Dhaka , Sunday, 25 October 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
আদালতের রায়ে মেয়র, শাহাদাত এবার চট্টগ্রাম সিটির প্রশাসক ইরানে ট্রাম্পের ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের’ কড়া সমালোচনা করলেন বারাক ওবামা পরীমনিকে চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইটে করে শিউলি ফুল পাঠিয়েছেন, ব্যক্তিটি কে? বার্সেলোনা আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ: মেসি ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাজীপুরে পোশাক কারখানার গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৮ ইউনিট অবরোধ-সংঘাতে পর্যটকশূন্য সাজেক, দিনে ক্ষতি দেড় কোটি টাকা।১০ দিন বন্ধ থাকলে ক্ষতি ছাড়াতে পারে ৫ কোটি টাকা, জীবিকা নিয়ে শঙ্কায় কয়েক হাজার পরিবার ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু ধর্মীয় অনুশাসন, আত্মশুদ্ধি ও ফানুস উৎসবের ঐতিহ্য ঈদগড়–ঈদগাঁও সড়কে চাঞ্চল্যকর ডাকাতি: এসআরবি-১৫-এর অভিযানে সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার চাঁদপুরে মেঘনায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার: ৮ জেলে আটক, বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ আজও নষ্ট ৯টি লিফট, শেবাচিমে কাটেনি লোকবল সংকট: উদাসীন পরিচালক ও সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন চরভদ্রাসনে এনসিপির সমন্বয় সভা ও ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা- আমরা ‘সরকারের বন্ধু, শত্রু নয়—ভালো কাজের প্রশংসা, অন্যায়ের সমালোচনা করব বন্দরে দেশীয় অস্ত্রসহ ১১ মামলার আসামি খোকন ডাকাতসহ গ্রেপ্তার ৩ রাজনগরে প্যানেল চেয়ারম্যানের অর্থায়নে ৭০০ ফুট রাস্তা ইট সলিং পাখপাখালির ছড়া ও গ্রন্থের জন্য শিশুসাহিত্য উৎসবে সেরা লেখক সম্মাননা পেলেন হলেন কবি এনামূল হক পলাশ চসিকে’র পূর্ণকালীন প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন নোয়াখালী বেগমগঞ্জে তরুণকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪৬ পর্তুগালে বিশ্বনাথ অ্যাসোসিয়েশনের ১৮১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত কাভানকে দলে টানার সুযোগ খুঁজছে বার্সা চট্টগ্রামে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস, বাড়তে পারে তাপমাত্রা তারা আমাকে টার্গেট করেছে, কিন্তু মিস হয়ে গেছে: আসিফ আকবর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে ১২ দলীয় জোটের মতবিনিময় মধুপুরে কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ ঈদগাঁওয়ে এসআরবি-১৫-এর অভিযানে ১৮ হাজার ৭৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ নোয়াখালীতে শান্তি-সম্প্রীতিতে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন লিবিয়ায় জিম্মি করে ২৫ লাখ টাকা আদায়, দেশে ফিরেও হামলার শিকার প্রবাসী সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবিতে খাগড়াছড়িতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ সাতকানিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত

আজও নষ্ট ৯টি লিফট, শেবাচিমে কাটেনি লোকবল সংকট: উদাসীন পরিচালক ও সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 04:09:52 pm, Sunday, 25 October 2026
  • 3 বার পড়া হয়েছে

আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের ভোগান্তি যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। ১৪টি লিফটের মধ্যে ৯টিই দীর্ঘদিন ধরে বিকল। নতুন মেডিসিন ভবনের চারটি লিফটের তিনটিই অচল। চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংকট, ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগীর চাপ, খাবারের তালিকায় অনিয়ম এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সড়কের বেহাল দশা- এসব সমস্যা তুলে ধরে অসংখ্যবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছে শেবাচিম। আজ পর্যন্ত কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি বরং সব মিলিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সরকারি এই হাসপাতালে সেবার মান নিয়ে আরো বেশি প্রশ্ন উঠেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কতটা দৃশ্যমান, তা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে রোগী, স্বজন ও সচেতন মহলে।
গত ২৪ অক্টোবর সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নতুন মেডিসিন ভবনের একটি সচল লিফটের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। পঞ্চম তলায় পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। অসুস্থ রোগী, বয়স্ক মানুষ ও চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য এমন পরিস্থিতি বিশেষভাবে দুর্ভোগের। একদিকে রোগীর চাপ, অন্যদিকে লিফট অচল, ফলে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সময় নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে শারীরিক কষ্টও। নতুন মেডিসিন ভবনের চারটি লিফটের মধ্যে তিনটি অচল থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর শনিবার পুরাতন ও নতুন ভবনের ১৪টি লিফটের ৯টি অচল। এদিন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন হাজারের বেশি। । অথচ এই হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা মাত্র ১ হাজার ১০০। অর্থাৎ নির্ধারিত শয্যার তুলনায় তিন গুণেরও বেশি রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে কিংবা শয্যার পাশে জায়গা করে নিতে হয়। এতো বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী, কার্যকর চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উন্নত ব্যবস্থাপনা। কিন্তু জনবল সংকটের সঙ্গে অবকাঠামোগত দুরবস্থা যুক্ত হওয়ায় চিকিৎসাসেবার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকের ৩২৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৩৬ জন। শূন্য রয়েছে ৮৭টি পদ। নার্সের ১ হাজার ৬২টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত ১ হাজার ৪ জন। অর্থাৎ চিকিৎসক ও নার্স, উভয়ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম। বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা এবং সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে এই ঘাটতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগীর সংখ্যা ও সেবার প্রয়োজন বিবেচনায় শূন্য পদ পূরণ এবং জনবল বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের।
