
চট্টগ্রাম ব্যুরো,
রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের আমন্ত্রিত মেহমানদের স্থানে চট্টগ্রাম মহানগর সৈনিক লীগের সভাপতি ‘ মদ,নারী ও ইয়াবা সাপ্লাইয়ার বেকারী কামাল’ ওরফে কামাল হোসেনের উপস্থিতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর পতিত স্বৈরাচার সরকারের দোসর ও বিতর্কিত এক রাজনৈতিক কর্মী কীভাবে রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশের সুযোগ পেলেন—তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম নগর সৈনিক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়ীত্ব পালন করছেন গত ৭ বছর। এই কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগরীতে মদ, জুয়া, নারী ব্যবসাসহ ও মাদক কারবারের সাথে জড়িত থাকার হাজারো প্রমাণিত অভিযোগ রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি এসব অপকর্ম পরিচালনা করতেন বলে জানা যায়।
ছদ্মবেশ ও ভুয়া পরিচয়ের অভিযোগ:
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর চট্টগ্রাম থেকে গা-ঢাকা দেন বেকারী কামাল। অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েক মাস ধরে তিনি ঢাকায় অবস্থান নিয়ে নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে:
সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার: ঢাকার বিভিন্ন কালো ও হলুদ সাংবাদিক চক্রের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তিনি জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-সহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন।
দলীয় কর্মসূচীতে অনুপ্রবেশ: নিজেকে সাংবাদিক দাবি করে পরিচয় গোপন রেখে তিনি বিএনপির বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মসূচীতে নিয়মিত অংশ নেওয়ার কৌশল নেন।
মেহমান সালায় প্রবেশ: অসাধু চক্রের যোগসাজশ ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রিত মেহমানদের স্থানে প্রবেশের সুযোগ বাগিয়ে নেন।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও কঠোর শাস্তির দাবি:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের মতো অত্যন্ত সংরক্ষিত ও স্পর্শকাতর স্থানে চিহ্নিত কোনো অপরাধী ও পতিত স্বৈরাচারের দোসর প্রবেশ করা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে।
এই পরিস্থিতিতে সচেতন সমাজ ও সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয়েছে:
১. তদন্ত কমিটি গঠন: কার বা কাদের প্ররোচনায় ও সহায়তায় বেকারী কামাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মেহমান সালায় প্রবেশাধিকার পেলেন, তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখতে হবে।
২.সহযোগীদের চিহ্নিতকরণ: পরিচয় গোপন রাখতে এবং রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তাকে ঢোকানোর পেছনে যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তি বা অসাধু চক্র কাজ করেছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে ৩. দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার: একাধিক অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযুক্ত বেকারী কামালকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
রাষ্ট্রীয় স্পর্শকাতর স্থান সমূহে এই ধরণের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা প্রটোকল আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।


























