Dhaka , Thursday, 16 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
নিখোঁজের ৮ মাস: তৃপ্তিকে ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে আহাজারি মায়ের। বঙ্গোপসাগর উপকূলে নৌকাডুবি, ৫০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা নিহত কক্সবাজারে স্কুলছাত্র অপহরণ : রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার বন্যার্তদের সাহায্যার্থে বাঁশখালীতে ড্যাব, চট্টগ্রাম এর খাবার ও ঔষধ বিতরণ জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে চট্টগ্রাম সিএমপি’র শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন জিপে লুকিয়ে ৮০ হাজার ইয়াবা পাচার সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া পরিষদের ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি দিদারুল আলম, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবর পাইকগাছায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত মধুপুরে জুলাই শহীদ দিবসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রামগঞ্জে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত সম্পদের লোভে ওমান প্রবাসীর ওপর পৈশাচিকতা: ৫ দিন ঘরে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন। জুলাই ঐক্যে ফাটল ধরলে ক্ষতি হবে সবার: পুলিশ সুপার জনগণের প্রতি সরকার শতভাগ দায়বদ্ধ, বাঘাইছড়িতে টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের নগরীর মুরাদপুরে ফুটবল ম্যাচ চলাকালে ছুরিকাঘাতে যুবক আহত জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে চরভদ্রাসনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ১২ বছর পর আবারও বিয়ের পিঁড়িতে জেনিফার উইঙ্গেট ২০২৮ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কোচ থাকছেন টুখেল মসজিদে হামলার ছক, যুক্তরাজ্যে কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা এখন কি স্বর্ণে বিনিয়োগের সময়? জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির পুলিশকে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে: আইজিপি দক্ষিণ মিঠাছড়িতে বন্যার্তদের মাঝে শিশু সুরক্ষা কমিটির ত্রাণসামগ্রী বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮০০ নালা পরিস্কার করা হবে:- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বন্দর–ডবলমুরিং এলাকায় চাল বিতরণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আশ্বাস চরভদ্রাসনে জেলের হাতে ধরা পড়ল মেছো বাঘের বাচ্চা: উৎসুক জনতার ভিড়: পরে বন বিভাগে হস্তান্তর। রায়পুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক বাঁশখালীতে বন্যার্তদের মাঝে চবি ছাত্রদল নেতা হাসানের উপহারসামগ্রী বিতরণ জলাবদ্ধতায় ঘরেই নবজাতকসহ প্রসূতির মৃত্যু বেগমগ‌ঞ্জে ভোক্তা অ‌ধিকা‌রের অ‌ভিযান ; তিন প্রতিষ্ঠান‌কে ২৭ হাজার টাকা জ‌রিমানা

চাহিদা কমেছে গোলপাতার।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:34:24 am, Friday, 2 February 2024
  • 191 বার পড়া হয়েছে

