
মাকসুদুল হোসেন তুষার,
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার বিরাবো এলাকায় এক বাকপ্রতিবন্ধী পরিবারের উপর শারীরিক নির্যাতন, অত্যাচার অত্যাচার, জমি ও ঘর নির্মাণে বাধাসহ নানা অভিযোগ এনে সৎ মা ও সৎ ভাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বাকপ্রতিবন্ধী শাহজাহান চৌধুরীর স্ত্রী সাবিনা বেগম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বাকপ্রতিবন্ধী শাজাহান চৌধুরীর স্ত্রী ভুক্তভোগী সাবিনা বেগম জানান, তার শশুরের নাম জয়নাল উদ্দিন চৌধুরী। জয়নাল উদ্দিন চৌধুরী প্রথম স্ত্রী গোলাতুন্নেসার দুই পুত্র বাক প্রতিবন্ধী শাজাহান চৌধুরী ও মিজানুর রহমান। শাশুড়ি ভোলাতুন্নেসার মৃত্যুর পর দ্বিতীয় স্ত্রী হামিদা বেগমকে বিয়ে করেন শশুর জনাল উদ্দিন চৌধুরী।
দ্বিতীয় স্ত্রী সংসারে আজাহার হোসেন, আতাউর রহমান, আতিকুর রহমান, আশরাফুল হক ও মেয়ে ফাতেমা বেগমের জন্ম হয় । শশুর জয়নাল উদ্দিন চৌধুরী মারা যাওয়ার পর বাক প্রতিবন্ধী শাহজাহান চৌধুরী সংসারের হাল ধরেন। দিনমজুরের কাজ করে তিনি সংসার চালিয়েছেন। সৎ ভাইদের লেখা পড়া করিয়েছেন। বাবার সম্পত্তি বিক্রি করে সৎ ভাই আতাউর হোসাইন ও আতাউর রহমানকে দুবাই পাঠিয়েছেন।
বর্তমানে সৎ মা ও সৎ ভাইয়েরা মিলে বাক প্রতিবন্ধী শাহজাহান চৌধুরীকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আর এ কারণেই বাক প্রতিবন্ধী শাহজাহান চৌধুরীর কলেজ পড়ুয়া সোহান চৌধুরীসহ ৩ সন্তান ও স্ত্রী সাবিনা বেগমকে মারধরসহ নির্যাতন ও অত্যাচার চালিয়ে আসছে। ভাঙ্গাচুরা ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচলেও বাধা দিচ্ছে। এসবের প্রতিবাদ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। বাধ্য হয়ে ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তারা।
বাকপ্রতিবন্ধী শাজাহান চৌধুরীর পরিবারের দাবি, মারধরসহ নির্যাতন ও অত্যাচার বন্ধ করে জমি মেপে বুঝিয়ে দেয়া হয় । যাতে করে ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করে তারা বসবাস করতে পারেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সৎ ভাই আতাউর রহমান বলেন, বাক প্রতিবন্ধী শাজাহান চৌধুরীর পাওনা জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অযথা তাদের সঙ্গে ঝামেলা বাধাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়ায়াট।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার ভূমি (পূর্বাচল সার্কেল) ফরিদ আল সোহান বলেন, এ ধরণের অভিযোগ লিখিতভাবে আমাদের কাছে দিলে উভয় পক্ষের শুনানির মাধ্যমে কাগজপত্র দেখে বাকপ্রতিবন্ধী পরিবারের জমি নিয়ম অনুযায়ী মেপে বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবো ।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, বাক প্রতিবন্ধী পরিবারের উপর নির্যাতনের বিষয়ে একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্ত করে দোষীদের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

























