিএ সম্মাননা অনুষ্ঠিত মাদারীপুর সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ স্বামী হত্যার পর অনিশ্চয়তায় দুই সন্তান, পাশে দাঁড়ালেন ডেপুটি স্পিকার; ল্যাবএইডে চাকরি পেলেন সাংবাদিক আলিফ ফকিরের স্ত্রী সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে অগ্রণী ভূমিকা, শিক্ষা ও সমাজসেবায় প্রশংসিত মোঃ কাউছার ভূঁইয়া চট্টগ্রামের অপহরণ, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর খুলনা আগমন উপলক্ষে পাইকগাছা বিএনপির প্রস্তুতি সভা রূপগঞ্জে পোশাক কারখানায় ডায়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ সকল বাধা পেরিয়ে সাফল্যের শিখরে: বিসিএস ক্যাডার হিসেবে অমিত খানের নতুন যাত্রা আবার উত্তপ্ত বরিশালের চরকাউয়া: বাস ও ইজিবাইক শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে জিম্মি তিন উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার মানুষ কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলা ২০২৬-২৭-এর উদ্বোধন, প্রধান অতিথি এমপি লুৎফুর রহমান কাজল

উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনে মাঠে ডিসি জাহিদুল ইসলাম

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 06:53:04 pm, Thursday, 23 July 2026
  • 83 বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো,

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম ধাপে ধাপে পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। উদ্ধার অভিযান থেকে শুরু করে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা, খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসাসেবা এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন—সবগুলো কার্যক্রম একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযান ও আশ্রয়কেন্দ্র

জেলা প্রশাসনের অনুরোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ও নৌকার মাধ্যমে পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার করছে। যেখানে সাধারণ নৌকা পৌঁছাতে পারছে না, সেখানে স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন স্থানে ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। সেখানে প্রায় ২৩ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দুর্গত মানুষের দুয়ারে ত্রাণ

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নিজেই দুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন। সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিনি ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন।

প্রতিটি পরিবারের জন্য দেওয়া ত্রাণ প্যাকেটে ছিল এক কেজি করে মুড়ি, চিড়া ও চিনি, দুটি বিস্কুটের প্যাকেট, দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি, চারটি মোমবাতি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে চট্টগ্রামের জন্য ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কাছে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।

শুধু সাতকানিয়া উপজেলার জন্যই ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে ওই চাল দিয়ে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাতেও একইভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জনে। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়ায়। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই প্লাবিত হয়েছে। শুধু এ উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধ

বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্গত এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

পুনর্বাসনের প্রস্তুতি

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষিজমি, মৎস্যঘের, বসতঘর এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ শুরু করবেন।

সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির মালিকদের জন্য নগদ অর্থ ও ঢেউটিন বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে ধানের চারা, বীজ ও সার বিতরণের উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে তারা দ্রুত কৃষিকাজে ফিরতে পারেন।

এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ ও প্রধান সড়ক দ্রুত সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি

প্রাথমিক হিসাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ২০টি সড়কের ৫০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ৫১৪টি সড়কের ২৪৭ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার অংশ এবং ১৭৬টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রশাসনের বার্তা

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকার ও জেলা প্রশাসন বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা কার্যক্রম চলবে।

তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পেনের ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ ইয়ামালের বাবার

উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনে মাঠে ডিসি জাহিদুল ইসলাম

আপডেট সময় : 06:53:04 pm, Thursday, 23 July 2026

চট্টগ্রাম ব্যুরো,

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম ধাপে ধাপে পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। উদ্ধার অভিযান থেকে শুরু করে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা, খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসাসেবা এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন—সবগুলো কার্যক্রম একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযান ও আশ্রয়কেন্দ্র

জেলা প্রশাসনের অনুরোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ও নৌকার মাধ্যমে পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার করছে। যেখানে সাধারণ নৌকা পৌঁছাতে পারছে না, সেখানে স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন স্থানে ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়। সেখানে প্রায় ২৩ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দুর্গত মানুষের দুয়ারে ত্রাণ

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নিজেই দুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন। সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিনি ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন।

প্রতিটি পরিবারের জন্য দেওয়া ত্রাণ প্যাকেটে ছিল এক কেজি করে মুড়ি, চিড়া ও চিনি, দুটি বিস্কুটের প্যাকেট, দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি, চারটি মোমবাতি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে চট্টগ্রামের জন্য ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কাছে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।

শুধু সাতকানিয়া উপজেলার জন্যই ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে ওই চাল দিয়ে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাতেও একইভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জনে। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়ায়। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই প্লাবিত হয়েছে। শুধু এ উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধ

বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্গত এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

পুনর্বাসনের প্রস্তুতি

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষিজমি, মৎস্যঘের, বসতঘর এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ শুরু করবেন।

সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির মালিকদের জন্য নগদ অর্থ ও ঢেউটিন বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে ধানের চারা, বীজ ও সার বিতরণের উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে তারা দ্রুত কৃষিকাজে ফিরতে পারেন।

এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ ও প্রধান সড়ক দ্রুত সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি

প্রাথমিক হিসাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ২০টি সড়কের ৫০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ৫১৪টি সড়কের ২৪৭ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার অংশ এবং ১৭৬টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রশাসনের বার্তা

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকার ও জেলা প্রশাসন বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা কার্যক্রম চলবে।

তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।