Dhaka , Tuesday, 26 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
জনদুর্ভোগে এগিয়ে এলেন ছাত্রদল নেতা নাছির, নিজ টাকায় সড়ক মেরামত রামগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে অপপ্রচার থানায় জিডি জঙ্গল সলিমপুরে ‘ইয়াসিন-ফারুক সাম্রাজ্য’! পাহাড়ের গুহায় অস্ত্র কারখানা, প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতির অভিযোগ আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে সীমান্তে কঠোর অবস্থানে ১৫ বিজিবি: ফুলবাড়ীতে মাদক স্পটে অভিযানে ৬০ বোতল ইস্কাপ সিরাপ জব্দ ‘হাটগুলোতে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে’: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত জমিয়তুল ফালাহ ময়দান: চসিক মেয়র ঈদের ছুটিতে একসঙ্গে ফিরছিলেন বাড়ি, এবার পাশাপাশি কবরে শায়িত তারা কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুন: একদিন আগেও ছিল ঘর, আজ ফ্লাইওভারের নিচেই তাদের ঠিকানা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হবে ঈদুল আজহার জামাত রায়পুরায় দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা নোয়াখালীতে নসিমন উল্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু মির্জাপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের মৃত্যু হাজরাপুর ইউনিয়নে তরুণদের আস্থার প্রতীক চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সাইমুম সিরাজ শোয়ার আগে যে কাজটি করতে ভোলেন না ক্যাটরিনা ইউরো জেতানো অধিনায়ককে ছাড়াই স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা আঘাত বা ক্ষত যখন ক্যানসারে রূপ নেয়, যেসব লক্ষণ অবহেলা করা যাবে না গাছের তাল পাড়তে নিষেধ করায় প্রতিবেশীর বর্বরোচিত হামলা, বৃদ্ধ গুরুতর আহত ৬ ঘন্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, নগরজুড়ে তদারকিতে থাকবেন মেয়র ডা. শাহাদাত রূপগঞ্জে ফল ব্যবসায়ী হত্যার বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল পাইকগাছায় অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন; আইনগত ব্যবস্থার দাবি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে অপপ্রচারের প্রতিবাদে রূপগঞ্জে যুবদল নেতার সংবাদ সম্মেলন নদীর তীরে হাঁটতে গিয়ে পেলেন ২০ কেজির কোরাল মাছ পাইকগাছায় কোরবানির পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত ঢাকা-৫ এর জলাবদ্ধতা নিরসনে এমপি কামাল হোসেন এর দ্রুত হস্তক্ষেপ চায় এলাকাবাসী আধুনিকতার চাপে অস্তিত্ব সংকটে কামার শিল্প আমি মোদির বড় ভক্ত: ট্রাম্প জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়: ডিএসসিসি প্রশাসক বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকলেন মমতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঈদযাত্রায় ঝুঁকি এড়াতে যে পরামর্শ দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন জুনায়েদ।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 09:08:57 am, Wednesday, 31 July 2024
  • 94 বার পড়া হয়েছে

জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন জুনায়েদ।।

মো: আব্দুর রহিম

শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।

   

অভাবের সংসারে তিনবেলা খাওয়া ও ছোটভাই-বোনদের পড়াশোনায় সহযোগীতা করতে নিজে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে আর এগোতে পারেনি জুনায়েদ। বাবা অন্যের জমিতে কৃষি কাজ ও দিনমজুরের কাজ করে সংসারের হাল ঠিক রাখতে পারেন না- তাই কাজের সন্ধানে বের হয়ে ঢাকায় একটি কম্পিউটারের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করে জুনায়েদ।

বলছিলাম শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের বিলদেওনিয়া এলাকার বাসিন্দা শাহআলম ফরাজির বড় ছেলে মো: জুনায়েদ হোসেনের -১৭- কথা। চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতার সময়  গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন জুনায়েদ হোসেন।

জানা যায়- গত ১৯ জুলাই বিকেলে জুনায়েদ তার কর্মস্থল মিরপুর ১০ এ অবস্থিত আইটি গ্যালারি নামের কম্পিউটারের দোকান বন্ধ করে মিরপুর ২ এলাকার বাসায় ফিরছিল। তখন সেখানকার সড়কে সংঘর্ষ শুরু হলে জুনায়েদ আবারো তার কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলে বুক বরাবর বাম পাশের পিছন দিক দিয়ে একটি গুলি বিদ্ধ হয়ে সামনে দিয়ে বেড়িয়ে যায়। পরে পথচারীরা তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী  হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে প্রেরণ করলে সেখানে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধা সোয়া ৭ টার দিকে তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত জুনায়েদের কর্মস্থল আইটি গ্যালারির মালিক সবুজ আলম মুঠোফোনে বলেন, “জুনায়েদ অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র একটি ছেলে ছিল। সবসময় মনোযোগ দিয়ে কাজ করতো। ঐদিন -১৯ জুলাই- যখন মিরপুর ১০ এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয় তখন আমি জুনায়েদসহ আমার দোকানের ৪ কর্মচারীকে দোকান বন্ধ করে বাড়ীতে চলে আসতে বলি। তার কিছুক্ষণ পরে ফোনে জানতে পারি জুনায়েদ বাড়ীতে আসার সময়  গুলিতে আহত হয়েছে। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তখন হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি জুনায়েদ মারা গেছে। তিনি আরো জানান- ঐদিন আমাদের ঐ গলিতে জুনায়েদসহ আরো ৩-৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। এরমধ্যে ওখানকার এক বাড়ীর দারওয়ান ও চা খেতে আসা এক লোক ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- জুনায়েদের পরিবারে তার আরো ২ ভাই ও এক বোন রয়েছে। তারা সবাই বিভিন্ন স্কুল কলেজে পড়াশোনা করছে। তাদের মধ্যে জুনায়েদই সবার বড়। এছাড়াও তার পরিবারে রয়েছে বাবা- মা ও তার দাদী। জুনায়েদের পরিবারে উপার্জনক্ষম হিসেবে বাবা শাহআলম ফরাজী ও জুনায়েদ নিজে। তাদের দুজনের আয় দিয়েই সংসার চলতো। জুনায়েদকে হারিয়ে পরিবারটি খুবই ভেঙ্গে পড়েছে।

শনিবার -৩০ জুলাই- জুনায়েদের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়- তাকে বাড়ীর সামনে সড়কের পাশেই দাফন করা হয়েছে। তার বাবা- মা- দাদী সহ ছোট ভাইবোনেরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। জুনায়েদের মা ডলি বেগম বার বার জুনায়েদের কবরের কাছে গিয়ে  কান্না করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন। আর বলছেন- ওরা কেন আমার বুকের ধন কেড়ে নিলো। আমার ছেলেতো কারো কোন ক্ষতি করেনি। আমি এখন কার কাছে এই বিচার চাইবো।

নিহত জুনায়েদের বাবা শাহআলম ফরাজি  বলেন- আমাদের বাড়ী ছাড়া নিজেদের আর কোন জমিজমা নেই। আমি অন্যের জমিতে কাজ করি। তাই সংসার চালাতে সহযোগীতা করতে আমার বড় ছেলে জুনায়েদ ঢাকায় একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করে প্রতিমাসে ৮-১০ হাজার টাকা পাঠাতো। তা দিয়েই বাকী ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা আর ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতাম। এখন আমি অথৈ সাগরে ভেসে গেলাম। আমার জুনায়েদ মারা যাওয়ার দুই ঘন্টা আগেও ওর মা ও আমার সাথে ফোন করে কথা বলেছিল। বলেছিল দোকান বন্ধ করে বাড়ীতে চলে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে ফিরল আমার ছেলেটি। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম  বলেন- জুনায়েদ ছেলেটি খুবই দায়িত্বশীল ও ভদ্র প্রকৃতির ছিল। কখনো কারো সাথে গায়-গেঞ্জামে যেতো না। সে মারা যাওয়ায় পরিবারটি খুবই বিপাকে পড়েছে। কেননা জুনায়েদ যা টাকা আয় করে পাঠাতো তা এবং ওর বাবার দিনমজুরির টাকা দিয়ে পরিবারটি কোনরকমে চলছিল। এখন সরকারের পক্ষ থেকে কোন সহযোগীতা পেলে হয়তো কোনরকমে চলতে পারবে পরিবারটি। নয়তো জুনায়েদের ছোটভাইবোনের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে  রাজনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবু আলেম মাদবর বলেন- আমার বাড়ির পাশেই জুনায়েদদের বাড়ি। সম্পর্কে সে আমার ভাতিজা হয়। পরিবারের হাল ধরতে বড় ছেলে হিসেবে জুনায়েদ ঢাকার একটি কম্পিউটার দোকানে কাজে গিয়েছিলো। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। আমি ব্যক্তিগত ভাবে তার পরিবারকে সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করবো।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জনদুর্ভোগে এগিয়ে এলেন ছাত্রদল নেতা নাছির, নিজ টাকায় সড়ক মেরামত

জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন জুনায়েদ।।

আপডেট সময় : 09:08:57 am, Wednesday, 31 July 2024

মো: আব্দুর রহিম

শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।

   

অভাবের সংসারে তিনবেলা খাওয়া ও ছোটভাই-বোনদের পড়াশোনায় সহযোগীতা করতে নিজে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে আর এগোতে পারেনি জুনায়েদ। বাবা অন্যের জমিতে কৃষি কাজ ও দিনমজুরের কাজ করে সংসারের হাল ঠিক রাখতে পারেন না- তাই কাজের সন্ধানে বের হয়ে ঢাকায় একটি কম্পিউটারের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করে জুনায়েদ।

বলছিলাম শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের বিলদেওনিয়া এলাকার বাসিন্দা শাহআলম ফরাজির বড় ছেলে মো: জুনায়েদ হোসেনের -১৭- কথা। চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতার সময়  গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন জুনায়েদ হোসেন।

জানা যায়- গত ১৯ জুলাই বিকেলে জুনায়েদ তার কর্মস্থল মিরপুর ১০ এ অবস্থিত আইটি গ্যালারি নামের কম্পিউটারের দোকান বন্ধ করে মিরপুর ২ এলাকার বাসায় ফিরছিল। তখন সেখানকার সড়কে সংঘর্ষ শুরু হলে জুনায়েদ আবারো তার কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলে বুক বরাবর বাম পাশের পিছন দিক দিয়ে একটি গুলি বিদ্ধ হয়ে সামনে দিয়ে বেড়িয়ে যায়। পরে পথচারীরা তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী  হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে প্রেরণ করলে সেখানে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধা সোয়া ৭ টার দিকে তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত জুনায়েদের কর্মস্থল আইটি গ্যালারির মালিক সবুজ আলম মুঠোফোনে বলেন, “জুনায়েদ অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র একটি ছেলে ছিল। সবসময় মনোযোগ দিয়ে কাজ করতো। ঐদিন -১৯ জুলাই- যখন মিরপুর ১০ এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয় তখন আমি জুনায়েদসহ আমার দোকানের ৪ কর্মচারীকে দোকান বন্ধ করে বাড়ীতে চলে আসতে বলি। তার কিছুক্ষণ পরে ফোনে জানতে পারি জুনায়েদ বাড়ীতে আসার সময়  গুলিতে আহত হয়েছে। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তখন হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি জুনায়েদ মারা গেছে। তিনি আরো জানান- ঐদিন আমাদের ঐ গলিতে জুনায়েদসহ আরো ৩-৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। এরমধ্যে ওখানকার এক বাড়ীর দারওয়ান ও চা খেতে আসা এক লোক ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- জুনায়েদের পরিবারে তার আরো ২ ভাই ও এক বোন রয়েছে। তারা সবাই বিভিন্ন স্কুল কলেজে পড়াশোনা করছে। তাদের মধ্যে জুনায়েদই সবার বড়। এছাড়াও তার পরিবারে রয়েছে বাবা- মা ও তার দাদী। জুনায়েদের পরিবারে উপার্জনক্ষম হিসেবে বাবা শাহআলম ফরাজী ও জুনায়েদ নিজে। তাদের দুজনের আয় দিয়েই সংসার চলতো। জুনায়েদকে হারিয়ে পরিবারটি খুবই ভেঙ্গে পড়েছে।

শনিবার -৩০ জুলাই- জুনায়েদের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়- তাকে বাড়ীর সামনে সড়কের পাশেই দাফন করা হয়েছে। তার বাবা- মা- দাদী সহ ছোট ভাইবোনেরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। জুনায়েদের মা ডলি বেগম বার বার জুনায়েদের কবরের কাছে গিয়ে  কান্না করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন। আর বলছেন- ওরা কেন আমার বুকের ধন কেড়ে নিলো। আমার ছেলেতো কারো কোন ক্ষতি করেনি। আমি এখন কার কাছে এই বিচার চাইবো।

নিহত জুনায়েদের বাবা শাহআলম ফরাজি  বলেন- আমাদের বাড়ী ছাড়া নিজেদের আর কোন জমিজমা নেই। আমি অন্যের জমিতে কাজ করি। তাই সংসার চালাতে সহযোগীতা করতে আমার বড় ছেলে জুনায়েদ ঢাকায় একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করে প্রতিমাসে ৮-১০ হাজার টাকা পাঠাতো। তা দিয়েই বাকী ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা আর ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতাম। এখন আমি অথৈ সাগরে ভেসে গেলাম। আমার জুনায়েদ মারা যাওয়ার দুই ঘন্টা আগেও ওর মা ও আমার সাথে ফোন করে কথা বলেছিল। বলেছিল দোকান বন্ধ করে বাড়ীতে চলে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে ফিরল আমার ছেলেটি। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম  বলেন- জুনায়েদ ছেলেটি খুবই দায়িত্বশীল ও ভদ্র প্রকৃতির ছিল। কখনো কারো সাথে গায়-গেঞ্জামে যেতো না। সে মারা যাওয়ায় পরিবারটি খুবই বিপাকে পড়েছে। কেননা জুনায়েদ যা টাকা আয় করে পাঠাতো তা এবং ওর বাবার দিনমজুরির টাকা দিয়ে পরিবারটি কোনরকমে চলছিল। এখন সরকারের পক্ষ থেকে কোন সহযোগীতা পেলে হয়তো কোনরকমে চলতে পারবে পরিবারটি। নয়তো জুনায়েদের ছোটভাইবোনের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে  রাজনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবু আলেম মাদবর বলেন- আমার বাড়ির পাশেই জুনায়েদদের বাড়ি। সম্পর্কে সে আমার ভাতিজা হয়। পরিবারের হাল ধরতে বড় ছেলে হিসেবে জুনায়েদ ঢাকার একটি কম্পিউটার দোকানে কাজে গিয়েছিলো। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। আমি ব্যক্তিগত ভাবে তার পরিবারকে সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করবো।