Dhaka , Tuesday, 8 September 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ ১৬ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ১৩ র‍্যাব-সেনাবাহিনী পরিচয়ে প্রতারণা, স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ, আটক পারভেজ নোয়াখালীতে মাদ্রাসার ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে মাদক সেবীর দেওয়া আগুনে , পুড়ল ১১ বসতঘর ও ৬ দোকান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে হাজতির মৃত্যু হাতিয়াতে ফেরিঘাট থেকে ১৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ, গ্রেপ্তার ১ পিরোজপুরে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা: বিশেষ পারফরম্যান্সে পুরস্কৃত কাউখালী ওসি আনোয়ার হোসেন ধর্মপাশায় পরিত্যক্ত কালিজানা ব্রিজ: ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ, ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামে ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান:- ডিসি জাহিদ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানতের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু নাসীরকে এতদিন যারা তালি দিয়েছেন, এবার কি গালি দেবেন: আব্দুল কাদের সাড়ে ১১ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রূপগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই শিক্ষার্থীসহ তিন জনকে কুপিয়ে জখম রূপগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্ম পরিষদ সদস্য হলেন কুলাউড়ার জাকির সিদ্দিকী জামাল পাইকগাছা-কয়রা-দাকোপের ১২৮ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংবর্ধিত শ্রীপুরে অবৈধভাবে মজুদকৃত ৩২৮ বস্তা সার জব্দ, মামলা দায়ের সমুদ্রের প্রেমে মগ্ন পূজা চেরী রেকর্ডের হাতছানি রাফিনিয়ার সামনে ভোলায় আল-ইহসান একাডেমিতে প্রাণবন্ত মা সমাবেশ ও বৃক্ষ বিতরণ বিভৎস নির্যাতনের পর দুই বোনের একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান দেশে কমল স্বর্ণের দাম, ভরি কত? ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাইকগাছা পৌরসভার সপ্তাহব্যাপী মশক নিধন অভিযান পাইকগাছায় সরকারি জমি উদ্ধারে সাফল্য: প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব আদায় লংমার্চ রাজপথের ষড়যন্ত্র, গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা: রিজভী ১০০ গুণী শিক্ষক পাচ্ছেন লাখ টাকা পুরস্কার প্রথমবারেই চমক: দুর্গাপুরে মহিলা দলের কর্মী সমাবেশে অনুষ্ঠিত ​ডিজিটাল সম্পদ সুরক্ষায় সফল উদ্যোগ: নেপথ্যে তরুণ সাইবার বিশেষজ্ঞ মোঃ রাকিবুল হাসান লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া লক্ষ্মীপুরে মাদক সেবীর দেওয়া আগুনে , পুড়ল ১১ বসতঘর ও ৬ দোকান

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:09:42 pm, Tuesday, 10 February 2026
  • 86 বার পড়া হয়েছে

নাদিম সরকার,

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই টেকসই উৎপাদন, সম্পদ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থরক্ষায় একাধিক আইন, অধ্যাদেশ ও নীতিমালা প্রণয়ন বা সংশোধন করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে গৃহীত কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরতে আজ সকালে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, মৎস্য খাতে ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও ২০২৬’ জারির মাধ্যমে মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা, ইলেক্ট্রোফিশিং নিষিদ্ধকরণ এবং অন্যান্য এলাকা-ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা (OECM) আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়া ‘জাতীয় মৎস্য নীতিমালা, ২০২৬’, ‘জাতীয় মৎস্য পদক নীতিমালা, ২০২৬’, ‘মৎস্য খাদ্য বিধিমালা, ২০২৪’, ‘মৎস্য সঙ্গনিরোধ বিধিমালা, ২০২৪’ এবং ‘মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। সামুদ্রিক জলসীমায় ৬৫ দিনের পরিবর্তে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং গভীর সমুদ্র ব্যতীত বাণিজ্যিক ট্রলারে SONAR ব্যবহার দুই বছরের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে ‘জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা, ২০২৬’, ‘প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’, ‘জাতীয় প্রাণিসম্পদ বীমা নীতিমালা, ২০২৬’, ‘জাতীয় কৃত্রিম প্রজনন নীতিমালা, ২০২৬ (খসড়া)’ এবং ‘ভেটেরিনারি ঔষধ অধ্যাদেশ, ২০২৬ (খসড়া)’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন ব্যয় কমাতে খামারিদের বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রিবেট সুবিধা এবং এ খাতে ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

