Dhaka , Saturday, 26 September 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রূপগঞ্জে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পরিকল্পিত নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির মিছিল ও সমাবেশ কালিয়াকৈরে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিরতা করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সমাবেশ চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬: ঐতিহ্য-সংস্কৃতির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও কমিউনিটি ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম কালিয়াকৈরে চন্দ্রা এিমোড়ের মহাসড়কের পাশে অবৈধ ফুটপাতের দখলে রমরমাট ব্যবসা নারীর ক্ষমতায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নে শিক্ষার বিকল্প নেই:- ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনার বুক চিরে জেগে উঠেছে ভিটেমাটি জলদস্যুমুক্ত চরের প্রত্যাশা চরভদ্রাসনে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত এম জালাল সভাপতি, আঃ কাদির সেক্রেটারি; পূর্বপাড়া জামে মসজিদের কমিটি গঠন রূপগঞ্জে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণসহ বিভিন্ন ইসুতে ১৪ গ্রামের মানুষের বিশাল আলোচনা অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জে ছয় মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা শ্রীপুরে ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যবদল ও তরুণদের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স :-ব্যারিস্টার মীর হেলাল শিবচরে যাত্রীবাহী দুটি বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত আহত ১৫ ধর্মপাশায় মোবাইল কোর্ট অভিযানে বন্ধ হল ২টি অবৈধ করাত কল দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবারও দেখা মিলল মায়া হরিণের নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ সমাপ্ত ও সনদপত্র প্রদান সাভারে পরিত্যক্ত কক্ষে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৩ জন কালিয়াকৈরে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ৬ টি দোকান ২২ টি কক্ষ ২ টি কলোনি পুড়ে ছাই বীরকন্যা প্রীতিলতার আত্মত্যাগ স্মরণে চবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের উদ্যোগে মোমবাতি প্রজ্বলন বেতাগীতে স্কুল ছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় যুবকে গ্রেপ্তারে দাবীতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মানববন্ধন জামিয়া ইসলামিয়া সুবন্দী মাদ্রাসায় বার্ষিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ গুম খুন অপহরণ মিথ্যা মামলা আ.লীগের ঐতিহ্য: খন্দকার মারুফ মধুপুরে জৈব কৃষি বিষয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ রূপগঞ্জে ডাকাতি হাওয়া স্বর্ণ উদ্ধার , ৫ ডাকাতসহ ধারালো উদ্ধার পাইকগাছা পৌরসভায় মাসিক সভা অনুষ্ঠিত বহিষ্কার-গ্রেপ্তারেও থামছে না বরিশালে চাঁদাবাজি: রাতারাতি ধনী হতে কিছু নেতাদের প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারক কক্সবাজারে আইন-শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিতকরণে বিশেষ সভা দুর্গাপুরে আদিবাসী ও স্থানীয়দের নিয়ে মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত রামুর রাজারকুলে বাঁকখালী নদীতে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষার্থীর শাহীনের মরদেহ উদ্ধার : দাফন সম্পন্ন

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত লক্ষ্মীপুরের মাসরুরের খবর কেউ রাখে না।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 04:25:17 pm, Friday, 27 September 2024
  • 204 বার পড়া হয়েছে

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত লক্ষ্মীপুরের মাসরুরের খবর কেউ রাখে না।।

মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।।
  
   
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগষ্ট পুলিশের গুলিতে নিহত হন লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম মাসরুর। কিন্তু এখন তার খবর আর কেউ রাখে না।মানবেতর জীবন যাপন করছে তার পরিবার। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেন গাজীপুরে।   আন্দোলনে অংশ নিতে নিষেধ করছিলেন স্ত্রী বিবি সালমা। এ সময় স্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে তিনি বলেছিলেন- আমি আন্দোলনে গেলে শহীদ হব। যদি মারা যাই- লোকে তোমাদের শহীদের স্ত্রী-সন্তান’ বলে ডাকবে। আর আমার সন্তান মারা গেলে- তখন সবাই আমাদেরকে শহীদের বাবা-মা বলে ডাকবে।
গত ৫ আগস্ট গাজীপুরে আন্দোলনে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মাসরুর। তিনি যখন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তখন তার স্ত্রী সালমা আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার মৃত্যুর দেড় মাস পর গত রোববার -২২ সেপ্টেম্বর- স্ত্রীর কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান। শিশুটির এখনো নাম রাখা হয়নি। সাড়ে তিন বছর বয়সী নাফিজা আক্তার নামে এক কন্যা সন্তানও রয়েছে তাদের। প্রতিদিন বাবার সঙ্গে মোবাইলফোনে কথা বলত নাফিজা। গত দেড় মাস বাবার সঙ্গে তার কথা হয় না। বাবার কথা জিজ্ঞেস করতেই দুচোখ পানিতে ভিজে যায় ছোট্ট নাফিজার।
শহীদ মাসরুরের স্ত্রী বিবি সালমার সাথে কথা হলে তিনি বলেন- মাসরুর আমাকে বলেছিলেন আন্দোলনে তার সঙ্গী হতে। আমাকে আন্দোলনে যেতে বুঝিয়ে গেছেন। হাজিরহাটে মিছিল হবে- আমাকে যেতে বলেছেন। সঙ্গে আমার সন্তানকে নেওয়ার জন্যও বলেছিলেন। এখন সবাই আছে, শুধু মাসরুর নেই। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার- কোথায় যাব- কি করব আল্লাহপাক জানেন। 
৫ আগস্টও সালমার সঙ্গে মাসরুরের কথা হয়। তখন মাসরুর দোকানে ছিলেন। সালমাকে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি আন্দোলনে যাবেন। সালমা খাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে আন্দোলন তারপর খাওয়া-দাওয়া। পরে সালমা তার ভাইয়ের কাছে জানতে পারেন মাসরুর মারা গেছেন। 
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার পাটওয়ারীর হাট ইউনিয়নের চরবড়ালিয়া গ্রামের বৃদ্ধ আবদুল খালেকের ছেলে মাসরুর। জীবিকার তাগিদে তিনি মাদরাসায় শিক্ষকতা, পোলট্রি খামার ও ইলেকট্রিক সরঞ্জামের ব্যবসা করেছেন। তবে কোথাও স্থায়ী হতে পারেননি। সবশেষ প্রায় সাত মাস আগে গাজীপুরে তার শ্বশুর মো. মোস্তফার কাছে যান ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে। সেখানে ব্যবসায় ভালোই করছিলেন। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতি করায় সরকার পতনের আন্দোলনে সবসময় সক্রিয় ছিলেন তিনি। মাসরুর ইসলামী আন্দোলনের পাটওয়ারীর হাট ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। 
মাসরুরের শিক্ষকতা জীবনের সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম মেহরাজ বলেন, ঘটনার দিন মাসরুর তার এক বন্ধুকে বলেছিল, গুলিবিদ্ধ কেউ একজনকে তিনি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। গুলিবিদ্ধ সেই লোকটি তার বন্ধু ছিল। এরপর আর তার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। পরে গাজীপুরের শহীদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে— গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনদের দুশ্চিন্তায় না ফেলতে সেদিন তিনি ঘটনাটি লুকিয়েছিলেন। 
মাসরুরের ছোট ভাই হুমায়ুন কবির বলেন, আমার ভাই জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন। নিজে পড়ালেখা করেছেন। পাশাপাশি আমাদের জন্য কষ্ট করেছেন। তিনি একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। পরে ওই মাদরাসার দায়িত্ব আমাকে বুঝিয়ে দিয়ে তিনি গাজীপুরে ব্যবসা করতে যান। আমার ভাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। সবাই বলেছে, তার শরীরের একটা গুলি লেগেছে। তবে শেষ গোসলের সময় তার পেটে ও পিঠে দুটি গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। 
মাসরুরের চাচা শ্বশুর ওমর ফারুক বলেন, মাসরুর আর্থিকভাবে তেমন একটা স্বাবলম্বী ছিলেন না। গাজীপুর যাওয়ার আগে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে যান। এখন তো কোনোভাবে দিন কাটছে তাদের। সামনে তারা কীভাবে চলবে? যতই সময় যাচ্ছে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। সরকার যদি পরিবারটির দিকে মুখ তুলে তাকায় হয়তো মাসরুরের স্ত্রী ছেলে-মেয়েকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। 
মাসরুরের কথা জিজ্ঞেস করতেই তার বৃদ্ধ বাবা আবদুল খালেকের চোখ থেকে পানি ঝরতে শুরু করে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, মাসরুর সবার চেয়ে ভালো ছিল। পরিবারের সবার দেখভাল করত। সরকার যদি আমাদের দিকে খেয়াল করে তাহলে মাসরুরের স্ত্রী,ছেলে মেয়ের জন্য ভালো একটা কিছু করা সম্ভব। তাই এই এতিম বাচ্চাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধান উপদেষ্টা সহ সকল উপদেষ্টার সুদৃষ্টি কামনা করছি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পরিকল্পিত নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির মিছিল ও সমাবেশ

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত লক্ষ্মীপুরের মাসরুরের খবর কেউ রাখে না।।

আপডেট সময় : 04:25:17 pm, Friday, 27 September 2024
মোঃ মাসুদ রানা মনি
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।।
  
