Dhaka , Monday, 6 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রহস্যজনক চুরি, সিসি ক্যামেরার সরঞ্জাম উধাও পাইকগাছায় পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়মিত সভা বন্দরে মাদ্রাসা সভাপতির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন আড়াইহাজারে তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষ, আহত ২ রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, পটিয়ায় পুলিশের অভিযানে রিয়াদ বিন সেলিম গ্রেফতার ভাই’ সম্বোধনে ক্ষোভ কুড়িগ্রামের এসিল্যান্ডের, অপমানজনক আচরণের অভিযোগ বর্তমান সরকার শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কাজ করছে : প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত অতীত সরকারের ভুলে হামের সংকট, সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান — ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার রাজাপুরে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত নোয়াখালীতে যৌথ অভিযানে ৩৭৯৮ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদককারবারি গ্রেপ্তার সাভারের জামগড়ায় পুলিশের ক্যাম্প উদ্বোধন, মাদক-সন্ত্রাস রোধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র সাঁড়াশি অভিযান: সীমান্ত থেকে কসমেটিকস ও মাদকসহ ৯ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার রূপগঞ্জে ছেলের অত্যাচারের প্রতিবাদে মামলা-পিতার-মাতার মানববন্ধন জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে তীব্র ভোগান্তি: পাম্পে দীর্ঘ সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা নোয়াখালীতে ৩৭৯৮ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদককারবারি গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের মারধরে ব্যবসায়ীর মৃত্যু বেগমগঞ্জে উপজেলা বিএনপির আহবায়কের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ ; বিক্ষোভ হাতিয়ায় পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু দেশে তেল ও দ্রব্যের দাম বাড়েনি এটি বাংলাদেশ সরকারের সফলতা- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় সন্ত্রাসীদের দুগ্রুপের গোলাগুলিতে ১২ বছরের শিশু গুলিবিদ্ধ প্রকৃত মৎস্যজীবীরাই পাবেন সরকারের নির্ধারিত সুযোগ সুবিধা:- প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি প্রকৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে উঠছে আধুনিক ডিসি পার্ক:- চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আর্থিক সংকটে পরিবারের কাছে টাকা না পেয়ে কুড়িগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ঝালকাঠিতে যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে  পকেটমারের সন্দেহে জনসম্মুখে বৃদ্ধাকে ন্যাড়া করে ভিডিও ছড়ানো অভিযোগ  ঈদের আগেই বাড়ছে ফেরি, হাতিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের আভাস অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন চট্টগ্রামের উন্নয়নে বিএনপির তৃণমূল নেতৃবৃন্দকে ভূমিকা রাখতে হবে:- ডা. শাহাদাত হোসেন রূপগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রূপগঞ্জে ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন ও তার স্ত্রী-সন্তানের উপর সন্ত্রাসী হামলা

ঠাকুরগাঁওয়ে গুলি নি‌য়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছেন লিটন।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 10:56:04 am, Saturday, 28 September 2024
  • 143 বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ে গুলি নি‌য়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছেন লিটন।।

জসীমউদ্দীন ইতি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।

লেখাপড়া শেষে বয়োজ্যেষ্ঠ মা–বাবার দায়িত্ব নেওয়ার প্রবল ইচ্ছে নিয়ে বেড়ে ওঠা লিটন এখন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। মাথায় ১৫টি এবং পুরো শরীরে আরও সাড়ে চার শতাধিক গুলি। এই যন্ত্রণায় কত দিন থাকতে হবে তা–ও তিনি জানেন না। তবে উন্নত চিকিৎসায় শরীর থেকে গুলিগুলো বের করা সম্ভব হলে তিনি স্বাভাবিক হবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

এদিকে বৃদ্ধ বাবার পক্ষে কোনো রকমে প্রাথমিক চিকিৎসাগুলো করানো সম্ভব হলেও উন্নত চিকিৎসার অর্থ জোগাড়ে অপারগ তিনি। নিজেকে এখন অসহায় ছাড়া কিছুই ভাবতে পারছেন না লিটন -১৯-।

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ শিহাব মাহমুদ শাহরিয়ার লিটনের চিকিৎসা করেছেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন- ছররা গুলিতে যদি খুব অসুবিধা না হয়, তাহলে এসব বের করতে আমি নিরুৎসাহিত করি। কারণ- ওর মাথায় যে ১৫টি গুলি আছে- সে জন্য ১৫ বার অস্ত্রোপচার করতে হবে। এতে রোগীর আরও জটিল অবস্থা তৈরি হবে। এ ছাড়া গুলিগুলো খুবই ছোট- কেটে সঙ্গে সঙ্গে বের করা যাবে—এমনটিও না।

পৌর শহরের দক্ষিণ সালান্দর পাড়ার মিলননগর মহল্লায় লিটনের বাড়ি। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি। গত ৪ আগস্ট ঠাকুরগাঁও শহরের কোর্ট চত্বর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন লিটন।