উপদেষ্টা বলেন, জেলেদের সামাজিক সুরক্ষা ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত উপকারভোগী জেলের সংখ্যা ১৩,২৬,৪৮৬ থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর এলাকার জেলেরা নিষেধাজ্ঞা সময়ে ভিজিএফ সুবিধার আওতায় আসছেন।

তিনি বলেন, ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণে পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় ৬টি অভয়াশ্রম এবং বঙ্গোপসাগরে ৭,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছ সংরক্ষণে দেশে ৬৬৯টি অভয়াশ্রম পরিচালিত হচ্ছে। কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৭টি অভয়াশ্রম রয়েছে। এর মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়লেও এই লেক অবৈধ দখল ও শহরের দূষণের শিকার হচ্ছে।

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে ৫ নভেম্বর ২০২৫ গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। নদীর প্রজনন ক্ষেত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৬টি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে হালদা থেকে প্রায় ১৪ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। হালদা থেকে জাতীয় অর্থনীতিতে ৮০০ কোটি টাকার অধিক অবদান রাখছে।

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, পিপিআর নির্মূলে ৩ কোটি ৬১ লক্ষাধিক ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। ক্ষুরারোগ (FMD) নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪৬ লক্ষ এর অধিক ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর ১৭টি রোগের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৬ লক্ষ ৬২ হাজার ৪ শত ৬২ ডোজ গবাদিপশুর টিকা এবং ৫৩ কোটি ৯৫ লক্ষ ৩৯ হাজার ৬ শত ডোজ হাঁস-মুরগির টিকা উৎপাদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্স (AMR) প্রতিরোধে স্টুয়ার্ডশিপ গাইডলাইন প্রণয়ন, স্ট্যান্ডার্ড ট্রিটমেন্ট গাইডলাইন চালু এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার করার লক্ষ্যে জুনোটিক রোগ নির্ণয় ও নজরদারি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষায়িত ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, রমজানে সুলভ মূল্যে বিক্রয় রমজান মাসে ২৬ দিন ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ড্রেসড ব্রয়লার (২৪৫ টাকা/কেজি), দুধ (৮০ টাকা/লিটার), ডিম (৮ টাকা/পিস) এবং গরুর মাংস (৬৫০ টাকা/কেজি) বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্হানীয় উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়ের জন্য স্হায়ী স্হান নির্ধারণের মাধ্যমে বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও জলবায়ু প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত COP30 সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে। এতদিন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সাধারণভাবে খরা, বন্যা, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ইত্যাদির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল কিন্তু এখন তার সীমা অনেকদূর ছড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য সম্পদের ওপর তীব্র প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ওপর ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান, প্রাণিজ আমিষের যোগান এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখার পরও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত ‘কৃষির উপখাত’ হিসেবে চিহ্নিত থাকায় নীতি ও পরিকল্পনায় যথাযথ গুরুত্ব পায়নি এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ কারণে প্রধান উপদেষ্টা এবং পরিকল্পনা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিকট এ খাতকে পূর্ণাঙ্গ খাতের মর্যাদা ও প্রাপ্য সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, খামারিদের সুরক্ষা এবং তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের -এর উপস্থাপনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ইমাম উদ্দীন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ ১৬ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ১৩