   
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগষ্ট পুলিশের গুলিতে নিহত হন লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম মাসরুর। কিন্তু এখন তার খবর আর কেউ রাখে না।মানবেতর জীবন যাপন করছে তার পরিবার। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেন গাজীপুরে।   আন্দোলনে অংশ নিতে নিষেধ করছিলেন স্ত্রী বিবি সালমা। এ সময় স্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে তিনি বলেছিলেন- আমি আন্দোলনে গেলে শহীদ হব। যদি মারা যাই- লোকে তোমাদের শহীদের স্ত্রী-সন্তান’ বলে ডাকবে। আর আমার সন্তান মারা গেলে- তখন সবাই আমাদেরকে শহীদের বাবা-মা বলে ডাকবে।
গত ৫ আগস্ট গাজীপুরে আন্দোলনে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মাসরুর। তিনি যখন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তখন তার স্ত্রী সালমা আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার মৃত্যুর দেড় মাস পর গত রোববার -২২ সেপ্টেম্বর- স্ত্রীর কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান। শিশুটির এখনো নাম রাখা হয়নি। সাড়ে তিন বছর বয়সী নাফিজা আক্তার নামে এক কন্যা সন্তানও রয়েছে তাদের। প্রতিদিন বাবার সঙ্গে মোবাইলফোনে কথা বলত নাফিজা। গত দেড় মাস বাবার সঙ্গে তার কথা হয় না। বাবার কথা জিজ্ঞেস করতেই দুচোখ পানিতে ভিজে যায় ছোট্ট নাফিজার।
শহীদ মাসরুরের স্ত্রী বিবি সালমার সাথে কথা হলে তিনি বলেন- মাসরুর আমাকে বলেছিলেন আন্দোলনে তার সঙ্গী হতে। আমাকে আন্দোলনে যেতে বুঝিয়ে গেছেন। হাজিরহাটে মিছিল হবে- আমাকে যেতে বলেছেন। সঙ্গে আমার সন্তানকে নেওয়ার জন্যও বলেছিলেন। এখন সবাই আছে, শুধু মাসরুর নেই। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার- কোথায় যাব- কি করব আল্লাহপাক জানেন। 
৫ আগস্টও সালমার সঙ্গে মাসরুরের কথা হয়। তখন মাসরুর দোকানে ছিলেন। সালমাকে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি আন্দোলনে যাবেন। সালমা খাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে আন্দোলন তারপর খাওয়া-দাওয়া। পরে সালমা তার ভাইয়ের কাছে জানতে পারেন মাসরুর মারা গেছেন। 
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার পাটওয়ারীর হাট ইউনিয়নের চরবড়ালিয়া গ্রামের বৃদ্ধ আবদুল খালেকের ছেলে মাসরুর। জীবিকার তাগিদে তিনি মাদরাসায় শিক্ষকতা, পোলট্রি খামার ও ইলেকট্রিক সরঞ্জামের ব্যবসা করেছেন। তবে কোথাও স্থায়ী হতে পারেননি। সবশেষ প্রায় সাত মাস আগে গাজীপুরে তার শ্বশুর মো. মোস্তফার কাছে যান ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে। সেখানে ব্যবসায় ভালোই করছিলেন। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতি করায় সরকার পতনের আন্দোলনে সবসময় সক্রিয় ছিলেন তিনি। মাসরুর ইসলামী আন্দোলনের পাটওয়ারীর হাট ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। 
মাসরুরের শিক্ষকতা জীবনের সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম মেহরাজ বলেন, ঘটনার দিন মাসরুর তার এক বন্ধুকে বলেছিল, গুলিবিদ্ধ কেউ একজনকে তিনি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। গুলিবিদ্ধ সেই লোকটি তার বন্ধু ছিল। এরপর আর তার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। পরে গাজীপুরের শহীদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে— গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনদের দুশ্চিন্তায় না ফেলতে সেদিন তিনি ঘটনাটি লুকিয়েছিলেন। 
মাসরুরের ছোট ভাই হুমায়ুন কবির বলেন, আমার ভাই জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন। নিজে পড়ালেখা করেছেন। পাশাপাশি আমাদের জন্য কষ্ট করেছেন। তিনি একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। পরে ওই মাদরাসার দায়িত্ব আমাকে বুঝিয়ে দিয়ে তিনি গাজীপুরে ব্যবসা করতে যান। আমার ভাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। সবাই বলেছে, তার শরীরের একটা গুলি লেগেছে। তবে শেষ গোসলের সময় তার পেটে ও পিঠে দুটি গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। 
মাসরুরের চাচা শ্বশুর ওমর ফারুক বলেন, মাসরুর আর্থিকভাবে তেমন একটা স্বাবলম্বী ছিলেন না। গাজীপুর যাওয়ার আগে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে যান। এখন তো কোনোভাবে দিন কাটছে তাদের। সামনে তারা কীভাবে চলবে? যতই সময় যাচ্ছে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। সরকার যদি পরিবারটির দিকে মুখ তুলে তাকায় হয়তো মাসরুরের স্ত্রী ছেলে-মেয়েকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। 
মাসরুরের কথা জিজ্ঞেস করতেই তার বৃদ্ধ বাবা আবদুল খালেকের চোখ থেকে পানি ঝরতে শুরু করে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, মাসরুর সবার চেয়ে ভালো ছিল। পরিবারের সবার দেখভাল করত। সরকার যদি আমাদের দিকে খেয়াল করে তাহলে মাসরুরের স্ত্রী,ছেলে মেয়ের জন্য ভালো একটা কিছু করা সম্ভব। তাই এই এতিম বাচ্চাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধান উপদেষ্টা সহ সকল উপদেষ্টার সুদৃষ্টি কামনা করছি।