ইয়াকুব আলী স্যানিটারি স্ল্যাব বানিয়ে বিক্রি করে সংসার চালান। অভাবের সংসারে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে লিটনও খণ্ডকালীন চাকরি করতেন একটি ওষুধ ফার্মেসিতে। সে চাকরিও এখন নেই।

আজ শুক্রবার লিটনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়- বিছানায় শুয়ে-বসে কাতরাচ্ছেন লিটন। তাঁর পাশে হতাশা নিয়ে বসে আছেন মা-বাবা। সন্তান সুস্থ হতে পারবে কি না- এ নিয়ে চিন্তিত তাঁরা। মা লিলি বেগমের কপালে চিন্তার ভাঁজ আর চোখে পানি।

আজকের পত্রিকাকর কাছে লিটন সেই দিনের ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে জানান, ছাত্র আন্দোলনে ডাকা সব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ৪ আগস্ট দুপুরে শহরের কোর্ট চত্বরের পূর্ব পাশের গলিতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশ তাদের গুলি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলে। কিন্তু তাঁরা চলে যাওয়া শুরু করলে তাঁদের দিকে গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরে জ্ঞান ফেরার পর উঠে দাঁড়ালে তাঁর খুব কাছে থেকে আবারও এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে তাঁর পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরো শরীর গুলিবিদ্ধ হন। একপর্যায়ে কোনো রকমে হামাগুড়ি দিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। ওই বাড়ির লোকজন লিটনের রক্তঝরা মাথায় কাপড় দিয়ে বেঁধে দেন।

একপর্যায়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাঁকেসহ গুলিবিদ্ধ অন্যদের ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে শহরের একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করে ১২টি গুলি তাঁর শরীর থেকে বের করা হয়।

এর এক দিন পর -৬ আগস্ট- রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে তিন দিন চিকিৎসার পর রংপুর সিএমএইচ হাসপাতালে দুই সপ্তাহ ভর্তি ছিলেন। সেখানেও অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু শরীর থেকে একটি গুলিও বের করা সম্ভব হয়নি। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে এখন তিনি বাড়িতেই রয়েছেন।

ব্যথায় কাতর লিটন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গুলি লাগার পরে শরীরের প্রত্যেকটা জায়গা যেন অবশ হয়ে আছে। একা কোনো কাজ করতে পারি না। অন্য কারও সহযোগিতা নিয়ে করতে হয়। বেশিক্ষণ দাঁড়িয়েও থাকতে পারি না- বসেও থাকতে পারি না। আবার গরম লাগলে ব্যথার তীব্রতা হয়। সারাক্ষণ বাতাসে না হয় ঠান্ডা জায়গায় থাকতে হয়। রাতে ঘুমাতে গেলে মাথায় বিঁধে থাকা গুলির যন্ত্রণায় ঘুমও হয় না। বালিশে মাথায় দিতেও কষ্ট হয়। খুব অসহায় বোধ হয়।

লিটন বলেন, ‘এখন সরকারের কাছে একটি চাওয়া—আমার শরীর থেকে গুলিগুলো বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা যেন করা হয়। আবার আমি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে চাই। এই দেশের জন্য, আমার পরিবারের জন্য কাজ করতে চাই।

লিটনের বাবা ইয়াকুব আলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘টানাটানির সংসারে ধারদেনা করে ছেলের জন্য ওষুধ কিনতে হচ্ছে। বড় স্বপ্ন ছিল ছেলেটা পড়ালেখা শেষ করে একদিন সংসারের হাল ধরবে। পরিবারের অভাব দূর হবে। কিন্তু আমাদের সাজানো স্বপ্ন এখন শেষ হয়ে গেল-

সরকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল উইংয়ের দায়িত্বরত সদস্য রাকিব ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন- আমরা খোঁজখবর রাখছি। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে লিটনের শরীরের গুলিগুলো বের করে দেওয়া সম্ভব হলে- দ্রুত সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।

তিনি আরও বলেন- তবে এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ অর্থ। যা জোগাড় করা তাঁর দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের কাছে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাই।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রহস্যজনক চুরি, সিসি ক্যামেরার সরঞ্জাম উধাও

ঠাকুরগাঁওয়ে গুলি নি‌য়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছেন লিটন।।

আপডেট সময় : 10:56:04 am, Saturday, 28 September 2024

জসীমউদ্দীন ইতি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।

লেখাপড়া শেষে বয়োজ্যেষ্ঠ মা–বাবার দায়িত্ব নেওয়ার প্রবল ইচ্ছে নিয়ে বেড়ে ওঠা লিটন এখন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। মাথায় ১৫টি এবং পুরো শরীরে আরও সাড়ে চার শতাধিক গুলি। এই যন্ত্রণায় কত দিন থাকতে হবে তা–ও তিনি জানেন না। তবে উন্নত চিকিৎসায় শরীর থেকে গুলিগুলো বের করা সম্ভব হলে তিনি স্বাভাবিক হবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

এদিকে বৃদ্ধ বাবার পক্ষে কোনো রকমে প্রাথমিক চিকিৎসাগুলো করানো সম্ভব হলেও উন্নত চিকিৎসার অর্থ জোগাড়ে অপারগ তিনি। নিজেকে এখন অসহায় ছাড়া কিছুই ভাবতে পারছেন না লিটন -১৯-।

