
দৈনিক আজকের বাংলা প্রতিবেদন,
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
রোববার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল নিজেই বলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না এবং বিষয়টি তার জানা নেই।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপির দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার রয়েছে। ১৯৯১ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এরপর ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। একই সময়ে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করে পরাজিত হন মির্জা ফখরুল।
তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনকে পরাজিত করে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
এরপর বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০০৯ সালে বিএনপির জাতীয় সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল।
২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরে ২০১৬ সালের জাতীয় সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব থেকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। এরপর থেকে তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
তফশিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। আর ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির—এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং মির্জা ফখরুলকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনের সত্যতা কতটা মেলে।

























