
চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চক্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা ডিবি পুলিশ উন্নত প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং পেশাদার কৌশলের সমন্বয়ে নিরবচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুন ২০২৬ ইং, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ নিবিড় তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে গত ২২ জুলাই ২০২৬ ইং উক্ত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ (৪৭)-কে গ্রেফতার করা হয়। বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে তাকে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুদ এবং সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন।
তদন্তে জানা যায়, ধামা ইলিয়াছ কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ২১টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ০৫টি হত্যা মামলা ছাড়াও অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।
রিমান্ডে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা ডিবি পুলিশ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জুলাই ২০২৬ ইং যশোর জেলার কোতোয়ালি থানাধীন ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমন-সহ ০৪ (চার) জনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে সিএমপি ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় খুন, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ৩:৩০ ঘটিকায় ফটিকছড়ি থানাধীন কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডস্থ পাইট্রাল টিলাপাড়ায় মৃত আবুল হোসেনের পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১টি বিদেশি পিস্তল, ০২টি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু কার্যক্রম প্রকিয়াধীণ।
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের উৎস, অপরাধচক্রের অর্থায়ন এবং তাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সন্ত্রাস, অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল। জনগণের জানমাল রক্ষা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের এ ধরনের গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের নাম ও ঠিকানা
১ আসামি মো: শামীম(২৮) পিতা-মৃত আব্দুল মান্নান,মাতা-খোরশেদা বেগম সাং ৯১/১ এ আর কে মিশন রোড়,থানা-মতিঝিল,ঢাকা-১২০৩
স্থায়ী -মৈয়শাতুয়া
থানা-মনোহরগঞ্জ জেলা-কুমিল্লা
২ মো: মিঠু @ধামা ইলিয়াছ(৪৯)
পিতা-মৃত নুরুল আমিন
মাতা-শাহেরা খাতুন
সাং কদলপুর থানা-রাউজান জেলা-চট্টগ্রাম।
৩ মোবারক হোসেন @ইমন@ডেভিড ইমন(২৫)
মাতা-মমতাজ বেগম
পিতা-মৃত মো:মুসা
সাং কাঞ্চন নগর
থানা-ফটিকছড়ি -জেলা-চট্টগ্রাম
৪ আল ইসলাম আলিফ @ তমাল(২৫)
পিতা-মো: জাফর
মাতা-তাহামিনা বেগম
সাং ২২৭/৩ করিমুল্লাবাগ পোস্তগোলা থানা-শ্যামপুর ঢাকা-১২০৪
৫ মো: সাফায়েত হোসেন(২৪)
পিতা-মো: বেলায়েত হোসেন
মাতা-লিলি বেগম
সাং সাহার পাড় থানা-সোনাইমুড়ি জেলা-নোয়াখালি।
বর্তমানে -বাসা-২৫/ই গোলাপবাগ (নীচ তলা) থানা- যাত্রাবাড়ী ঢাকা-১২০৩

























