Dhaka , Sunday, 1 November 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের বাঁশির সুরে বিমোহিত দর্শক কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে বড় ধস, ১১৯ থেকে নেমে ৪১ শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গেলেন প্রভা, সঙ্গী কে? ব্যালন ডি’অর না জিতলেও ইয়ামালকে নিয়ে যে কারণে গর্বিত ফ্লিক অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আছে যেসব শর্ত লংমার্চ থেকে জামায়াত আমিরের হুংকার ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজির দায়িত্বে ছিলেন সানি, গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে নারায়ণগঞ্জ রেড ক্রিসেন্টের নির্বাচনে টিপু সেক্রেটারি, পাঁচ সদস্য নির্বাচিত রূপগঞ্জে নোয়াপাড়া বাজার ইয়াং স্টার্স মোহনার উদ্যোগে নৌভ্রমণ অনুষ্ঠিত পাইকগাছা পুলিশের অভিযানে অপহৃত দুই ব্যবসায়ী উদ্ধার; আটক ২ শ্রীপুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত টেকনাফে আলোচিত বোন হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি গ্রেপ্তার এইচএসসিতে ৯৯.০৭ শতাংশ পাস, সামসুল হক খান কলেজে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২৮ শিক্ষার্থী বরিশালে ফাঁকা কলেজ ক্যাম্পাস, পাশের হার ৪৪.৮৪: একজনও পাস করেনি ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রেসক্লাব পাইকগাছার জরুরি সভা অনুষ্ঠিত সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ ওসির সঙ্গে প্রেসক্লাব পাইকগাছার সাংবাদিকদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ‘১১ দলীয় জোটের লংমার্চে দুর্নীতি- চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে রাজপথে নেমেছি- ভাঙ্গায় শফিকুর রহমান। গাইবান্ধায় কর্জে হাসানা ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত দীঘিনালায় ধানখেতের আইলে মিলল আহত গন্ধগোকুল, উদ্ধার করে চিকিৎসা দিচ্ছে বন বিভাগ শেরেবাংলার অসাম্প্রদায়িক আদর্শ অনুসরণের আহ্বান ববি উপাচার্যের : বাংলার বাঘ ফাউন্ডেশনের স্মরণসভা ও গুণিজন সংবর্ধনা সরকার গঠনের ১৫ দিন না যেতেই সরকারের সমালোচনা শুরু করেন জামাত- এমপি খোকন তালুকদারের ময়মনসিংহে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়, স্বাস্থ্যসেবাসহ মানবকল্যাণে কাজ করতে চান দুলাল উদ্দিন পূর্বধলায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান: ৪ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ মাসের কারাদণ্ড তাহসিফের মৃত্যু: ‘আসল সত্য’ উদঘাটন চায় রাওয়া মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির আন্তজেলা চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় অভিযান; ২টি মাইক্রোবাস ও ৬ লাখ টাকা মূল্যের ব্যাটারি উদ্ধার ডিসি জাহিদের উদ্যোগে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার প্লাস্টিক যাচ্ছে পুনর্ব্যবহারে ধর্মপাশায়,শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামা নিজ হাতে সেলাই করে দিলেন প্রধান শিক্ষক, প্রশংসায় ভাসছেন নাইলা বেগম

ঝালকাঠিতে ১৬০টি গাছ কাটার পর স্থগিত প্রায় দুই হাজার গাছ কাটার প্রকল্প

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 03:08:37 pm, Saturday, 14 March 2026
  • 124 বার পড়া হয়েছে

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান নদীর পাড়ে প্রায় দুই হাজার গাছ কাটার উদ্যোগ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।পরিবেশকর্মীদের প্রতিবাদ এবং উচ্চ আদালতের একটি রায়ের বিষয় সামনে আসার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়। তবে এর আগে গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৬০টি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবখান বাজার থেকে বারুহাট পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় পুরাতন রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো কাটার পরিকল্পনা নেয় বন বিভাগ। দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে গাছ কাটার কাজ শুরু করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ৪৭টি লটে ১ হাজার ৮১৫টি গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে বন বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাস্তবে একেকটি লটে প্রায় ৫০টি করে গাছ কাটার পরিকল্পনা থাকায় মোট গাছের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ হাজার ৩৫০টি।

