
আরিফ আহমেদ,
বরিশাল জেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) নগরীর বরিশাল ক্লাব অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান আদর্শের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই দিন জেলা আমীর নির্বাচনে ভোটাভুটিও অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার জোহরের নামাজ আদায় করতে নগরীর জেলা স্কুল মসজিদে গেলে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ে। বেলা দেড়টার দিকে খাবারের প্যাকেট হাতে অনেক মুসল্লিকে নামাজের জামাতে অংশ নিতে দেখা যায়। এ সময় কৌতূহলবশত তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলন চলছে। সম্মেলনে অংশ নেওয়া রুকনদের উপস্থিতিতে নগরীতে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতার চিত্রও চোখে পড়ে।
সকাল সাড়ে ৯টায় বরিশাল ক্লাব অডিটোরিয়ামে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বরিশাল জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বার। প্রধান অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীলদের ব্যক্তিগত আমল-আখলাক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। দাওয়াতি তৎপরতা জোরদার করে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ইসলামের কল্যাণের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি বলেন, বরিশাল জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে। রুকনদের নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মানুষের সমস্যা, দুর্ভোগ ও প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। পরিকল্পিত দাওয়াতি তৎপরতা, গণসংযোগ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বরিশাল জেলাকে ইসলামী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী দুর্গে পরিণত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সমাজে ন্যায়, ইনসাফ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নিষ্ঠা ও ত্যাগের সঙ্গে কাজ করতে হবে। সংগঠনের প্রতিটি স্তরে নিয়মিত বৈঠক, পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও দাওয়াতি কার্যক্রম নিশ্চিত করার উপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগরী জামায়াতের আমীর মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা ও অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা ফখরুদ্দিন খান রাজী এবং অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক শাহ আলম।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুন্নবি তালুকদারের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর মাস্টার আব্দুল মান্নান, ড. মাহফুজুর রহমানসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলনের দিন জেলা আমীর নির্বাচনে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্বাচনের ফলাফল একমাস পরে পরবর্তী সম্মেলনে জানানো হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে, জেলা সম্মেলনের আগেই বরিশাল অঞ্চলের সাংগঠনিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। গত ৭ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। এর আগে দীর্ঘদিন এ দায়িত্বে ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ৭ অক্টোবর বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ও মহানগরীর নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত অঞ্চল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মতিউর রহমান আকন্দ। ওই বৈঠকে মুয়াযযম হোসাইন হেলালও উপস্থিত ছিলেন।
আঞ্চলিক নেতৃত্বে এই পরিবর্তন এবং জেলা পর্যায়ে আমীর নির্বাচনের ভোটাভুটি জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামোর দুটি পৃথক ঘটনা। তবে আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, দায়িত্বশীলদের সমন্বয় এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়টি সাম্প্রতিক কর্মসূচিগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছে।
বরিশালে জামায়াতের সাম্প্রতিক তৎপরতার মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ উল্লেখযোগ্য। এসব কর্মসূচির পাশাপাশি রুকন সম্মেলনে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দাওয়াতি কার্যক্রম ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে দেওয়া নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে দলটির নেতাকর্মীরা কী ভূমিকা রাখেন, সেটিই হবে পরবর্তী সময়ে পর্যবেক্ষণের বিষয়।
