চাহিদা কমেছে গোলপাতার।।

মোঃ রুবেল খান
মোংলা বাগেরহাট।।
সুন্দরবনে বনজদ্রব্য আহরণ সংকুচিত চাহিদা হ্রাসসহ নানা সংকটে খানিকটা অনাগ্রহের মধ্যেই পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ’র একটি কুপে গোলপাতা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাওয়ালীরা। তবে বন বিভাগের কঠোর নিরাপত্তা ও কড়াকড়ির মধ্যে নির্বিঘ্নে মৌসুমের প্রথম ট্রিপের গোলপাতা কাটতে পেরে খুশি বাওয়ালীরা।
বনবিভাগের বিভিন্ন সুত্র ও বাওয়ালীরা জানায়, ক্রমশ গোলপাতার চাহিদা হ্রাস ও সুন্দরবন থেকে বনজদ্রব্য আহরণ সঙ্কুচিত হওয়ায় সুন্দরবনে গোলপাতা সংগ্রহে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন বাওয়ালীরা। আহরণের ভরা মৌসুমেও এবার বাওয়ালীদের বিএলসি-অনুমতি-দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর ছিল বন বিভাগ। সকল আইন মেনেই সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা কূপ-জোন-থেকে ব্যবসায়ীরা পারমিট গ্রহণ করে গোলপাতা আহরণে সুন্দরবন অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেন বাওয়ালী ও এর উপর নির্ভরশীল শ্রমজীবীরা। যদিও বনের উপর চাপ কমাতে বনজদ্রব্য আহরণ সঙ্কুচিত করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছে বন বিভাগ।
বাওয়ালিরা সুন্দরবনে যাতে নির্বিঘ্নে গোলপাতা কাটতে পারে তার জন্য বনবিভাগ থেকে যেমন নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা তেমনি এ গোলপাতা আহরণে রয়েছে শর্তও। গোলপাতা আহরণের সময় বনের অন্য কোনো ধরনের গাছপালা কাটা যাবে না। কোনো বাওয়ালী যদি গোলপাতার পাশাপাশি অন্য প্রজাতির গাছ কাটেন কিংবা বনের ক্ষতি করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহাজন সুলতান মাহমুদ জানান, গোলপাতা আহরণে বন কর্মকর্তারা আমাদের যথেষ্ট সহোযোগিতা করছে। সরকারী রাজস্বের বাইরে বনবিভাগের কোন চাহিদা না থাকলেও গোলপাতার চাহিদা কমে যাওয়ায় বিক্রি করতে আমাদের হিমসিম খেতে হয়। এ ব্যবসা বাব-দাদা চৌদ্দ পুরুষ আমল থেকেই চলে আসছে তাই ছাড়তে পারি না। কিন্তু এ ব্যবসাটা তেমন লাভবান না।
মহাজন গফফার হাওলাদার বলেন, সরকারী রাজস্বের বাইরে বনবিভাগের কোন চাহিদা না থাকলেও গত বছরের তুলনায় নৌকা অনেক কমে গেছে কেননা গোলপাতায় ব্যবসা এখন অনেক কম। নৌকার খরচ না ও ওঠায় অনেক নৌকা কমে গেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের (মোংলা) স্টেশন অফিসার শেখ মো. আনিসুর রহমান বলেন, সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জে দুটি গোলপাতার কূপ রয়েছে। একটি হলো শ্যালা গোলপাতা কূপ অপরটি চাঁদপাই গোলপাতা কূপ। এসব কূপে বাওয়ালীরা যাতে নির্বিঘ্নে গোলপাতা কাটতে পারেন তার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া নিয়মিত কুপের পক্ষে থেকে তদারকিও করা হচ্ছে। এ মৌসুমে শ্যালা ও চাঁদপাই কূপ থেকে ৭ হাজার মেট্রিক টন গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে নানা সংকটে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ না থাকায় চলতি মৌসুমে গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশংকাও করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এবার মৌসুমে প্রতি কুইন্টাল গোলপাতা আহরণে ভ্যাট ব্যতিত রাজস্ব নেওয়া হচ্ছে ৬০টাকা। তবে দিনদিন গোলপাতার ব্যবহার কমে আসায় কূপ থেকে গোলপাতা আহরণের পরিমাণ কমে আসছে। আগে যেখানে ১৫০-২০০ নৌকা হতো সে তুলনায় এবার প্রচুর কম নৌকা গোলপাতা আহরণে যাচ্ছে। নৌকার সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাওয়ালীর সংখ্যাও কমে গেছে। এবারও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম গোলপাতা আহরণ হবে বলেও জানান বনবিভাগের এ কর্মকর্তা।
সর্বশেষ বনবিভাগ ও বাওয়ালীদের পক্ষে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে বাওয়ালীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে নিয়ম মাফিক গোলপাতা আহরণে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ গোলপাতা আহরণ চলবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিখোঁজের ৮ মাস: তৃপ্তিকে ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে আহাজারি মায়ের।

চাহিদা কমেছে গোলপাতার।।

আপডেট সময় : 08:34:24 am, Friday, 2 February 2024
মোঃ রুবেল খান
মোংলা বাগেরহাট।।
সুন্দরবনে বনজদ্রব্য আহরণ সংকুচিত চাহিদা হ্রাসসহ নানা সংকটে খানিকটা অনাগ্রহের মধ্যেই পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ’র একটি কুপে গোলপাতা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাওয়ালীরা। তবে বন বিভাগের কঠোর নিরাপত্তা ও কড়াকড়ির মধ্যে নির্বিঘ্নে মৌসুমের প্রথম ট্রিপের গোলপাতা কাটতে পেরে খুশি বাওয়ালীরা।
বনবিভাগের বিভিন্ন সুত্র ও বাওয়ালীরা জানায়, ক্রমশ গোলপাতার চাহিদা হ্রাস ও সুন্দরবন থেকে বনজদ্রব্য আহরণ সঙ্কুচিত হওয়ায় সুন্দরবনে গোলপাতা সংগ্রহে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন বাওয়ালীরা। আহরণের ভরা মৌসুমেও এবার বাওয়ালীদের বিএলসি-অনুমতি-দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর ছিল বন বিভাগ। সকল আইন মেনেই সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা কূপ-জোন-থেকে ব্যবসায়ীরা পারমিট গ্রহণ করে গোলপাতা আহরণে সুন্দরবন অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেন বাওয়ালী ও এর উপর নির্ভরশীল শ্রমজীবীরা। যদিও বনের উপর চাপ কমাতে বনজদ্রব্য আহরণ সঙ্কুচিত করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছে বন বিভাগ।
বাওয়ালিরা সুন্দরবনে যাতে নির্বিঘ্নে গোলপাতা কাটতে পারে তার জন্য বনবিভাগ থেকে যেমন নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা তেমনি এ গোলপাতা আহরণে রয়েছে শর্তও। গোলপাতা আহরণের সময় বনের অন্য কোনো ধরনের গাছপালা কাটা যাবে না। কোনো বাওয়ালী যদি গোলপাতার পাশাপাশি অন্য প্রজাতির গাছ কাটেন কিংবা বনের ক্ষতি করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহাজন সুলতান মাহমুদ জানান, গোলপাতা আহরণে বন কর্মকর্তারা আমাদের যথেষ্ট সহোযোগিতা করছে। সরকারী রাজস্বের বাইরে বনবিভাগের কোন চাহিদা না থাকলেও গোলপাতার চাহিদা কমে যাওয়ায় বিক্রি করতে আমাদের হিমসিম খেতে হয়। এ ব্যবসা বাব-দাদা চৌদ্দ পুরুষ আমল থেকেই চলে আসছে তাই ছাড়তে পারি না। কিন্তু এ ব্যবসাটা তেমন লাভবান না।
মহাজন গফফার হাওলাদার বলেন, সরকারী রাজস্বের বাইরে বনবিভাগের কোন চাহিদা না থাকলেও গত বছরের তুলনায় নৌকা অনেক কমে গেছে কেননা গোলপাতায় ব্যবসা এখন অনেক কম। নৌকার খরচ না ও ওঠায় অনেক নৌকা কমে গেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের (মোংলা) স্টেশন অফিসার শেখ মো. আনিসুর রহমান বলেন, সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জে দুটি গোলপাতার কূপ রয়েছে। একটি হলো শ্যালা গোলপাতা কূপ অপরটি চাঁদপাই গোলপাতা কূপ। এসব কূপে বাওয়ালীরা যাতে নির্বিঘ্নে গোলপাতা কাটতে পারেন তার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া নিয়মিত কুপের পক্ষে থেকে তদারকিও করা হচ্ছে। এ মৌসুমে শ্যালা ও চাঁদপাই কূপ থেকে ৭ হাজার মেট্রিক টন গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে নানা সংকটে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ না থাকায় চলতি মৌসুমে গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশংকাও করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এবার মৌসুমে প্রতি কুইন্টাল গোলপাতা আহরণে ভ্যাট ব্যতিত রাজস্ব নেওয়া হচ্ছে ৬০টাকা। তবে দিনদিন গোলপাতার ব্যবহার কমে আসায় কূপ থেকে গোলপাতা আহরণের পরিমাণ কমে আসছে। আগে যেখানে ১৫০-২০০ নৌকা হতো সে তুলনায় এবার প্রচুর কম নৌকা গোলপাতা আহরণে যাচ্ছে। নৌকার সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাওয়ালীর সংখ্যাও কমে গেছে। এবারও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম গোলপাতা আহরণ হবে বলেও জানান বনবিভাগের এ কর্মকর্তা।
সর্বশেষ বনবিভাগ ও বাওয়ালীদের পক্ষে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে বাওয়ালীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে নিয়ম মাফিক গোলপাতা আহরণে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ গোলপাতা আহরণ চলবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত।