
মোঃ আসিফুজ্জামান আসিফ,
ঢাকার সাভারে ভেজাল সয়াবিন তেল ও নকল ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়ে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য জব্দ করে কারখানাটি সিলগালা করা হয়। পাশাপাশি কারখানার ব্যবস্থাপক এক নারীকে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মজিবুর রহমানের দেওগা মহল্লার একটি বাড়িতে অবস্থিত ‘গ্যালাক্সি এগ্রো লিমিটেড’ নামের কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসমা আক্তার কারখানাটির ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন। অভিযানের সময় আরও দুই নারীকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানাটিতে খোলা সয়াবিন তেল, পাম অয়েল ও ফার্নেস অয়েল কিনে এনে বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হতো। এরপর সেগুলো ‘ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ সয়া ফটিফাইট সয়াবিন তেল’ নামে এক, দুই, তিন ও পাঁচ লিটারের বোতলে ভরে বাজারজাত করা হচ্ছিল।
কারখানাটিতে কোনো ল্যাব, কেমিস্ট বা বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছিল না। তবুও বোতলের মোড়কে বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করা হচ্ছিল। এছাড়া সেখানে নামি ব্র্যান্ড ‘সানশাইন কোম্পানি’র নামে নকল ‘সানশাইন ডিটারজেন্ট পাউডার’ তৈরি করা হচ্ছিল।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া ভেজাল তেল বোতলজাত ও বাজারজাত করার দায়ে ম্যানেজার আসমা আক্তারকে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, কারখানার ভেজাল পণ্য জব্দ করে কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছে এবং তা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরিফ হোসেনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন বলেন, এর আগেও ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজিবুর রহমানকে কারখানাটির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল, তবে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।
কারখানার মালিক নিজামুদ্দিন পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আটক ম্যানেজার আসমা আক্তার দাবি করেন, তারা কারখানাটি বড় করার চেষ্টা করছিলেন এবং পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করবেন। তাদের মতে, সেখানে কোনো ভেজাল করা হয়নি।
এদিকে পাশের একটি কসমেটিকস তৈরির কারখানায় অভিযান চালাতে গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে শ্রমিক ও কর্মকর্তারা কারখানায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান।
অভিযানে সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
























