
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বিচারাধীন একটি বিরোধপূর্ণ জমি দখলের অপচেষ্টা এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মামলার বাদী জমির আহমদ ও লায়লা বেগম অভিযোগ করেন, তারা প্রায় ২৫ বছর ধরে বৈধ দলিল, নামজারি এবং নিয়মিত খাজনা-কর পরিশোধের মাধ্যমে ৫ শতক নালিশি সম্পত্তির শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে রয়েছেন। কিন্তু পাশ্ববর্তী জমির মালিক দাবিদার কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির ওপর জোরপূর্বক পথ-স্বত্ব প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, আবদুর রাজ্জাক প্রকাশ মুরাদের পিতা, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ প্রকাশ রানার বাপ, নাজমুল, ফিরোজ, মোহাম্মদ জাবেরীর আলমগীর ও নুর আলম নামের কয়েকজন ব্যক্তি গত ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বাদীপক্ষের বাড়িতে গিয়ে প্রায় ৩ ফুট প্রশস্ত ও ৭০ ফুট দীর্ঘ একটি চলাচলের রাস্তা নির্মাণের দাবি তোলেন। তবে বাদীপক্ষ এতে অস্বীকৃতি জানালে বিবাদীরা ক্ষুব্ধ হয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ এবং জমি দখলের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

বাদীপক্ষের দাবি, এরপর থেকেই তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, উচ্ছেদের হুমকি, প্রাণনাশের আশঙ্কা এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, অর্থবল ও প্রভাব খাটিয়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বাদীপক্ষ চট্টগ্রামের তৃতীয় সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ঘোষণা মূলক প্রতিকারের মামলা (নং–৪৩/২০২৬) দায়ের করেন। মামলায় তারা নালিশি ৫ শতক সম্পত্তির পূর্ণ মালিকানা ঘোষণা এবং বিবাদীদের কথিত পথ-স্বত্ব দাবির বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার প্রার্থনা করেন।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, সম্পত্তিটির মূল মালিক ছিলেন মোহাম্মদ ইসমাইল। পরবর্তীতে উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি বণ্টনের পর ১৯৯২ ও ১৯৯৪ সালের নিবন্ধিত সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে বাদীপক্ষ ৪ শতক জমি ক্রয় করেন। পরে ২০০২ সালে আরও ১ শতক জমি কিনে মোট ৫ শতকের মালিক হন। ২০০৯ সালে ওই জমির সরকারি নামজারিও সম্পন্ন করা হয় বলে দাবি করেন তারা।
তবে অভিযোগ রয়েছে, মামলা বিচারাধীন থাকা এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকার মধ্যেই বিবাদীরা বিতর্কিত জমিতে দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে, যা আদালতের নির্দেশ অমান্যের শামিল বলে দাবি করেছেন বাদীপক্ষ।
ভুক্তভোগীরা বলেন, আমাদের বাড়ি-ভিটা থেকে উচ্ছেদ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখানো হচ্ছে। টাকার কাছে আমরা নিরীহ হয়ে পড়েছি। এখন আদালতের বিচারই আমাদের একমাত্র ভরসা।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, বিচারাধীন সম্পত্তিতে জোরপূর্বক প্রবেশ, দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা, দখলচেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় প্রয়োজনে আদালত অবমাননার অভিযোগসহ অতিরিক্ত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, নাজমুল, ফিরোজ, মোহাম্মদ জাবেরীর আলমগীর ও নুর আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত প্রশাসনিক ও বিচারিক হস্তক্ষেপ না হলে এ বিরোধ বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
