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ শিহাব মাহমুদ শাহরিয়ার লিটনের চিকিৎসা করেছেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন- ছররা গুলিতে যদি খুব অসুবিধা না হয়, তাহলে এসব বের করতে আমি নিরুৎসাহিত করি। কারণ- ওর মাথায় যে ১৫টি গুলি আছে- সে জন্য ১৫ বার অস্ত্রোপচার করতে হবে। এতে রোগীর আরও জটিল অবস্থা তৈরি হবে। এ ছাড়া গুলিগুলো খুবই ছোট- কেটে সঙ্গে সঙ্গে বের করা যাবে—এমনটিও না।

পৌর শহরের দক্ষিণ সালান্দর পাড়ার মিলননগর মহল্লায় লিটনের বাড়ি। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি। গত ৪ আগস্ট ঠাকুরগাঁও শহরের কোর্ট চত্বর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন লিটন।

ইয়াকুব আলী স্যানিটারি স্ল্যাব বানিয়ে বিক্রি করে সংসার চালান। অভাবের সংসারে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে লিটনও খণ্ডকালীন চাকরি করতেন একটি ওষুধ ফার্মেসিতে। সে চাকরিও এখন নেই।

আজ শুক্রবার লিটনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়- বিছানায় শুয়ে-বসে কাতরাচ্ছেন লিটন। তাঁর পাশে হতাশা নিয়ে বসে আছেন মা-বাবা। সন্তান সুস্থ হতে পারবে কি না- এ নিয়ে চিন্তিত তাঁরা। মা লিলি বেগমের কপালে চিন্তার ভাঁজ আর চোখে পানি।

আজকের পত্রিকাকর কাছে লিটন সেই দিনের ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে জানান, ছাত্র আন্দোলনে ডাকা সব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ৪ আগস্ট দুপুরে শহরের কোর্ট চত্বরের পূর্ব পাশের গলিতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশ তাদের গুলি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলে। কিন্তু তাঁরা চলে যাওয়া শুরু করলে তাঁদের দিকে গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরে জ্ঞান ফেরার পর উঠে দাঁড়ালে তাঁর খুব কাছে থেকে আবারও এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে তাঁর পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরো শরীর গুলিবিদ্ধ হন। একপর্যায়ে কোনো রকমে হামাগুড়ি দিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। ওই বাড়ির লোকজন লিটনের রক্তঝরা মাথায় কাপড় দিয়ে বেঁধে দেন।

একপর্যায়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাঁকেসহ গুলিবিদ্ধ অন্যদের ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে শহরের একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করে ১২টি গুলি তাঁর শরীর থেকে বের করা হয়।

এর এক দিন পর -৬ আগস্ট- রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে তিন দিন চিকিৎসার পর রংপুর সিএমএইচ হাসপাতালে দুই সপ্তাহ ভর্তি ছিলেন। সেখানেও অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু শরীর থেকে একটি গুলিও বের করা সম্ভব হয়নি। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে এখন তিনি বাড়িতেই রয়েছেন।

ব্যথায় কাতর লিটন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গুলি লাগার পরে শরীরের প্রত্যেকটা জায়গা যেন অবশ হয়ে আছে। একা কোনো কাজ করতে পারি না। অন্য কারও সহযোগিতা নিয়ে করতে হয়। বেশিক্ষণ দাঁড়িয়েও থাকতে পারি না- বসেও থাকতে পারি না। আবার গরম লাগলে ব্যথার তীব্রতা হয়। সারাক্ষণ বাতাসে না হয় ঠান্ডা জায়গায় থাকতে হয়। রাতে ঘুমাতে গেলে মাথায় বিঁধে থাকা গুলির যন্ত্রণায় ঘুমও হয় না। বালিশে মাথায় দিতেও কষ্ট হয়। খুব অসহায় বোধ হয়।

লিটন বলেন, ‘এখন সরকারের কাছে একটি চাওয়া—আমার শরীর থেকে গুলিগুলো বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা যেন করা হয়। আবার আমি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে চাই। এই দেশের জন্য, আমার পরিবারের জন্য কাজ করতে চাই।

লিটনের বাবা ইয়াকুব আলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘টানাটানির সংসারে ধারদেনা করে ছেলের জন্য ওষুধ কিনতে হচ্ছে। বড় স্বপ্ন ছিল ছেলেটা পড়ালেখা শেষ করে একদিন সংসারের হাল ধরবে। পরিবারের অভাব দূর হবে। কিন্তু আমাদের সাজানো স্বপ্ন এখন শেষ হয়ে গেল-

সরকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল উইংয়ের দায়িত্বরত সদস্য রাকিব ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন- আমরা খোঁজখবর রাখছি। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে লিটনের শরীরের গুলিগুলো বের করে দেওয়া সম্ভব হলে- দ্রুত সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।

তিনি আরও বলেন- তবে এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ অর্থ। যা জোগাড় করা তাঁর দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের কাছে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাই।