Dhaka , Monday, 11 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
বাড়ির সামনে জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধ ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক প্যানেল চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার ভাড়াটিয়া কর্তৃক নারী বাড়িওয়ালী লাঞ্চিত, শ্লীতাহানীর চেষ্টার অভিযোগ স্বর্ণপদক অর্জনের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে “DEMON 71” টিম, মালয়েশিয়ায় অংশ নিতে যাচ্ছে জাতীয় বিজয়ী দল পুলিশ সপ্তাহে সিএমপির ভার্চুয়াল অংশগ্রহণ পরিবহন খাতের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে :- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কৃষিতে বিপ্লব ঘটাবে খাল খনন কর্মসূচি: কুড়িগ্রামে ২ কিমি খালের উদ্বোধন করলেন ত্রাণমন্ত্রী নতুন কুড়ি ২০২৬ (মাদারীপুর) ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। অ্যাপলের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতাবিরোধী অভিযোগে মামলা করল ‘রেভ’, শত কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি শিক্ষার মান ও দক্ষতার সংকট: বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কতটা প্রস্তুত ভবিষ্যতের জন্য? শৈশবের পরও টিকা জরুরি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিন আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে ৩০০ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারায় গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে ক্রিস্পি চিলি পটেটো তৈরির রেসিপি জেনে নিন আবুধাবিতে বাংলাদেশ সমিতি ইউএই কেন্দ্রীয় কমিটির এজিএম অনুষ্ঠিত চ্যাটের মাধ্যমেই ভিডিও খোঁজার সুযোগ দিচ্ছে ইউটিউব, আসছে এআই ফিচার ‘Ask YouTube’ অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় হজ করলে কি ফরজ হজ আদায় হবে? ইসলামি বিধান কী বলে লাইফ সাপোর্টে অভিনেত্রী কারিনা কায়সার, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার চেষ্টা মিরাজের ঘূর্ণিতে আবারও বাংলাদেশের দাপট, টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৭ রানের লিড ইরান হরমুজ প্রণালীতে সাবমেরিন মোতায়েন করেছে। টিসিবির ট্রাকসেল শুরু কাল, ৭২০ ট্রাকে মিলবে ৩ পণ্য সীমান্ত হত্যা রোধে শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থান জানান দিতে হবে: আসিফ মামুহদ রাতের মধ্যে ১৮ অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস পাইকগাছায় রিপ্রেজেন্টেটিভদের নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে মানববন্ধন কুড়িগ্রামে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন ত্রাণমন্ত্রী গ্যারেজে চলছিল চোরাই অটোরিকশা বেচাকেনা, গ্রেপ্তার ৫  ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হাতিয়ার জেলেরা ১৫ বিজিবি’র ধাওয়ায় ৪৪০০ পিস ইয়াবা ফেলে পালালো চোরাকারবারীরা: কুড়িগ্রাম সীমান্তে বড় অভিযান রামুতে স্কুল পরিদর্শন করলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

মেহেরপুরে পেঁয়াজ চাষিদের মাথায় হাত।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 02:47:05 pm, Tuesday, 24 December 2024
  • 236 বার পড়া হয়েছে

মেহেরপুরে পেঁয়াজ চাষিদের মাথায় হাত।।

মাজিদ আল মামুন- মেহেরপুর।।
  
   
   
