Dhaka , Friday, 2 October 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় নাম আসতেই পদত্যাগ করলেন এমপি মিষ্টি সীতাকুণ্ডে শিপ ইয়ার্ড পরিদর্শনে আরিফুল হক চৌধুরী, জাহাজ ভাঙা শিল্পে সরকারি সহায়তার আশ্বাস মন্ত্রীর নোয়াখালীতে খাবার অপচয় রোধে মতবিনিময় সভা শ্রমিকদের আবাসন, সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে চট্টগ্রাম থেকেই কাজ শুরু হবে: আরিফুল হক চৌধুরী মাদকে জিরো টলারেন্স ও অপরাধমুক্ত নানিয়ারচর গড়তে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ অঙ্গীকার রাজনগরের ব্যবসায়ীকে ২০০ কোটি টাকার কয়েনের প্রলোভন, বক্স খুলে মিলল সাপ! শিক্ষাই বদলে দিতে পারে জীবনের গতিপথ: ফাহমিদা হক এমপি ক্রয়কৃত জমি বিক্রি ও চাষাবাদে বাধার অভিযোগ, মধুপুরে সংবাদ সম্মেলন পাইকগাছায় পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪; দুই মাদক কারবারির কারাদণ্ড পাইকগাছায় পুশবিরোধী অভিযানে জরিমানা; দেড় লাখ রেণু অবমুক্ত দীঘিনালায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শেষে ৪২ শিক্ষার্থীকে সনদ রামুর কচ্ছপিয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সমাবেশ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত পিডি গফুর’কে অব্যাহতি দিলো শিক্ষা মন্ত্রণালয় পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬ ড্রোন চালিয়ে বিশ্ব রেকর্ড চীনের মেসি এবার সত্যিই ‘ডক্টর’, মিলছে সম্মানসূচক ডক্টরেট পুঁজিবাজারকে ইনস্টিটিউশনাল ও পেপারলেস করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর যেভাবে ছাত্র রাজনীতি থেকে এমপি হন মিষ্টি এফবিএমএসএর নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন সভাপতি ডা. রশিদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ডা. গোলাম সারোয়ার স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে পদত্যাগের প্রশ্নে যা বললেন এমপি মিষ্টি মির্জাপুরে দুর্গা মন্দিরে ৭ প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ পাইকগাছায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপন রাসেল আহমেদ সাগর মৌলভীবাজার শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ সভাপতি নির্বাচিত। ব্রাক ইউনিভার্সিটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইজিডির “রকি অ্যাওয়ার্ড”- মাঠপর্যায়ের কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি পদক পেলেন রামুর সাঈদ হোসাইন আকাশ রাউজানে পুলিশের দুঃসাহসিক অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রেফতার সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদ্‌যাপন নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬৮ রামুতে সাড়ে তিন মাসে হামের উপসর্গে ২১০ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন পূর্বধলায় পশুর হাট ইজারা নিয়ে সংঘর্ষ: জামায়াতের ২৫ নেতা-কর্মী কারাগারে মধুপুর প্রেসক্লাবের দ্বিতল ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন স্কুল নাকি মাদ্রাসা—ডেমরায় ভিন্নধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ইনস্টিটিউট

পরিবেশ-ধরিত্রীর সুরক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 01:41:37 pm, Friday, 26 January 2024
  • 712 বার পড়া হয়েছে

পরিবেশ-ধরিত্রীর সুরক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।।

তৌহিদ বেলাল কক্সবাজার।।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা’র উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, পরিবেশ ও ধরিত্রীর সুরক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। কাজেই আমাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে যাতে রাজনৈতিক শক্তি যথাযথ ভুমিকা পালনে জবাবদিহি করতে বাধ্য হন।
তিনি কক্সবাজারে এক নাগরিক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির আলোচনায় একথা বলেন। 
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখা আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন, ধরা-র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও ব্রতী’র নির্বাহী পরিচালক শরমিন মুরশিদ। 
কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত এই সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন, ওয়াটারকিপার্শ বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও ধরা-র কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব শরীফ জামিল। 
ধরা-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার জেলা আহবায়ক এবং কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে আলোচনায় অংশ নেন, ধরা-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুল করিম চৌধুরী কিম, এজেএম গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকতার উজ জামান চৌধুরী, শওকতুল ইসলাম চৌধুরী বাহাদুর, কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি এইচএম ফরিদুল আলম শাহীন, ধরা-র জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী আবু মুসা মুহাম্মদ, কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিএনএন বাংলা সম্পাদক তৌহিদ বেলাল, পর্যটন উদ্যোক্তা মুকিম খান, ধরা কক্সবাজার সদর উপজেলার মুহাম্মদ হাসান, কক্সবাজার পৌরসভার আরিফুল্লাহ নূরী, টেকনাফ উপজেলার নুরুল হোসাইন, পেকুয়া উপজেলার দেলোয়ার হোসেন, কুতুবদিয়া উপজেলার শহিদুল ইসলাম, মহেশখালী উপজেলার আলাউদ্দিন আলো ও মাওলানা মুহাম্মদ ইউনুস, চকরিয়া উপজেলার সাঈদুল হক চৌধুরী, ঈদগাঁও উপজেলার রেজাউল করিম, উখিয়া উপজেলার ছেনোয়ারা বেগম সানি, টেকনাফ উপজেলার হারুনর রশীদ সিকদার প্রমুখ। 
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা-ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর যৌথ আয়োজনে ‘কক্সবাজারের পরিবেশগত সংকট ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে শরমীন মুরশিদ বলেন পরিবেশ রক্ষার প্রচেষ্টায় তরুণদেরকে আরো বেশি যুক্ত করতে হবে। পরিবেশ ও ধরিত্রী রক্ষার আন্দোলনকে স্কুল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে’। 
তিনি এই প্রচেষ্টায় সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিবর্গ ও নারীদেরকে যুক্ত করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান আলোচক শরীফ জামিল ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ পরিচালিত Assessment of the state of the environment and ecology for Cox’s Bazar and its surrounding areas শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে কক্সবাজার ও আশেপাশের পরিবেশ, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ ও করনীয় বিষয়সমুহ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, কক্সবাজারের পরিবেশ-প্রতিবেশ আজ ধ্বংসের মুখে। নদী, বন, পাহাড়, জীববৈচিত্র্য, সাগরতীর ধ্বংস করে চলছে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। অতিরিক্ত ইট-পাথরের ভবনের ভারে সেন্টমার্টিন যেমন ডুবন্ত প্রায় তেমনি দখল-দূষণে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁকখালী, ঈদগাঁও-এর ফুলেশ্বরী, চকরিয়ার মাতামুহুরী ও মহেশখালীর কোহেলিয়া সহ অসংখ্য নদী। উন্নয়নের চাপ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না ভার্জিন দ্বীপ সোনাদিয়াও। হোটেলের পয়ঃবর্জ্যে সাগরের পানি দূষিত হচ্ছে। এখনই উদ্যোগ না নিলে নৈসর্গিক কক্সবাজারকে বাঁচানো কঠিন হবে। কক্সবাজারের ভবিষ্যতের উপর জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে, তাই এটি শুধু কক্সবাজারের সমস্যা নয়, এটি এখন জাতীয় সমস্যা।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ধ্বংসকারীরা যত শক্তিশালীই হোক না কেন তাদেরকে চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে কক্সবাজারকে বাঁচাতে হবে। নয়তো আমরা যতই আন্দোলন, লেখালেখি বা মামলা-মোকদ্দমা করি না কেন, সেগুলো কোনো কাজে আসবে না। পর্যটন নগরীর পরিবেশের লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে। সরকারের উচিত আগে পরিবেশ রক্ষা, এরপর উন্নয়ন করা। এ মুহূর্তে ধরা-র মতো পরিবেশবাদী সংগঠনের মাধ্যমে সাংবাদিক, পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার।
আলোচনা সভায় উপস্থাপিত গবেষণাটি কক্সবাজার জেলার সবকটি উপজেলায়; কক্সবাজার শহর ও সদর, ঈদগাঁও, চকরিয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া, টেখনাফ, পেকুয়া, ও রামুতে পরিচালিত হয়। গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ৬টি উপজেলা বন নিধন, ৭টি উপজেলা পাহাড় কর্তন ও ৯টি উপজেলা বালু উত্তোলনের ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে। ৪টি উপজেলার জলাভূমি ময়লা ফেলা এবং ৬টি উপজেলার জলাভূমি দখল, পলি জমা, ড্রেজিং, পাহাড় কর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। উপরোল্লিখিত ৯টি উপজেলাতেই অবৈধ দখলের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। এদের ৭টিতেই চলছে অবৈধ ইটের ভাটা। সাধারণ জমি লবণ ও চিংড়িচাষের জন্য রূপান্তরিত করার ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলা। পানীয় জলের সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে জেলা সদরসহ প্রায় সবকটি উপজেলা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণকালে ৬২টি বিপন্ন এশিয়ান হাতির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১৭,৭৯৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু এখনো অনেকে যথাযত ক্ষতিপূরণ পায়নি। রোহিঙ্গাদের পূনর্বাসনের জন্য অতিরিক্ত ৬,১৬৪ একর বন নিধন করা হয়েছে এবং প্রতিদিন ৬,৮০০ টন কাঠের জ্বালানি রোহিঙ্গাদের রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা-এর কার্যক্রম কক্সবাজারে শুরু করার জন্য ফজলুল কাদের চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং জাহাঙ্গীর আলমকে সদস্যসচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় নাম আসতেই পদত্যাগ করলেন এমপি মিষ্টি

পরিবেশ-ধরিত্রীর সুরক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।।

আপডেট সময় : 01:41:37 pm, Friday, 26 January 2024
তৌহিদ বেলাল কক্সবাজার।।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা’র উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, পরিবেশ ও ধরিত্রীর সুরক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। কাজেই আমাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে যাতে রাজনৈতিক শক্তি যথাযথ ভুমিকা পালনে জবাবদিহি করতে বাধ্য হন।
তিনি কক্সবাজারে এক নাগরিক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির আলোচনায় একথা বলেন। 
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখা আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন, ধরা-র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও ব্রতী’র নির্বাহী পরিচালক শরমিন মুরশিদ। 
কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত এই সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন, ওয়াটারকিপার্শ বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও ধরা-র কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব শরীফ জামিল। 
ধরা-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার জেলা আহবায়ক এবং কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে আলোচনায় অংশ নেন, ধরা-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুল করিম চৌধুরী কিম, এজেএম গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকতার উজ জামান চৌধুরী, শওকতুল ইসলাম চৌধুরী বাহাদুর, কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি এইচএম ফরিদুল আলম শাহীন, ধরা-র জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী আবু মুসা মুহাম্মদ, কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিএনএন বাংলা সম্পাদক তৌহিদ বেলাল, পর্যটন উদ্যোক্তা মুকিম খান, ধরা কক্সবাজার সদর উপজেলার মুহাম্মদ হাসান, কক্সবাজার পৌরসভার আরিফুল্লাহ নূরী, টেকনাফ উপজেলার নুরুল হোসাইন, পেকুয়া উপজেলার দেলোয়ার হোসেন, কুতুবদিয়া উপজেলার শহিদুল ইসলাম, মহেশখালী উপজেলার আলাউদ্দিন আলো ও মাওলানা মুহাম্মদ ইউনুস, চকরিয়া উপজেলার সাঈদুল হক চৌধুরী, ঈদগাঁও উপজেলার রেজাউল করিম, উখিয়া উপজেলার ছেনোয়ারা বেগম সানি, টেকনাফ উপজেলার হারুনর রশীদ সিকদার প্রমুখ। 
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা-ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর যৌথ আয়োজনে ‘কক্সবাজারের পরিবেশগত সংকট ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে শরমীন মুরশিদ বলেন পরিবেশ রক্ষার প্রচেষ্টায় তরুণদেরকে আরো বেশি যুক্ত করতে হবে। পরিবেশ ও ধরিত্রী রক্ষার আন্দোলনকে স্কুল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে’। 
তিনি এই প্রচেষ্টায় সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিবর্গ ও নারীদেরকে যুক্ত করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান আলোচক শরীফ জামিল ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ পরিচালিত Assessment of the state of the environment and ecology for Cox’s Bazar and its surrounding areas শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে কক্সবাজার ও আশেপাশের পরিবেশ, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ ও করনীয় বিষয়সমুহ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, কক্সবাজারের পরিবেশ-প্রতিবেশ আজ ধ্বংসের মুখে। নদী, বন, পাহাড়, জীববৈচিত্র্য, সাগরতীর ধ্বংস করে চলছে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। অতিরিক্ত ইট-পাথরের ভবনের ভারে সেন্টমার্টিন যেমন ডুবন্ত প্রায় তেমনি দখল-দূষণে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁকখালী, ঈদগাঁও-এর ফুলেশ্বরী, চকরিয়ার মাতামুহুরী ও মহেশখালীর কোহেলিয়া সহ অসংখ্য নদী। উন্নয়নের চাপ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না ভার্জিন দ্বীপ সোনাদিয়াও। হোটেলের পয়ঃবর্জ্যে সাগরের পানি দূষিত হচ্ছে। এখনই উদ্যোগ না নিলে নৈসর্গিক কক্সবাজারকে বাঁচানো কঠিন হবে। কক্সবাজারের ভবিষ্যতের উপর জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে, তাই এটি শুধু কক্সবাজারের সমস্যা নয়, এটি এখন জাতীয় সমস্যা।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ধ্বংসকারীরা যত শক্তিশালীই হোক না কেন তাদেরকে চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে কক্সবাজারকে বাঁচাতে হবে। নয়তো আমরা যতই আন্দোলন, লেখালেখি বা মামলা-মোকদ্দমা করি না কেন, সেগুলো কোনো কাজে আসবে না। পর্যটন নগরীর পরিবেশের লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে। সরকারের উচিত আগে পরিবেশ রক্ষা, এরপর উন্নয়ন করা। এ মুহূর্তে ধরা-র মতো পরিবেশবাদী সংগঠনের মাধ্যমে সাংবাদিক, পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার।
আলোচনা সভায় উপস্থাপিত গবেষণাটি কক্সবাজার জেলার সবকটি উপজেলায়; কক্সবাজার শহর ও সদর, ঈদগাঁও, চকরিয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া, টেখনাফ, পেকুয়া, ও রামুতে পরিচালিত হয়। গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ৬টি উপজেলা বন নিধন, ৭টি উপজেলা পাহাড় কর্তন ও ৯টি উপজেলা বালু উত্তোলনের ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে। ৪টি উপজেলার জলাভূমি ময়লা ফেলা এবং ৬টি উপজেলার জলাভূমি দখল, পলি জমা, ড্রেজিং, পাহাড় কর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। উপরোল্লিখিত ৯টি উপজেলাতেই অবৈধ দখলের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। এদের ৭টিতেই চলছে অবৈধ ইটের ভাটা। সাধারণ জমি লবণ ও চিংড়িচাষের জন্য রূপান্তরিত করার ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলা। পানীয় জলের সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে জেলা সদরসহ প্রায় সবকটি উপজেলা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণকালে ৬২টি বিপন্ন এশিয়ান হাতির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১৭,৭৯৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু এখনো অনেকে যথাযত ক্ষতিপূরণ পায়নি। রোহিঙ্গাদের পূনর্বাসনের জন্য অতিরিক্ত ৬,১৬৪ একর বন নিধন করা হয়েছে এবং প্রতিদিন ৬,৮০০ টন কাঠের জ্বালানি রোহিঙ্গাদের রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-ধরা-এর কার্যক্রম কক্সবাজারে শুরু করার জন্য ফজলুল কাদের চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং জাহাঙ্গীর আলমকে সদস্যসচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।