
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার তিতাসের জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ মরণফাঁদের চারটি সেতু যেনো দেখার মতো কেউ নেই!প্রতিদিনই ঝুকিপূর্ণ এই সেতু গুলোর ওপর দিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহনসহ স্থানীয় মানুষজন।উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নেরচেংগাতলী,বাঘাইরামপুর, গোপালপুর ও জিয়ারকান্দি- মজিদপুর ইউনিয়নের নাগেরচর গ্রামে সংযুক্ত ওই ৪টির মধ্যে তিনটি সরু সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ছোট বড় পণ্যবাহী যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহনসহ ১৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছে।ব্যস্ততম এই সেতুগুলোর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনসহ মানুষ চলাচল করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি না থাকায় এ বিষয়ে নানা অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী ।সেতুগুলোর পুরাতন ঢালাই ভেঙে পড়া সেতুর ওপর খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে আবার কোথাও লোহার পাঠাতন বিছিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত এই সরু সেতুগুলোর ওপর দিয়ে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করছে।ফলে যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।এছাড়াও ব্রিজগুলো সরু হওয়ায় দুই দিক থেকে ছেড়ে আসা যানবাহন ও পথচারীদের পারাপারের সময় দাড়িয়ে থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।স্থানীয়রা আরও জানান, প্রায় দেড় যুগ ধরে সেতুগুলোর এ অবস্থায় পড়ে আছে।জরুরি ভিত্তিতে এগুলো মেরামত করা না হলে যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। অন্যদিকে সরু তিনটি ব্রিজ ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন যানবাহনের চালকসহ এলাকাবাসী।সরেজমিন দেখা গেছে, এলজিইডির নির্মিত বাঘাইরামপুর গ্রামের রাস্তার সেতুর দুই পাশের রেলিংগুলো ভেঙে গেছে,শুধু রডগুলো কোনো মতে ঝুলে আছে, এ অবস্থায়ই প্রতিনিয়ত ঝুকি নিয়ে চলছে মানুষ ও যানবাহন। চেংগাতলীর গ্রামের সাবেক মেম্বার সিদ্দিকের বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজটিরও একই অবস্থা দেখা গেছে।দুই পাশের রেলিং নেই, কোন মাঝারি আকারের যানবাহন যেমন প্রাইভেটকার,মাইক্রোবাস যাতায়াত করতে পারেনা চাকা রেলিংয়ের ওপরে উঠে যায় এবং গোপালপুর হিন্দুপাড়া সংলগ্ন রাস্তার ব্রিজটির ভয়াবহ অবস্থা।দুই পাশের রেলিং শুধুই রড গুলোর অস্তিত্ব টিকে আছে কোন রকম। লোহার পাটাতন বিছিয়ে মারাত্মক ঝুকি নিয়ে চলছে যানবাহন। ব্রিজের পিলারগুলোর সিমেন্ট ধসে পড়ে রডগুলো বেড়িয়ে এসেছে। হালকা-ভারি কোনো যানবাহন উঠলেই সেতুগুলোতে কম্পনের সৃষ্টি হয়। অপরদিকে গোপালপুর ও চান্দনাগেরচর সংযোগ সেতুটি কিছুটা প্রসস্ত হাওয়ায় ভারি যানবাহন চলাচল করতে পারলেও ব্রিজটির পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ এবং গর্তের একারণে ব্রিজটির ওপর দিয়ে যানবাহন ধীর গতিতে চলতে গিয়েও ছোটখাট দুর্ঘটনা হচ্ছে বলেও জানান অটোচালক মানিক। এ অবস্থার মধ্যেও বাধ্য হয়ে হাজারও এলাকাবাসীসহ হালকা যানবাহন চলাচল করছে ওই সেতুগুলির ওপর দিয়ে। ঝুঁকিপুর্ন ব্রিজগুলির ওপর দিয়ে প্রতিনিয়তই চলছে, অটোরিকশা, সিএনজি,নসিমন-করিমনসহ বিভিন্ন ধরণের ছোট-বড় যানবাহন। দুই পাশের রেলিং নাই। এতে সেতু ভেঙে পড়ার উপক্রম। ব্রিজের মাঝখানে ক্ষয় হয়ে যাওয়ায় ব্রিজের রেলিং খসেপড়ায় ওই স্থান গাড়ি নিয়ে অতিক্রমকালে ভয়ে বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে। এ ছাড়া সড়কে কোনো বাতি না থাকায় রাতে যাত্রী ও যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসীদের অভিযোগ। জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী আলী আশ্রাফ জানান, আমাদের বরাদ্ধ খুব সামান্য এ দিয়ে ব্রিজের কাজ করা সম্ভব নয়, তাছাড়া এটা এলজিইডির কাজ আমার নয়। ব্রিজগুলো মেরামত নয় নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। তিতাস উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এবং স্থানীয় লোকজনের কাছে পুরাতন ব্রিজগুলির তেমন তথ্য পাওয়া না গেলেও ব্রিজগুলি মরহুম শফিকুল ইসলাম শফিক চেয়ারম্যানের আমলে নির্মাণ করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।স্থানীয় সমাজসেবক আবুল খায়ের বলেন,ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজেগুলির ওপর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন ও মানুষের চলাচল । এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশের পিকআপ, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের বহনকারী গাড়িসহ বিভিন্ন ধরণের যানবাহন চলাচল করে জীবনের ঝুকি নিয়ে। এজন্য আমাদের সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। ব্রিজ দুটি ভেঙে কখন যে কী হয়।এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌলী মো. মোজাম্মেল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এই মুহুর্তে আমাদের কোন বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ এলে পর্যায়ক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজগুলির কাজ বা নতুন ব্রিজ নির্মাণ হবে।

