বেশি মূল্যে পেঁয়াজের বীজ কিনে তা রোপণের পর বর্তমান বাজারে বৈদেশিক পেঁয়াজ -এলসি- আমদানি করায় পেঁয়াজের বাজার মূল্যে ধস নামায় মেহেরপুরের কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি দেশের বাজারে পেঁয়াজের মূল্য ২’শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত।
মাত্র ২ সপ্তাহ পূর্বেও পেঁয়াজের বাজার দরে কৃষকের মুখে হাসি থাকলেও এখন তা মলিন হয়ে গেছে। কি করবে ভেবে না পেয়ে তারা দিশেহারা।
মঙ্গলবার -২৪ ডিসেম্বর-সকাল থেকে সন্ধা অবধি মেহেরপুরের টেংরামারী- আশরাফপুর- হরিরামপুর-শ্যামপুর- কালিগাংনী- মাইলমারী- গোপালনগর- রায়পুর- হেমায়েতপুর- রুয়েরকান্দি- মানিকদিয়া- ভোলাডাঙ্গা- রাজাপুর- কোদাইলকাঠি, সিঁদুর কৌটা ও কুমারীডাঙ্গাসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে অধিকাংশ এলাকায় শুধু পেঁয়াজের চাষই চোখে মেলে।
কৃষকদের সাথে আলাপকালে গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের কোদাইলকাঠি গ্রামের জিনারুল ইসলাম- জাইরুদ্দীন ও জাহারুলসহ কয়েকজন কৃষক জানান- এলাকায় প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। বিঘা প্রতি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করতে খরচ হয়েছে ৮০-১ লাখ ২০ হাজার টাকা। পেঁয়াজের বীজ কেনা হয়েছিল ৮-৯ হাজার টাকা মণ দরে। কিন্তু এখন নতুন পেঁয়াজের বাজার মূল্য প্রতি মণ ১২’শ টাকা। এতে করে খরচের টাকাই উঠবেনা বরং প্রতি বিঘা জমিতে লোকসান গুনতে হবে ৩০-৪০ হাজার টাকা। তিনারা এ ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এলসি পেঁয়াজ আমদানি বন্ধসহ ৮০ টাকা পেঁয়াজের মূল্য নির্ধারণের দাবী জানান। 
রাজাপুর গ্রামের এমদাদুল হক- ইয়াসিন- রাহাতুল ও আব্দুর রবসহ কয়েকজন কৃষক জানান, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে লোন নিয়ে পেঁয়াজের চাষ করেছি। কিন্তু এলসি পেঁয়াজ আমদানির কারণে বিরাট লোকসানের মুখে পড়তে হবে কৃষকদের। এসব লোন কিভাবে পরিশোধ করবে এ নিয়ে বিপাকে রয়েছেন তিনারা। তিনারা কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সাথে এলসি আমদানি বন্ধের জোর দাবী জানিয়েছেন।
ভোলাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক জালাল জানান, গত ১০ মাস ধরে পেঁয়াজ কিনে খেয়েছি ১২০- ২০০ টাকা কেজি দরে। পেঁয়াজ রোপণে বিঘা প্রতি জমির ১০ মন বীজ কিনেছি ৯০ হাজার টাকায় কিন্তু পেঁয়াজ উঠানোর সময় এখন আমরা মাস দু’য়েক বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে চাইলেও এখন ২০-২৫ টাকা কেজি। তাহলে এতদামে বীজ কিনে এখন লোকসান পুষিয়ে নেবো কিভাবে? এ ব্যাপারে তিনি সরকারের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য।
একই গ্রামের ছিদ্দিক জানান- সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছি। বিঘা প্রতি জমিতে শুধু বীজ কিনতেই খরচ হয়েছে ৮৫ হাজার টাকা। বিঘাতে সর্বোচ্চ ফলন ৫০ মণ হলেও বিক্রি করে হবে ৬০ হাজার টাকা। তাহলে বাকী ৩৫ হাজার টাকা কোথা থেকে পূরণ করবো।
কৃষক নাজমুল জানান- বেশি মূল্যে সার বীজ কিনে আবাদ শেষে এখন ১২’শ টাকা মণ বিক্রি করে লোকসানই গুনতে হবে।
অপর একজন কৃষক জানান- ৫ কাঠা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করতে বীজ কিনতে হয়েছে ১০ হাজার টাকা মণ দরে। বর্তমান বাজার মূল্যে উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করলে ৭-৮ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে।
সিঁদুরকৌটা গ্রামের কৃষক সাহাজুল ইসলাম জানান- দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষে শুধু বীজ কিনতেই খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে তোলা যাবে। কিন্তু লোকসান পুষিয়ে নিতে পেঁয়াজের কলিও বিক্রি করছেন। কলি ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও লোকসান তোলা সম্ভব নয়। তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
অধিকাংশ কৃষক জানান- বিঘা প্রতি জমিতে পেঁয়াজ চাষে বীজ- সার- হালচাষ- কীটনাশক- সেচ কাজ- মজুরী ও পরিবহনসহ খরচ হয়েছে ১ লাখ ৩০-৫০ হাজার টাকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে খরচের অর্ধেক টাকাও তোলা সম্ভব নয়। এমতবস্থায় তিনারা আগামী ৩ মাসের জন্য এলসি পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করাসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামীতে পেঁয়াজ চাষ অব্যাহত রাখতে আর্থিকভাবে সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে- চলতি মৌসুমে জেলায় শীতকালীন পেঁয়াজের চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৯’শ ৩৬ হেক্টর জমিতে। প্রণোদনা সহায়তা হিসেবে ৪’শ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে।
যদিও অধিকাংশ কৃষকের অভিযোগ কৃষি বিভাগ থেকে গ্রামের ৩-৪ জন এ প্রণোদনা সহায়তা পেয়েছেন। যা ছিল নিম্ন মাণের। একই সাথে কৃষি বিভাগ থেকে কোনরূপ পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগও একাধিক। 
কৃষকরা জানান- বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে কেন। আমরা নিজ পরিকল্পনাতেই খুব ভালো ফলন পাচ্ছি পেঁয়াজে। যদি কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে পেঁয়াজ উৎপাদনে তিনারা দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ির সামনে জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধ

