
মুজাহিদ শেখ, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি,
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীখোল ইউনিয়নের খামারপাড়া বাজারে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জিয়াউল হক ফরিদসহ তিনজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দাওয়াত না পাওয়ার অভিযোগ তুলে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জোয়ার্দার শাহ্ আলম তুফানের নেতৃত্বে হামলার কারণে পণ্ড হয়ে গেছে শ্রীপুর থানা পুলিশের আয়োজিত সচেতনামূলক সভা।
মঙ্গলবার ৫ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খামারপাড়া বাজার কমিটির আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলার বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জিয়াউল হক ফরিদ, তরিকুল ইসলাম ও জুয়েল বিশ্বাস গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত জিয়াউল হক ফরিদের বাম হাতের কব্জির হাড় ভেঙ্গে ও তরিকুল ইসলামের মাথায় ধাঁড়ালো অস্ত্রের কোপে ডিপ হয়ে কেটে মারাত্বক জখম হয়ে এবং জুয়েল বিশ্বাসের পিঠের বাম সাইডে অস্ত্রের আঘাতে কেঁটে যাওয়ায় তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজকরা জানান, খামারপাড়া বাজারের হিন্দু ধর্মের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে শ্রীপুর থানা পুলিশের উদ্যোগে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। প্রথমে বিকেল ৪টায় সময় নির্ধারণ করা হলেও ওসি সাহেবের ব্যস্ততার কারণে সভাটি সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শুরুর কিছুক্ষণ আগে শ্রীপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জোয়ার্দার শাহ আলম তুফান সেখানে উপস্থিত হয়ে সভার বিষয়ে জানতে চান। তাকে জানানোর পর তিনি উপস্থিত সবাইকে সভা ছেড়ে চলে যেতে বলেন এবং সভা বন্ধ করার জন্য জোর করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তার সাথে থাকা কয়েকজন অতর্কিতভাবে সভায় উপস্থিতদের উপর হামলা চালায় । এ সময় উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জিয়াউল হক ফরিদ, তরিকুল ইসলাম ও জুয়েল বিশ্বাস গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়দের দাবি, গত ০৩ আগস্ট সোমবার শ্রীপুর থানা ঘোষিত শ্রীকোল ইউনিয়নের কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে জোয়ার্দার শাহ আলম তুফানের অসন্তোষ ছিল। তিনি ওই কমিটিকে মেনে নেননি এবং এর কার্যক্রম নিয়েও আপত্তি প্রকাশ করেছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের ধারণা, এ বিরোধের জের ধরেই হামলার ঘটনাটি ঘটতে পারে।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জিয়াউল হক ফরিদ বলেন, “ওসি সাহেবই সভাটি আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সদস্য সচিব তুফান এসে সভা ভণ্ডুল করে দেন এবং মারধরের ঘটনা ঘটান।এ ব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি ।আমি তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার বিচার চাই”।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জোয়ার্দার শাহ আলম তুফানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগে করা হলে বিষয়টা নিজেদের মধ্যে বলার পর কল কেটে যাওয়ায় পরবর্তিতে আর সংযোগ পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, “বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক একটি সভা আয়োজনের জন্য বাজার কমিটিকে বলা হয়েছিল। আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই যুবদলের সদস্য সচিব জোয়ার্দার শাহ আলম তুফান সেখানে এসে এটিকে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভা উল্লেখ করে বলেন, ‘এখানে কোনো মিটিং হবে না।’ এরপর তিনি উপস্থিত সবাইকে চলে যেতে বলেন এবং একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটান। এতে দুই জন আহত হয়েছেন। আমরা আহতদের খোঁজখবর নিচ্ছি। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি ,অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

























