
আরিফ আহমেদ,
বরিশাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও রিসার্চ সেন্টার দীর্ঘ নয় বছর ধরে বন্ধ। নগরীর নিউ সার্কুলার রোডে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ভবন এখন অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অথচ দক্ষিণাঞ্চলের হৃদরোগীদের চিকিৎসার অন্যতম আশ্রয় ছিল এই প্রতিষ্ঠান।
২০০৬ সালে উদ্বোধনের পর কয়েক বছর চিকিৎসাসেবা চালু থাকলেও ২০১৮ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত বন্ধ। চলতি বছরের জুনে এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগে ১১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনকে। তবে কয়েক মাস পরও চিকিৎসাসেবা চালুর দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
অন্যদিকে রোগীর অতিরিক্ত চাপে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। বারান্দা ও মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনীর জানান, রোগীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজারে পৌঁছায়, ফলে চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
শেবাচিমে চিকিৎসক-নার্স ও সহায়ক জনবলের সংকটের পাশাপাশি ১৬টি লিফটের মধ্যে দুটি স্থায়ীভাবে অকেজো এবং সাতটি মাঝেমধ্যে চালু থাকে বলেও জানান পরিচালক। তার মতে, শিশু হাসপাতাল ও হার্ট ফাউন্ডেশন কার্যকর করা এবং দ্রুত ক্যান্সার হাসপাতাল চালু করা গেলে শেবাচিমের চাপ কমানো সম্ভব।
এদিকে আমানতগঞ্জে নির্মিত ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালও এখনো চালু হয়নি। চলতি বছরের আগস্টে জরুরি বিভাগ চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহেও কার্যক্রম শুরু হয়নি।
শেবাচিম সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ১৭ তলা ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ বিশেষায়িত হাসপাতালের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। তবে চিকিৎসা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল নিশ্চিত করার বিষয়টি এখনো বাকি।
স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ভবন নির্মাণ নয়, চিকিৎসক-নার্স, যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করে এসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত চালু করা জরুরি। এতে একদিকে রোগীরা বিশেষায়িত চিকিৎসা পাবেন, অন্যদিকে শেবাচিমের ওপরও চাপ কমবে।


