মেহেরপুরে পেঁয়াজ চাষিদের মাথায় হাত।।

আপডেট সময় : 02:47:05 pm, Tuesday, 24 December 2024
মাজিদ আল মামুন- মেহেরপুর।।
  
   
   
বেশি মূল্যে পেঁয়াজের বীজ কিনে তা রোপণের পর বর্তমান বাজারে বৈদেশিক পেঁয়াজ -এলসি- আমদানি করায় পেঁয়াজের বাজার মূল্যে ধস নামায় মেহেরপুরের কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি দেশের বাজারে পেঁয়াজের মূল্য ২’শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত।
মাত্র ২ সপ্তাহ পূর্বেও পেঁয়াজের বাজার দরে কৃষকের মুখে হাসি থাকলেও এখন তা মলিন হয়ে গেছে। কি করবে ভেবে না পেয়ে তারা দিশেহারা।
মঙ্গলবার -২৪ ডিসেম্বর-সকাল থেকে সন্ধা অবধি মেহেরপুরের টেংরামারী- আশরাফপুর- হরিরামপুর-শ্যামপুর- কালিগাংনী- মাইলমারী- গোপালনগর- রায়পুর- হেমায়েতপুর- রুয়েরকান্দি- মানিকদিয়া- ভোলাডাঙ্গা- রাজাপুর- কোদাইলকাঠি, সিঁদুর কৌটা ও কুমারীডাঙ্গাসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে অধিকাংশ এলাকায় শুধু পেঁয়াজের চাষই চোখে মেলে।
কৃষকদের সাথে আলাপকালে গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের কোদাইলকাঠি গ্রামের জিনারুল ইসলাম- জাইরুদ্দীন ও জাহারুলসহ কয়েকজন কৃষক জানান- এলাকায় প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। বিঘা প্রতি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করতে খরচ হয়েছে ৮০-১ লাখ ২০ হাজার টাকা। পেঁয়াজের বীজ কেনা হয়েছিল ৮-৯ হাজার টাকা মণ দরে। কিন্তু এখন নতুন পেঁয়াজের বাজার মূল্য প্রতি মণ ১২’শ টাকা। এতে করে খরচের টাকাই উঠবেনা বরং প্রতি বিঘা জমিতে লোকসান গুনতে হবে ৩০-৪০ হাজার টাকা। তিনারা এ ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এলসি পেঁয়াজ আমদানি বন্ধসহ ৮০ টাকা পেঁয়াজের মূল্য নির্ধারণের দাবী জানান। 
রাজাপুর গ্রামের এমদাদুল হক- ইয়াসিন- রাহাতুল ও আব্দুর রবসহ কয়েকজন কৃষক জানান, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে লোন নিয়ে পেঁয়াজের চাষ করেছি। কিন্তু এলসি পেঁয়াজ আমদানির কারণে বিরাট লোকসানের মুখে পড়তে হবে কৃষকদের। এসব লোন কিভাবে পরিশোধ করবে এ নিয়ে বিপাকে রয়েছেন তিনারা। তিনারা কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সাথে এলসি আমদানি বন্ধের জোর দাবী জানিয়েছেন।
ভোলাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক জালাল জানান, গত ১০ মাস ধরে পেঁয়াজ কিনে খেয়েছি ১২০- ২০০ টাকা কেজি দরে। পেঁয়াজ রোপণে বিঘা প্রতি জমির ১০ মন বীজ কিনেছি ৯০ হাজার টাকায় কিন্তু পেঁয়াজ উঠানোর সময় এখন আমরা মাস দু’য়েক বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে চাইলেও এখন ২০-২৫ টাকা কেজি। তাহলে এতদামে বীজ কিনে এখন লোকসান পুষিয়ে নেবো কিভাবে? এ ব্যাপারে তিনি সরকারের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য।