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

আপডেট সময় : 05:09:42 pm, Tuesday, 10 February 2026

নাদিম সরকার,

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই টেকসই উৎপাদন, সম্পদ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থরক্ষায় একাধিক আইন, অধ্যাদেশ ও নীতিমালা প্রণয়ন বা সংশোধন করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে গৃহীত কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরতে আজ সকালে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, মৎস্য খাতে ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও ২০২৬’ জারির মাধ্যমে মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা, ইলেক্ট্রোফিশিং নিষিদ্ধকরণ এবং অন্যান্য এলাকা-ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা (OECM) আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়া ‘জাতীয় মৎস্য নীতিমালা, ২০২৬’, ‘জাতীয় মৎস্য পদক নীতিমালা, ২০২৬’, ‘মৎস্য খাদ্য বিধিমালা, ২০২৪’, ‘মৎস্য সঙ্গনিরোধ বিধিমালা, ২০২৪’ এবং ‘মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। সামুদ্রিক জলসীমায় ৬৫ দিনের পরিবর্তে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং গভীর সমুদ্র ব্যতীত বাণিজ্যিক ট্রলারে SONAR ব্যবহার দুই বছরের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে ‘জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা, ২০২৬’, ‘প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’, ‘জাতীয় প্রাণিসম্পদ বীমা নীতিমালা, ২০২৬’, ‘জাতীয় কৃত্রিম প্রজনন নীতিমালা, ২০২৬ (খসড়া)’ এবং ‘ভেটেরিনারি ঔষধ অধ্যাদেশ, ২০২৬ (খসড়া)’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন ব্যয় কমাতে খামারিদের বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রিবেট সুবিধা এবং এ খাতে ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

উপদেষ্টা বলেন, জেলেদের সামাজিক সুরক্ষা ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত উপকারভোগী জেলের সংখ্যা ১৩,২৬,৪৮৬ থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর এলাকার জেলেরা নিষেধাজ্ঞা সময়ে ভিজিএফ সুবিধার আওতায় আসছেন।

তিনি বলেন, ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণে পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় ৬টি অভয়াশ্রম এবং বঙ্গোপসাগরে ৭,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছ সংরক্ষণে দেশে ৬৬৯টি অভয়াশ্রম পরিচালিত হচ্ছে। কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৭টি অভয়াশ্রম রয়েছে। এর মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়লেও এই লেক অবৈধ দখল ও শহরের দূষণের শিকার হচ্ছে।

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে ৫ নভেম্বর ২০২৫ গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। নদীর প্রজনন ক্ষেত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৬টি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে হালদা থেকে প্রায় ১৪ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। হালদা থেকে জাতীয় অর্থনীতিতে ৮০০ কোটি টাকার অধিক অবদান রাখছে।

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, পিপিআর নির্মূলে ৩ কোটি ৬১ লক্ষাধিক ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। ক্ষুরারোগ (FMD) নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪৬ লক্ষ এর অধিক ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর ১৭টি রোগের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৬ লক্ষ ৬২ হাজার ৪ শত ৬২ ডোজ গবাদিপশুর টিকা এবং ৫৩ কোটি ৯৫ লক্ষ ৩৯ হাজার ৬ শত ডোজ হাঁস-মুরগির টিকা উৎপাদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্স (AMR) প্রতিরোধে স্টুয়ার্ডশিপ গাইডলাইন প্রণয়ন, স্ট্যান্ডার্ড ট্রিটমেন্ট গাইডলাইন চালু এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার করার লক্ষ্যে জুনোটিক রোগ নির্ণয় ও নজরদারি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষায়িত ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, রমজানে সুলভ মূল্যে বিক্রয় রমজান মাসে ২৬ দিন ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ড্রেসড ব্রয়লার (২৪৫ টাকা/কেজি), দুধ (৮০ টাকা/লিটার), ডিম (৮ টাকা/পিস) এবং গরুর মাংস (৬৫০ টাকা/কেজি) বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্হানীয় উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়ের জন্য স্হায়ী স্হান নির্ধারণের মাধ্যমে বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও জলবায়ু প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত COP30 সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে। এতদিন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সাধারণভাবে খরা, বন্যা, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ইত্যাদির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল কিন্তু এখন তার সীমা অনেকদূর ছড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য সম্পদের ওপর তীব্র প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ওপর ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান, প্রাণিজ আমিষের যোগান এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখার পরও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত ‘কৃষির উপখাত’ হিসেবে চিহ্নিত থাকায় নীতি ও পরিকল্পনায় যথাযথ গুরুত্ব পায়নি এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ কারণে প্রধান উপদেষ্টা এবং পরিকল্পনা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিকট এ খাতকে পূর্ণাঙ্গ খাতের মর্যাদা ও প্রাপ্য সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, খামারিদের সুরক্ষা এবং তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের -এর উপস্থাপনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ইমাম উদ্দীন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান প্রমুখ।