
দৈনিক আজকের বাংলা প্রতিবেদন,
দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বড় অবকাঠামো পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
রোববার কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
সকাল পৌনে ১১টার দিকে হেলিকপ্টারে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছান তিনি। পরে প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং নেন।
প্রকল্প কর্মকর্তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ, পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করে দেশীয় প্রকৌশলী ও কর্মীদের দক্ষতার প্রশংসা করেন তিনি।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে প্রকল্প এলাকায় একটি স্মারক নিমগাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিট নিয়ে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে নির্মিত এই প্রকল্পের সঙ্গে রয়েছে কয়লা পরিবহণের বন্দর, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। প্রকল্প বাস্তবায়নে জাইকার ঋণ সহায়তা রয়েছে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করেন। সেখানে কর্মকর্তারা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।
একই এলাকায় প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থানও পরিদর্শন করেন তিনি।
পরে এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা, ভবিষ্যৎ ব্যবহার এবং পারস্পরিক সমন্বয় নিয়ে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।
কোল জেটি থেকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় কয়লা পরিবহণ ও খালাসের জন্য বন্দর অবকাঠামোর সক্ষমতা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে এর সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কেও তাকে অবহিত করা হয়।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত অস্থায়ী এলপিজি জেটি এবং ভবিষ্যতে ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থানও পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার, প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দেন।
পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে মাতারবাড়ী ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

