একই গ্রামের ছিদ্দিক জানান- সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছি। বিঘা প্রতি জমিতে শুধু বীজ কিনতেই খরচ হয়েছে ৮৫ হাজার টাকা। বিঘাতে সর্বোচ্চ ফলন ৫০ মণ হলেও বিক্রি করে হবে ৬০ হাজার টাকা। তাহলে বাকী ৩৫ হাজার টাকা কোথা থেকে পূরণ করবো।
কৃষক নাজমুল জানান- বেশি মূল্যে সার বীজ কিনে আবাদ শেষে এখন ১২’শ টাকা মণ বিক্রি করে লোকসানই গুনতে হবে।
অপর একজন কৃষক জানান- ৫ কাঠা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করতে বীজ কিনতে হয়েছে ১০ হাজার টাকা মণ দরে। বর্তমান বাজার মূল্যে উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করলে ৭-৮ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে।
সিঁদুরকৌটা গ্রামের কৃষক সাহাজুল ইসলাম জানান- দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষে শুধু বীজ কিনতেই খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে তোলা যাবে। কিন্তু লোকসান পুষিয়ে নিতে পেঁয়াজের কলিও বিক্রি করছেন। কলি ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও লোকসান তোলা সম্ভব নয়। তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
অধিকাংশ কৃষক জানান- বিঘা প্রতি জমিতে পেঁয়াজ চাষে বীজ- সার- হালচাষ- কীটনাশক- সেচ কাজ- মজুরী ও পরিবহনসহ খরচ হয়েছে ১ লাখ ৩০-৫০ হাজার টাকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে খরচের অর্ধেক টাকাও তোলা সম্ভব নয়। এমতবস্থায় তিনারা আগামী ৩ মাসের জন্য এলসি পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করাসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামীতে পেঁয়াজ চাষ অব্যাহত রাখতে আর্থিকভাবে সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে- চলতি মৌসুমে জেলায় শীতকালীন পেঁয়াজের চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৯’শ ৩৬ হেক্টর জমিতে। প্রণোদনা সহায়তা হিসেবে ৪’শ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে।
যদিও অধিকাংশ কৃষকের অভিযোগ কৃষি বিভাগ থেকে গ্রামের ৩-৪ জন এ প্রণোদনা সহায়তা পেয়েছেন। যা ছিল নিম্ন মাণের। একই সাথে কৃষি বিভাগ থেকে কোনরূপ পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগও একাধিক। 
কৃষকরা জানান- বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে কেন। আমরা নিজ পরিকল্পনাতেই খুব ভালো ফলন পাচ্ছি পেঁয়াজে। যদি কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে পেঁয়াজ উৎপাদনে তিনারা দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।