এদিকে রোগীদের খাবার নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দুপুরের খাবারের তালিকা থেকে ডিম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। গত ১৬ অক্টোবর থেকে ডিম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য নির্ধারিত খাবারের তালিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। অসুস্থ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে খাবারের মান ও পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সড়কের অবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের কারণ। ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড থেকে হাসপাতালের মর্গ ও মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের দিকে যাওয়া সড়কটি প্রায় এক বছর ধরে বেহাল অবস্থায় ছিল। এতে রোগী, স্বজন, শিক্ষার্থী ও হাসপাতালের কর্মীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর সড়কটির সংস্কারকাজ আবার শুরু হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, জনসাধারণের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকল কেন এবং সংস্কারকাজ দ্রুত ও টেকসই হবে কিনা, তা নিশ্চিত করবে কে?
লিফট বিকল থাকা ও সড়কের দুরবস্থার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এসব অবকাঠামোগত কাজের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। লিফট মেরামত ও সড়ক সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে একাধিকবার জানানো হয়েছে বলেও কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। তবে দায়িত্ব অন্য দপ্তরের হলেও রোগী ও স্বজনদের কাছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই সেবার প্রধান মুখ। তাই সমস্যার সমাধানে দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়, নিয়মিত তদারকি এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার উদ্যোগ জরুরি। শুধু চিঠি দেওয়া বা দায়িত্ব অন্য দপ্তরের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ কমছে না।
হাসপাতালের জনবল ব্যবস্থাপনা ও আউটসোর্সিং নিয়েও অসন্তোষের কথা শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহের পর হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়া কিছু ঠিকাদার ও আউটসোর্সিং কর্মী আবার কাজে ফিরেছেন। একই সঙ্গে প্রায় ২৫০ জন অনিবন্ধিত বা অতিরিক্ত কর্মীকে বাদ দেওয়ার ঘটনাও সংশ্লিষ্টদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। বেশিরভাগ রোগী ও স্বজনরা এজন্য পরিচালক এর ভূমিকার প্রশংসা করলেও কিছু ডাক্তার ও নার্স অনিবন্ধিত কর্মীদের তাড়িয়ে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শেবাচিমের এই ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। হাসপাতাল পরিচালনায় অনিয়ম, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ও সেবার মান নিয়ে বহু বছর ধরেই অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মন্ত্রী পদমর্যাদার বরিশাল ১ গৌরনদী আগৈলঝারা আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের মার্চে জাহিদ ফারুক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হন এবং ঐবছরই জুনের শেষ দিকে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে হাসপাতালের সেবার মান ও অনিয়ম নিয়ে নাগরিক মতবিনিময় সভা করেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হাসপাতালের অনিয়ম দূর করা, সিন্ডিকেট ভাঙা এবং চিকিৎসাসেবার উন্নয়নের দাবি জানান। সভায় বাসদের নেতা ডা. মনীষা চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগের দাবিও ওঠে।
এ সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সভাটি হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রায় এক মাস আগে। অর্থাৎ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনঅসন্তোষ এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহের পর শুরু হয়নি; এর আগেই বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছিল।
পরবর্তী সময়ে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তৎকালীন পরিচালক পদত্যাগ করার পর ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে পরিচালক নিয়োগের দাবি ওঠে। ২৫ নভেম্বর ২০২৪ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবায় শৃঙ্খলা ফেরানোর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সংকট সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন আবার সামনে এনেছে। কারণ, পরিচালক পরিবর্তন হলেও লিফট বিকল থাকা, জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত দুরবস্থার মতো সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান দৃশ্যমান হওয়া জরুরি।
২০২৬ সালের জুনে বরিশাল ১ গৌরনদী আগৈলঝারা আসনের সংসদ সদস্য ও ঐ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হন। বর্তমানে স্বপন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন। তবে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হাসপাতালটি বরিশাল-৫ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত হলেও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্যরাই এখানে বারবার সভাপতি হচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারকে দায়িত্ব না দিয়ে অন্য আসনের সংসদ সদস্যকে কেন সভাপতি করা হলো, সে বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তি ও প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি করেছেন অনেকেই। তবে এ বিতর্কের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সভাপতির দায়িত্বে যিনিই থাকুন, হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা কতটুকু দৃশ্যমান হয়েছে?
হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য জানতে গত ২৩ ও ২৪ অক্টোবর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ ও বার্তা পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন এর কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে শেবাচিম পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ মশিউল মুনীর বলেছেন, এ নিয়ে কথা বলে আমি ক্লান্ত। আপনারা বরং গণপূর্ত দপ্তরের সাথে কথা বলুন। আর চিকিৎসা সেবা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতি, ২৫০০ শয্যার প্রস্তাব এগুলো লিখিত ভাবে স্বাস্থ্য বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। হলে আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।।
শেবাচিম দক্ষিণাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা। তাই এখানে লিফট সচল রাখা, চিকিৎসক-নার্সের শূন্য পদ পূরণ, রোগীদের খাবারের মান নিশ্চিত করা, সড়ক সংস্কার এবং কর্মী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়; এগুলো রোগীদের মৌলিক সেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গণপূর্ত বিভাগ, হাসপাতাল প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির মধ্যে সমন্বয় করে প্রতিটি সমস্যার সমাধানে জরুরী পদক্ষেপ আশা করছেন দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আদালতের রায়ে মেয়র, শাহাদাত এবার চট্টগ্রাম সিটির প্রশাসক

আজও নষ্ট ৯টি লিফট, শেবাচিমে কাটেনি লোকবল সংকট: উদাসীন পরিচালক ও সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন

আপডেট সময় : 04:09:52 pm, Sunday, 25 October 2026

আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের ভোগান্তি যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। ১৪টি লিফটের মধ্যে ৯টিই দীর্ঘদিন ধরে বিকল। নতুন মেডিসিন ভবনের চারটি লিফটের তিনটিই অচল। চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংকট, ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগীর চাপ, খাবারের তালিকায় অনিয়ম এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সড়কের বেহাল দশা- এসব সমস্যা তুলে ধরে অসংখ্যবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছে শেবাচিম। আজ পর্যন্ত কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি বরং সব মিলিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সরকারি এই হাসপাতালে সেবার মান নিয়ে আরো বেশি প্রশ্ন উঠেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কতটা দৃশ্যমান, তা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে রোগী, স্বজন ও সচেতন মহলে।
গত ২৪ অক্টোবর সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নতুন মেডিসিন ভবনের একটি সচল লিফটের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। পঞ্চম তলায় পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। অসুস্থ রোগী, বয়স্ক মানুষ ও চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য এমন পরিস্থিতি বিশেষভাবে দুর্ভোগের। একদিকে রোগীর চাপ, অন্যদিকে লিফট অচল, ফলে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সময় নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে শারীরিক কষ্টও। নতুন মেডিসিন ভবনের চারটি লিফটের মধ্যে তিনটি অচল থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর শনিবার পুরাতন ও নতুন ভবনের ১৪টি লিফটের ৯টি অচল। এদিন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন হাজারের বেশি। । অথচ এই হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা মাত্র ১ হাজার ১০০। অর্থাৎ নির্ধারিত শয্যার তুলনায় তিন গুণেরও বেশি রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে কিংবা শয্যার পাশে জায়গা করে নিতে হয়। এতো বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী, কার্যকর চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উন্নত ব্যবস্থাপনা। কিন্তু জনবল সংকটের সঙ্গে অবকাঠামোগত দুরবস্থা যুক্ত হওয়ায় চিকিৎসাসেবার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকের ৩২৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৩৬ জন। শূন্য রয়েছে ৮৭টি পদ। নার্সের ১ হাজার ৬২টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত ১ হাজার ৪ জন। অর্থাৎ চিকিৎসক ও নার্স, উভয়ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম। বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা এবং সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে এই ঘাটতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগীর সংখ্যা ও সেবার প্রয়োজন বিবেচনায় শূন্য পদ পূরণ এবং জনবল বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের।
এদিকে রোগীদের খাবার নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দুপুরের খাবারের তালিকা থেকে ডিম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। গত ১৬ অক্টোবর থেকে ডিম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য নির্ধারিত খাবারের তালিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। অসুস্থ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে খাবারের মান ও পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সড়কের অবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের কারণ। ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড থেকে হাসপাতালের মর্গ ও মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের দিকে যাওয়া সড়কটি প্রায় এক বছর ধরে বেহাল অবস্থায় ছিল। এতে রোগী, স্বজন, শিক্ষার্থী ও হাসপাতালের কর্মীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর সড়কটির সংস্কারকাজ আবার শুরু হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, জনসাধারণের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকল কেন এবং সংস্কারকাজ দ্রুত ও টেকসই হবে কিনা, তা নিশ্চিত করবে কে?
