
এস চাঙমা সত্যজিৎ
বিশেষ প্রতিনিধি।।
জাতিসংঘের মানবাধিকার টিমকে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদে পানছড়িতে তিন সংগঠনের মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামকে বধ্যভূমি বানানো চলবে না, Stop Human Rights Violation in CHT’” এই শ্লোগানে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের দলকে (টিমকে ) পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলাতে দুইটি জায়গায় (স্থানে) মানব বন্ধন করেছে তিন গণসংগঠন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলার পূজগাঙের ত্রিপুরা বিল এলাকায় অনুষ্ঠিত মানব বন্ধনে পার্বত্য চগ্রাগ্রাম নারী সংঘের পানছড়ি উপজেলার নেত্রী কল্যানী চাকমা’র সভাপতিত্বে ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম পানছড়ি উপজেলার সাধারণ সম্পাদক রিপন ত্রিপুরার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পিসিপি’র ঢাকা মহানগর কমিটির দপ্তর সম্পাদক তুজিম চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক পিংকু চাকমা ও সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন দয়াল চাকমা।
অন্যদিকে, চেঙ্গী ইউনিয়নের মনিপুর এলকায় মানব বন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)’র পানছড়ি উপজেলার সাধারণ সম্পাদক সুনীল চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সম্পাদক বরুন চাকমা ও পার্বত্য চট্রগ্রাম নারী সংঘ পানছড়ি উপজেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক সাবিনা চাকমা প্রমুখ।
মানব বন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামকে সেনা শাসনের মাধ্যমে একটি কারাগারে পরিণত করে রাখা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত সেনাবাহিনী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রতিনিয়ত বিচার বহির্ভুত হত্যা, অন্যায় গ্রেফতার, নিপীড়ন, হয়রানি, ভূমি বেদখল, নারী নির্যাতনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে। সুতরাং একটি নিপীড়ক সেনাবাহিনী কখনো জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার যোগ্যটা রাখে না। বক্তারা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীকে প্রত্যাখান বা বাদ দেওয়ার জোর দাবী জানিয়েছেন।
এক দেশে দুই শাসন ব্যবস্থার প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যুগ যুগ ধরে সেনাশাসন জারি রেখে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং, চলাফেরা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এখানে সেনা বাহিনীসহ দেশের সকল রাস্ট্রীয় বাহিনী মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত রয়েছে। দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ বাহিনীও একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন বক্তারা।
বক্তারা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারকে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংঘটিত করতে পরিকল্পিতভাবে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশীদের পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করে গণবিরোধী ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছিলেন। যার কারণে আজকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের দলকে (টিমকে) পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করতে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
তারা প্রশ্ন করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশের বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে বা আলাদা কোন দেশ যে বাংলাদেশে সফরে আসলেও বিদেশীরা এখানে প্রবেশ করতে পারবে না?
বক্তারা স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত অগণতান্ত্রিক ১১ দফা নির্দেশনা বাতিল ও সেনাশাসন প্রত্যাহার করে পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণগণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির দাবী জানিয়েছেন তারা।
মানব বন্ধন থেকে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে খুন, গুম, অপহরণ, ভূমি বেদখল, নারী নির্যাতন, মামলা, হামলাসহ প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের জোর দাবী করেছেন।

























