
ডিজিটাল রিপোর্ট,
অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং যমুনা সেতুর ওপর ও সংযোগ সড়কে একাধিক গাড়ি বিকল হয়ে পড়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা হাজারো যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত থেকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে পৌলি পর্যন্ত এলাকায় এ যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ-পরবর্তী সময়ে ঘরমুখো ও কর্মস্থলমুখী মানুষের অতিরিক্ত চাপের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুর ওপর প্রায় ২০ থেকে ২৫টি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে। এসব যানবাহনের অধিকাংশই ছিল পুরোনো ও যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ। রেকারের মাধ্যমে সেগুলো সরাতে গিয়ে বারবার যান চলাচল ব্যাহত হয়।
এর মধ্যে শুক্রবার রাতে যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে একটি বাসের পেছনে আরেকটি বাস ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সেতুতে যান চলাচল বন্ধ থাকায় যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, “যমুনা সেতুতে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি যানবাহন বিকল হয়েছিল। এর বেশিরভাগই ছিল লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন। এসব কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছি।”
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে মোট ৪০ হাজার ৫৮০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ১৪ লাখ ২৭ হাজার ২৫০ টাকা।
এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ১৫ হাজার ৪৪৮টি যানবাহন থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং ঢাকাগামী ২৫ হাজার ১৩২টি যানবাহন থেকে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে।
সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং সেতু ও সংযোগ সড়কে একাধিক যানবাহন বিকল হওয়ার কারণেই এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে মো. জুয়েল মিয়া জানান, মহাসড়কে এখনও যানবাহনের চাপ রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
