গাছ কাটার বিষয়টি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামনে আনেন পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক ইসমাঈল মুসাফির। পরে তিনি জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে গাছ কাটা বন্ধের অনুরোধ জানান। তার এই উদ্যোগে সহমত প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ। তিনি উচ্চ আদালতের একটি রায়ের বিষয়টি ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনকে অবহিত করেন। এরপর বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জেলা প্রশাসক গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেন। পরে জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকার কাজটি বন্ধ করে দেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাবখান নদীর পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প চলমান রয়েছে। নদীর পাশে পাশাপাশি একটি নতুন এবং একটি পুরাতন রাস্তা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পুরাতন রাস্তা থেকে নদীর পানির দিকে গড়ে ২০ ফুটের বেশি শুকনো পাড় রয়েছে, অনেক স্থানে যা আরও বেশি। কোথাও কোথাও জিও ব্যাগ থেকে পাড় পর্যন্ত দূরত্ব ৫০ ফুটেরও বেশি। এত জায়গা থাকার পরও পুরাতন রাস্তার অংশেও ব্লক ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে রাস্তার দুই পাশে থাকা গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড গাছ কাটার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছিল। কয়েক দফা বৈঠকের পর একটি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা প্রশাসক গাছ কাটার অনুমতি দেন। সেই অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজটি শুরু করা হয়। ৪৭টি লটের মধ্যে ৩৭টি লটের ঠিকাদারি পান ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নজরুল মেম্বারসহ চারজন ঠিকাদার। বাকি ১০টি লট পান ঝালকাঠি সদর ও কাঠালিয়া উপজেলার তিনজন ঠিকাদার। ১ হাজার ৮১৫টি গাছের বিপরীতে দরপত্রে মূল্য ওঠে প্রায় ৬০ লাখ টাকা।

বন বিভাগের নথিতে দেখা যায়, মোট গাছের মধ্যে মাত্র ৮০০টির বিশ্লেষণেই পাওয়া গেছে অন্তত ২৬ প্রজাতির গাছ। এর মধ্যে রয়েছে রাজ কড়ই, কাঞ্চন, তুলা, অর্জুন, শিশু, বাবলা, তেঁতুল, জারুল, কড়ই, জাম, নিম, কাঁঠাল, গামার, সেগুন ও আমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। পরিবেশকর্মীদের মতে, এলাকায় অন্তত ১০০ প্রজাতির পাখি এবং বিরল আকারের অসংখ্য গুইসাপসহ বিভিন্ন সরীসৃপের আবাসস্থল রয়েছে।

ঝালকাঠির সিনিয়র আইনজীবী নাসির উদ্দীন কবীর বলেন, “সংখ্যা দুই হাজার হোক বা তার বেশি—এত গাছ কাটার পরিকল্পনা কীভাবে নেওয়া হলো, সেটিই বড় প্রশ্ন। এখানে সামাজিক বনায়নের পাশাপাশি সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য রয়েছে। কোনোভাবেই এই গাছ কাটতে দেওয়া যাবে না।”

এদিকে ইতোমধ্যে চারটি স্থানে চারটি লটের মোট ১৬০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এসব গাছের মধ্যে ছিল রাজ কড়ই, অর্জুন, শিশু, তুলা, নিম ও বাবলাসহ অন্তত ১৫ প্রজাতির গাছ।

ঝালকাঠি জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকার বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পাওয়ার পর গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। আমি বলা ছাড়া কেউ একটি ডালও কাটতে পারবে না। গাছের প্রতি বন বিভাগের মায়া সবচেয়ে বেশি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে বলার পর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা এই প্রক্রিয়ায় গিয়েছিলাম।”

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, “উচ্চ আদালতের একটি রায়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। গাছ কাটার সিদ্ধান্ত যখন নেওয়া হয়েছিল তখন সেই রায়টি ছিল না। এখন গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, “উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ বিশেষজ্ঞসহ একটি কমিটির সুপারিশ ছাড়া এভাবে গাছ কাটা যাবে না। পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা না করে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে টেকসই নয়।”

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের বাঁশির সুরে বিমোহিত দর্শক

ঝালকাঠিতে ১৬০টি গাছ কাটার পর স্থগিত প্রায় দুই হাজার গাছ কাটার প্রকল্প

আপডেট সময় : 03:08:37 pm, Saturday, 14 March 2026

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান নদীর পাড়ে প্রায় দুই হাজার গাছ কাটার উদ্যোগ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।পরিবেশকর্মীদের প্রতিবাদ এবং উচ্চ আদালতের একটি রায়ের বিষয় সামনে আসার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়। তবে এর আগে গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৬০টি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবখান বাজার থেকে বারুহাট পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় পুরাতন রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো কাটার পরিকল্পনা নেয় বন বিভাগ। দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে গাছ কাটার কাজ শুরু করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ৪৭টি লটে ১ হাজার ৮১৫টি গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে বন বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাস্তবে একেকটি লটে প্রায় ৫০টি করে গাছ কাটার পরিকল্পনা থাকায় মোট গাছের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ হাজার ৩৫০টি।

গাছ কাটার বিষয়টি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামনে আনেন পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক ইসমাঈল মুসাফির। পরে তিনি জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে গাছ কাটা বন্ধের অনুরোধ জানান। তার এই উদ্যোগে সহমত প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ। তিনি উচ্চ আদালতের একটি রায়ের বিষয়টি ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনকে অবহিত করেন। এরপর বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জেলা প্রশাসক গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেন। পরে জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকার কাজটি বন্ধ করে দেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাবখান নদীর পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প চলমান রয়েছে। নদীর পাশে পাশাপাশি একটি নতুন এবং একটি পুরাতন রাস্তা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পুরাতন রাস্তা থেকে নদীর পানির দিকে গড়ে ২০ ফুটের বেশি শুকনো পাড় রয়েছে, অনেক স্থানে যা আরও বেশি। কোথাও কোথাও জিও ব্যাগ থেকে পাড় পর্যন্ত দূরত্ব ৫০ ফুটেরও বেশি। এত জায়গা থাকার পরও পুরাতন রাস্তার অংশেও ব্লক ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে রাস্তার দুই পাশে থাকা গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড গাছ কাটার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছিল। কয়েক দফা বৈঠকের পর একটি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা প্রশাসক গাছ কাটার অনুমতি দেন। সেই অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজটি শুরু করা হয়। ৪৭টি লটের মধ্যে ৩৭টি লটের ঠিকাদারি পান ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নজরুল মেম্বারসহ চারজন ঠিকাদার। বাকি ১০টি লট পান ঝালকাঠি সদর ও কাঠালিয়া উপজেলার তিনজন ঠিকাদার। ১ হাজার ৮১৫টি গাছের বিপরীতে দরপত্রে মূল্য ওঠে প্রায় ৬০ লাখ টাকা।

বন বিভাগের নথিতে দেখা যায়, মোট গাছের মধ্যে মাত্র ৮০০টির বিশ্লেষণেই পাওয়া গেছে অন্তত ২৬ প্রজাতির গাছ। এর মধ্যে রয়েছে রাজ কড়ই, কাঞ্চন, তুলা, অর্জুন, শিশু, বাবলা, তেঁতুল, জারুল, কড়ই, জাম, নিম, কাঁঠাল, গামার, সেগুন ও আমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। পরিবেশকর্মীদের মতে, এলাকায় অন্তত ১০০ প্রজাতির পাখি এবং বিরল আকারের অসংখ্য গুইসাপসহ বিভিন্ন সরীসৃপের আবাসস্থল রয়েছে।

ঝালকাঠির সিনিয়র আইনজীবী নাসির উদ্দীন কবীর বলেন, “সংখ্যা দুই হাজার হোক বা তার বেশি—এত গাছ কাটার পরিকল্পনা কীভাবে নেওয়া হলো, সেটিই বড় প্রশ্ন। এখানে সামাজিক বনায়নের পাশাপাশি সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য রয়েছে। কোনোভাবেই এই গাছ কাটতে দেওয়া যাবে না।”

এদিকে ইতোমধ্যে চারটি স্থানে চারটি লটের মোট ১৬০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এসব গাছের মধ্যে ছিল রাজ কড়ই, অর্জুন, শিশু, তুলা, নিম ও বাবলাসহ অন্তত ১৫ প্রজাতির গাছ।

ঝালকাঠি জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকার বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পাওয়ার পর গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। আমি বলা ছাড়া কেউ একটি ডালও কাটতে পারবে না। গাছের প্রতি বন বিভাগের মায়া সবচেয়ে বেশি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে বলার পর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা এই প্রক্রিয়ায় গিয়েছিলাম।”

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, “উচ্চ আদালতের একটি রায়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। গাছ কাটার সিদ্ধান্ত যখন নেওয়া হয়েছিল তখন সেই রায়টি ছিল না। এখন গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, “উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ বিশেষজ্ঞসহ একটি কমিটির সুপারিশ ছাড়া এভাবে গাছ কাটা যাবে না। পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা না করে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে টেকসই নয়।”