
ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নে এবং আসন্ন বর্ষায় জনদুর্ভোগ লাঘবে ড্রেন নালা পরিষ্কার রাখা, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ম্যানহোল চিহ্নিতকরণসহ স্থানীয় সমস্যা সমাধানে বিএনপির তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর লালখান বাজারস্থ পিটস্টপ রেস্টুরেন্টে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি, থানা ও ওয়ার্ড ভিত্তিক নেতৃবৃন্দের সাথে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।
মেয়র ওয়ার্ড পর্যায়ে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রথমত, সব নালা নর্দমা দ্রুত পরিষ্কার করে পানি চলাচল সচল রাখা। দ্বিতীয়ত, ভাঙ্গা বা অনুপস্থিত স্লাবগুলো চিহ্নিত করে তালিকা প্রণয়ন ও ছবি সংগ্রহ করা। তৃতীয়ত, খোলা ম্যানহোলের ঢাকনা নিশ্চিত করা এবং চতুর্থত, প্রয়োজন অনুযায়ী ডাস্টবিন স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের সামনে বর্ষাকাল। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি, ম্যানহোলের ঢাকনা বা স্লাব না থাকার কারণে অনেক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই শহর আমাদের, এই পরিবারগুলো আমাদের। তাই জনগণের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আপনাদের নিজ নিজ ওয়ার্ডের প্রতিটি অলিগলিতে যেখানে স্লাব নেই বা ম্যানহোল খোলা আছে, সেগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে ছবিসহ দ্রুত আমাদের জানান।
তিনি বলেন, আমাদের নেতা, রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতি শনিবার নিজ নিজ আঙিনা ও এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে। আগামী দুই মাস আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নালাগুলো ক্লিন রাখা, যাতে বৃষ্টির পানি সচল থাকে। এছাড়া ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহের জন্য যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হতো, তা আমরা বাতিল করেছি। এখন চসিকের নিজস্ব কর্মীরাই কাজ করছে। আপনাদের এলাকায় ডাস্টবিনের প্রয়োজন থাকলে বা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হলে সরাসরি অবহিত করুন।
উন্নয়ন প্রকল্প প্রসঙ্গে মেয়র তৃণমূল নেতাদের সুখবর দিয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং এলজিআরডি মন্ত্রীর ঐকান্তিক সহযোগিতায় জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা পরিষ্কারের জন্য ২০ কোটি এবং খালের জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই অর্থ দ্রুত কাজে লাগিয়ে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে হবে। এছাড়া নতুন একটি ডিপিপি প্রস্তুত করা হচ্ছে। আপনাদের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা যা তালিকায় বাদ পড়েছে, সেগুলোর তালিকা দ্রুত জমা দিন যাতে আমরা বরাদ্দ নিশ্চিত করতে পারি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মেয়র কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, প্রতিটি কাজ একটি সুনির্দিষ্ট ডিসিপ্লিন ও ডেকোরামের মধ্য দিয়ে হতে হবে। কোনো ধরনের ইনডিসিপ্লিন সহ্য করা হবে না। সাংগঠনিকভাবে ওয়ার্ড ভিত্তিক তালিকার মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করতে হবে। হাতে সময় খুব কম, আগামী ৫৫ দিনের মধ্যে আমাদের এই উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতার কাজগুলো দৃশ্যমান করতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, আলহাজ্ব এম এ আজিজ, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, সফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, আর ইউ চৌধুরী শাহিন, শওকত আজম খাজা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহম্মেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মুবিন, মনজুরুল আলম চৌধুরী মন্জু, আহবায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মফিজুল হক ভূঁইয়া, ইকবাল চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন জিয়া, এস. এম আবুল ফয়েজ, আবুল হাসেম, ইসকান্দর মির্জা, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, মুজিবুল হক, মো. মহসিন, মো. খোরশেদুল আলম, মো. সালাউদ্দিন, মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মশিউল আলম স্বপন, মো. জাফর আহম্মদ, এ. কে. খান, গাজী আইয়ুব, মাহবুব রানা, এম. এ সবুর, নুরু উদ্দিন হোসেন নুরু, মোহাম্মদ আজম, মো. আশ্রাফুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইউছুপ সহ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও সদস্য সচিববৃন্দ।
























