
মোসাদ্দেক হোসেন, ইবি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি কর্মচারী ফজলুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ মার্চ) ইবি থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “মামলার ১নং আসামি ফজলুর রহমান হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে আহত থাকায় তাকে সদর হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা প্রদানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।”
অন্যান্য আসামিদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তাদের ব্যাপারেও কাজ চলমান। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষক থাকায় আরও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ইবি থানায় ফজলুর রহমানসহ চারজনের নামে এজাহার দায়ের করেন নিহত আসমার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। পরে বিকেলে ৩০২ ও ১০৯ ধারায় ফজলুরকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। মামলার অপর আসামিরা হলেন— সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার (বর্তমানে উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার) বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস এবং ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পুলিশ ফজলুর রহমানের কাছ থেকে দুই পাতার একটি লিখিত জবানবন্দি (স্টেটমেন্ট) নেয়। ওই লিখিত স্টেটমেন্টে ফজলুর রহমান হত্যাকাণ্ড ঘটানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। মামলা রুজু হওয়ার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তবে আহত থাকায় তিনি পুলিশি পাহারায় হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে আসমা সাদিয়া রুনার নিজ অফিস কক্ষে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। চিৎকার শুনে উদ্ধার করতে যাওয়া আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ভেতরে শিক্ষিকাকে রক্তাক্ত অবস্থায় এবং অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহননের চেষ্টাকালে দেখা যায়। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষিকার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। এরপর বিকেলে তার স্বামী চারজনকে আসামি করে থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন।

