লিফট বিকল থাকা ও সড়কের দুরবস্থার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এসব অবকাঠামোগত কাজের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। লিফট মেরামত ও সড়ক সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে একাধিকবার জানানো হয়েছে বলেও কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। তবে দায়িত্ব অন্য দপ্তরের হলেও রোগী ও স্বজনদের কাছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই সেবার প্রধান মুখ। তাই সমস্যার সমাধানে দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়, নিয়মিত তদারকি এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার উদ্যোগ জরুরি। শুধু চিঠি দেওয়া বা দায়িত্ব অন্য দপ্তরের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ কমছে না।
হাসপাতালের জনবল ব্যবস্থাপনা ও আউটসোর্সিং নিয়েও অসন্তোষের কথা শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহের পর হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়া কিছু ঠিকাদার ও আউটসোর্সিং কর্মী আবার কাজে ফিরেছেন। একই সঙ্গে প্রায় ২৫০ জন অনিবন্ধিত বা অতিরিক্ত কর্মীকে বাদ দেওয়ার ঘটনাও সংশ্লিষ্টদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। বেশিরভাগ রোগী ও স্বজনরা এজন্য পরিচালক এর ভূমিকার প্রশংসা করলেও কিছু ডাক্তার ও নার্স অনিবন্ধিত কর্মীদের তাড়িয়ে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শেবাচিমের এই ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। হাসপাতাল পরিচালনায় অনিয়ম, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ও সেবার মান নিয়ে বহু বছর ধরেই অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মন্ত্রী পদমর্যাদার বরিশাল ১ গৌরনদী আগৈলঝারা আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের মার্চে জাহিদ ফারুক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হন এবং ঐবছরই জুনের শেষ দিকে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে হাসপাতালের সেবার মান ও অনিয়ম নিয়ে নাগরিক মতবিনিময় সভা করেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হাসপাতালের অনিয়ম দূর করা, সিন্ডিকেট ভাঙা এবং চিকিৎসাসেবার উন্নয়নের দাবি জানান। সভায় বাসদের নেতা ডা. মনীষা চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগের দাবিও ওঠে।
এ সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সভাটি হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রায় এক মাস আগে। অর্থাৎ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনঅসন্তোষ এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহের পর শুরু হয়নি; এর আগেই বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছিল।
পরবর্তী সময়ে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তৎকালীন পরিচালক পদত্যাগ করার পর ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে পরিচালক নিয়োগের দাবি ওঠে। ২৫ নভেম্বর ২০২৪ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবায় শৃঙ্খলা ফেরানোর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সংকট সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন আবার সামনে এনেছে। কারণ, পরিচালক পরিবর্তন হলেও লিফট বিকল থাকা, জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত দুরবস্থার মতো সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান দৃশ্যমান হওয়া জরুরি।
২০২৬ সালের জুনে বরিশাল ১ গৌরনদী আগৈলঝারা আসনের সংসদ সদস্য ও ঐ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হন। বর্তমানে স্বপন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন। তবে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হাসপাতালটি বরিশাল-৫ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত হলেও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্যরাই এখানে বারবার সভাপতি হচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারকে দায়িত্ব না দিয়ে অন্য আসনের সংসদ সদস্যকে কেন সভাপতি করা হলো, সে বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তি ও প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি করেছেন অনেকেই। তবে এ বিতর্কের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সভাপতির দায়িত্বে যিনিই থাকুন, হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা কতটুকু দৃশ্যমান হয়েছে?
হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য জানতে গত ২৩ ও ২৪ অক্টোবর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ ও বার্তা পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন এর কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে শেবাচিম পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ মশিউল মুনীর বলেছেন, এ নিয়ে কথা বলে আমি ক্লান্ত। আপনারা বরং গণপূর্ত দপ্তরের সাথে কথা বলুন। আর চিকিৎসা সেবা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতি, ২৫০০ শয্যার প্রস্তাব এগুলো লিখিত ভাবে স্বাস্থ্য বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। হলে আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।।
শেবাচিম দক্ষিণাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা। তাই এখানে লিফট সচল রাখা, চিকিৎসক-নার্সের শূন্য পদ পূরণ, রোগীদের খাবারের মান নিশ্চিত করা, সড়ক সংস্কার এবং কর্মী ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়; এগুলো রোগীদের মৌলিক সেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গণপূর্ত বিভাগ, হাসপাতাল প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির মধ্যে সমন্বয় করে প্রতিটি সমস্যার সমাধানে জরুরী পদক্ষেপ আশা করছেন দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষ।