Dhaka , Wednesday, 28 January 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
মোংলায় নির্বাচন ঘিরে নৌবাহিনী টহল জোরদার, জনমনে স্বস্তি সিএমপি স্কুল এন্ড কলেজের আন্তঃহাউজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত ধানের শীষে’র প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলালে’র সমর্থনে এ্যাব চট্টগ্রামে’র নেতৃবৃন্দের প্রচার-প্রচারণা জিয়ার পরিবারের আস্থাভাজন ও আগামীর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং আজমিরীগন্জের রূপকার আহমেদ আলী মুকিব (আব্দুল্লাহ) রাজনীতি, নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ভোটারদের হৃদয়ে ‘দুলু ভাই’: লালমনিরহাট-৩ আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু নির্বাচন সামনে রেখে সীমান্তে ১৫ বিজিবির কড়াকড়ি: মোগলহাটে আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ নারায়ণগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভা সোনারগাঁয়ে র‍্যাবের অভিযানে ৪০ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক রংপুর মেডিকেল মোড়ে বাসে তল্লাশি: ২৯ কেজি গাঁজাসহ সুপারভাইজার ও হেলপার গ্রেফতার সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা রুখে দাঁড়াল সাংবাদিক সমাজ ষড়যন্ত্রমূলক মামলার প্রতিবাদে কক্সবাজারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা গণতন্ত্র কে শক্তিশালী ও স্বাধীনতা রক্ষায় ভোটকেন্দ্রে যাবেন:- ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব র‍্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ চবিতে অনুমোদন ছাড়া কলার শিক্ষার্থীরা থাকছেন বিজ্ঞান অনুষদের হলের সিটে হরিপুরে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ভেকু জব্দ, জরিমানা ১০ হাজার টাকা দক্ষিণ বুড়িশ্চর ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চট্টগ্রাম – ৫, হাটহাজারী- বায়েজিদ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলালের সমর্থনে গণসংযোগ পাইকগাছায় হুইলচেয়ার ও সেলাই মেশিন বিতরণ দুর্নীতি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মহেশখালীতে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ব্রিফিং অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা নিন্মমানের খাবার বিক্রির অভিযোগ ॥ ভিড় ও দাম বেশি রামুতে যাত্রীবাহী পুরবী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৯ কেজি গাঁজাসহ আটক ২ ঝালকাঠি-১ আসনে দাঁড়িপাল্লার জয়জয়কার হবে ১১ দলীয় জোটের: ড. ফয়জুল হক জাতীয়তাবাদের নামে ঋণ খেলাপি-বিদেশী নাগরিকদের লাল কার্ড দেখানো হবে : আসিফ মাহমুদ নিজ জমিতে বিদ্যুৎ খুঁটি থাকায় ঝুঁকি ও ক্ষতির মুখে একাধিক পরিবার ভোটের সততা নষ্ট হওয়ার বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবেনা: নোয়াখালীতে ইসি সানাউল্লাহ গরম তেলে খালি হাতে পেঁয়াজু তৈরি প্রতি পিস বিক্রি মাত্র ১ টাকায় যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আশ ফাউন্ডেশনের জরুরি খাদ্য সহায়তা রাজশাহীতে ৫ জুয়াড়ি ও মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার  কাঁঠালিয়ায় বিড়ি চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি অফিস ভাঙচুর, আহত ১ আমেরিকাও চায় জামায়াতের নেতৃত্বে সরকার গঠন: জামায়াত প্রার্থী ডাঃ সুলতান আহম্মেদ 

রাজনীতি, নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:35:31 pm, Wednesday, 28 January 2026
  • 3 বার পড়া হয়েছে

জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট:

বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক গভীর বিশ্বাস সংকটে উপনীত। রাজনীতি কি সত্যিই জনগণের কল্যাণের জন্য, নাকি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার কৌশল—এই প্রশ্নটি এখন আর তাত্ত্বিক নয়, এটি বাস্তব ও জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ দেখছে, নির্বাচনের নামে প্রক্রিয়া আছে, কিন্তু ভোটাধিকার নিয়ে আস্থা নেই; রাষ্ট্র আছে, কিন্তু জবাবদিহিতা দুর্বল।

এই বাস্তবতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক আয়োজন নয়, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে একটি বড় পরীক্ষা।

একটি নির্বাচন তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন জনগণ সেখানে স্বাধীনভাবে অংশ নিতে পারে, বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ পায় এবং ভোটের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থাকে না। ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের কাঠামোতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন জনগণের প্রকৃত রাজনৈতিক মতামত কতটা প্রতিফলিত করবে—এই প্রশ্নের স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য উত্তর এখনো মেলেনি।

গণতন্ত্রের মূল শক্তি অংশগ্রহণ। অথচ অংশগ্রহণহীন বা সীমিত অংশগ্রহণের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না; বরং তা সংকটকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। এই বাস্তবতায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। কিন্তু দেশের ভেতরের রাজনৈতিক বাস্তবতা আন্তর্জাতিক সুনামের চেয়েও কঠিন। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা—এই তিনটি বিষয়ের ওপরই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করছে।

প্রশ্ন হলো, তিনি কি রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে উঠে একটি সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন? নাকি এই নির্বাচনও অতীতের মতোই ‘প্রক্রিয়াগত’ নির্বাচনের তালিকায় যুক্ত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সদিচ্ছায় নয়, রাষ্ট্রযন্ত্রের সম্মিলিত আচরণের ওপর নির্ভর করছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ড. ইউনুস যদি দৃঢ় অবস্থান নিয়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পারেন, তবে নির্বাচন একটি গ্রহণযোগ্য পথে এগোতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন—তিনি কি রাজনৈতিক চাপ, দলীয় প্রভাব এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক বাস্তবতা সামাল দিতে পারবেন?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি দীর্ঘ আন্দোলনের প্রতীক। গত প্রায় ১৭ বছর ধরে দলটি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে রয়েছে। এই আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিল একটি মৌলিক দাবি—ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার।
সমালোচকরা বিএনপির আন্দোলন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুললেও একটি বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই—দেশে আজ যে নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক, আস্থাহীনতা ও আন্তর্জাতিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা বিএনপির দীর্ঘদিনের দাবিকেই প্রমাণ করে। বিএনপির আন্দোলন ক্ষমতার জন্য নয়—এটি একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি।

অতীতে নির্বাচন না হওয়ার দাবিতে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবতা হলো, সেই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যও ছিল অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা। গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস না করার রাজনৈতিক অবস্থানই বিএনপির মূল শক্তি।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই সহজ নয়। এই লড়াইয়ে দমন, মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপ এসেছে বারবার। তবুও বিএনপি রাজপথ ছাড়েনি। কারণ গণতন্ত্র কোনো দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয়—এটি জনগণের অধিকার।

আজ যারা বিএনপির আন্দোলনকে ‘দ্বন্দ্বের রাজনীতি’ বলে আখ্যা দেন, তাদের মনে রাখা দরকার—গণতন্ত্রের ইতিহাস কখনোই নির্বিঘ্ন ছিল না। গণতন্ত্র এসেছে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই। প্রশ্ন হলো, সেই সংগ্রামকে রাষ্ট্র কি স্বীকৃতি দেবে,
নাকি দমন করবে?

দেশের তরুণ ভোটাররা আজ সবচেয়ে বেশি হতাশ। তারা চায় একটি ভোট, যার মূল্য থাকবে; একটি সরকার, যার কাছে জবাবদিহিতা থাকবে। বিএনপির আন্দোলন এই তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেই যুক্ত—কারণ ভোটাধিকার ছাড়া কোনো ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে পারত। কিন্তু অংশগ্রহণ, আস্থা ও নিরপেক্ষতা ছাড়া কোনো নির্বাচনই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ খুলে দিতে পারে না।

এই বাস্তবতায় বিএনপির আন্দোলন কোনো দলীয় স্বার্থের নয়—এটি রাষ্ট্র ও জনগণের অধিকারের প্রশ্ন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গণতন্ত্র কখনো দানে আসে না, তা আদায় করে নিতে হয়।

এই নির্বাচন কি সত্যিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ খুলবে, নাকি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আরও দীর্ঘ করবে?

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মোংলায় নির্বাচন ঘিরে নৌবাহিনী টহল জোরদার, জনমনে স্বস্তি

রাজনীতি, নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

আপডেট সময় : 02:35:31 pm, Wednesday, 28 January 2026

জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট:

বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক গভীর বিশ্বাস সংকটে উপনীত। রাজনীতি কি সত্যিই জনগণের কল্যাণের জন্য, নাকি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার কৌশল—এই প্রশ্নটি এখন আর তাত্ত্বিক নয়, এটি বাস্তব ও জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ দেখছে, নির্বাচনের নামে প্রক্রিয়া আছে, কিন্তু ভোটাধিকার নিয়ে আস্থা নেই; রাষ্ট্র আছে, কিন্তু জবাবদিহিতা দুর্বল।

এই বাস্তবতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক আয়োজন নয়, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে একটি বড় পরীক্ষা।

একটি নির্বাচন তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন জনগণ সেখানে স্বাধীনভাবে অংশ নিতে পারে, বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ পায় এবং ভোটের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থাকে না। ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের কাঠামোতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন জনগণের প্রকৃত রাজনৈতিক মতামত কতটা প্রতিফলিত করবে—এই প্রশ্নের স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য উত্তর এখনো মেলেনি।

গণতন্ত্রের মূল শক্তি অংশগ্রহণ। অথচ অংশগ্রহণহীন বা সীমিত অংশগ্রহণের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না; বরং তা সংকটকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। এই বাস্তবতায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। কিন্তু দেশের ভেতরের রাজনৈতিক বাস্তবতা আন্তর্জাতিক সুনামের চেয়েও কঠিন। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা—এই তিনটি বিষয়ের ওপরই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করছে।

প্রশ্ন হলো, তিনি কি রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে উঠে একটি সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন? নাকি এই নির্বাচনও অতীতের মতোই ‘প্রক্রিয়াগত’ নির্বাচনের তালিকায় যুক্ত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সদিচ্ছায় নয়, রাষ্ট্রযন্ত্রের সম্মিলিত আচরণের ওপর নির্ভর করছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ড. ইউনুস যদি দৃঢ় অবস্থান নিয়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পারেন, তবে নির্বাচন একটি গ্রহণযোগ্য পথে এগোতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন—তিনি কি রাজনৈতিক চাপ, দলীয় প্রভাব এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক বাস্তবতা সামাল দিতে পারবেন?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি দীর্ঘ আন্দোলনের প্রতীক। গত প্রায় ১৭ বছর ধরে দলটি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে রয়েছে। এই আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিল একটি মৌলিক দাবি—ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার।
সমালোচকরা বিএনপির আন্দোলন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুললেও একটি বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই—দেশে আজ যে নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক, আস্থাহীনতা ও আন্তর্জাতিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা বিএনপির দীর্ঘদিনের দাবিকেই প্রমাণ করে। বিএনপির আন্দোলন ক্ষমতার জন্য নয়—এটি একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি।

অতীতে নির্বাচন না হওয়ার দাবিতে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবতা হলো, সেই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যও ছিল অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা। গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস না করার রাজনৈতিক অবস্থানই বিএনপির মূল শক্তি।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই সহজ নয়। এই লড়াইয়ে দমন, মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপ এসেছে বারবার। তবুও বিএনপি রাজপথ ছাড়েনি। কারণ গণতন্ত্র কোনো দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয়—এটি জনগণের অধিকার।

আজ যারা বিএনপির আন্দোলনকে ‘দ্বন্দ্বের রাজনীতি’ বলে আখ্যা দেন, তাদের মনে রাখা দরকার—গণতন্ত্রের ইতিহাস কখনোই নির্বিঘ্ন ছিল না। গণতন্ত্র এসেছে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই। প্রশ্ন হলো, সেই সংগ্রামকে রাষ্ট্র কি স্বীকৃতি দেবে,
নাকি দমন করবে?

দেশের তরুণ ভোটাররা আজ সবচেয়ে বেশি হতাশ। তারা চায় একটি ভোট, যার মূল্য থাকবে; একটি সরকার, যার কাছে জবাবদিহিতা থাকবে। বিএনপির আন্দোলন এই তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেই যুক্ত—কারণ ভোটাধিকার ছাড়া কোনো ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে পারত। কিন্তু অংশগ্রহণ, আস্থা ও নিরপেক্ষতা ছাড়া কোনো নির্বাচনই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ খুলে দিতে পারে না।

এই বাস্তবতায় বিএনপির আন্দোলন কোনো দলীয় স্বার্থের নয়—এটি রাষ্ট্র ও জনগণের অধিকারের প্রশ্ন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গণতন্ত্র কখনো দানে আসে না, তা আদায় করে নিতে হয়।

এই নির্বাচন কি সত্যিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ খুলবে, নাকি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আরও দীর্ঘ করবে?