Dhaka , Sunday, 5 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
পেট ভেদ করে বেরিয়ে গিয়েছিল গুলি, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এবার ‘জুলাই জাতীয় বিশেষ সম্মাননা’ পেলেন ওমর ফারুক সাগর দোহাজারী–কক্সবাজার রেলপথ: দীর্ঘ পথচলার এক মাইলফলক, বাস্তবায়নের শেষ পর্বে সুবক্তগিনের ভূমিকা প্রশংসনীয় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের চট্টগ্রাম ও হাটহাজারীতে মানবিক সহায়তা প্রদান জাতীয় প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যৌথ সভা, প্রেস ক্লাব ফেডারেশন গঠনে ঐকমত্য বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের মেধা ও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবা ও সফটওয়্যার:- ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ যুবসমাজের অবক্ষয় ও মূল্যবোধের সংকট: ধর্ম, মানবতা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ   ৩ সন্তানকে রেখে ইমামের সঙ্গে পালালেন প্রবাসীর স্ত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, দারিদ্র্য আর জীবনের নানামুখী প্রতিকূলতা নোয়াখালীতে বাস চাপায় শিশুর মৃত্যু দুর্গাপুরের জোর করে কেটে ফেললো চলাচলের রাস্তা, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ পাবনায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্কুল ছাত্র নিহত চায়ের আড্ডায় যাওয়ার পথে মোবাইল মেকানিকের মৃত্যু ১৭ বছর পর আনুশকার রেকর্ডে ইতি টানলেন সামান্থা কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে থাকছেন যারা প্রাথমিকে ৩৬ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি নিয়ে সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক কাউখালীতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ৭ জন।। পূর্বের প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই অপসারণ করা হচ্ছে ভায়াডাক্টের নীচের মাটি-:রেলমন্ত্রী। রূপগঞ্জে বিশ্বকাপ দেখতে যুবকদের প্রজেক্টর দিলেন কাউন্সিলর প্রার্থী নোয়াখালীতে ৫৮ বোতল বিদেশি মদসহ কারবারি গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের মুরাদপুরে দিনদুপুরে যুবককে গুলি করে হত্যা হোটেল সোনারগাঁওয়ে নগর জনস্বাস্থ্য প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় বক্তারা কাউখালীতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ৭ জন রূপগঞ্জে সাংগঠনিক আলোচনায় বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান আষাঢ়ের বৃষ্টিতে পাইকগাছায় ছাতা মেরামতের ধুম পাইকগাছায় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময় সভা পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি আবুল কালাম আজাদ মধুপুরে তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন রূপগঞ্জে বেদে পল্লীর ১৮০ পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ

চাহিদা কমেছে গোলপাতার।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:34:24 am, Friday, 2 February 2024
  • 181 বার পড়া হয়েছে

চাহিদা কমেছে গোলপাতার।।

মোঃ রুবেল খান
মোংলা বাগেরহাট।।
সুন্দরবনে বনজদ্রব্য আহরণ সংকুচিত চাহিদা হ্রাসসহ নানা সংকটে খানিকটা অনাগ্রহের মধ্যেই পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ’র একটি কুপে গোলপাতা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাওয়ালীরা। তবে বন বিভাগের কঠোর নিরাপত্তা ও কড়াকড়ির মধ্যে নির্বিঘ্নে মৌসুমের প্রথম ট্রিপের গোলপাতা কাটতে পেরে খুশি বাওয়ালীরা।
বনবিভাগের বিভিন্ন সুত্র ও বাওয়ালীরা জানায়, ক্রমশ গোলপাতার চাহিদা হ্রাস ও সুন্দরবন থেকে বনজদ্রব্য আহরণ সঙ্কুচিত হওয়ায় সুন্দরবনে গোলপাতা সংগ্রহে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন বাওয়ালীরা। আহরণের ভরা মৌসুমেও এবার বাওয়ালীদের বিএলসি-অনুমতি-দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর ছিল বন বিভাগ। সকল আইন মেনেই সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা কূপ-জোন-থেকে ব্যবসায়ীরা পারমিট গ্রহণ করে গোলপাতা আহরণে সুন্দরবন অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেন বাওয়ালী ও এর উপর নির্ভরশীল শ্রমজীবীরা। যদিও বনের উপর চাপ কমাতে বনজদ্রব্য আহরণ সঙ্কুচিত করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছে বন বিভাগ।
বাওয়ালিরা সুন্দরবনে যাতে নির্বিঘ্নে গোলপাতা কাটতে পারে তার জন্য বনবিভাগ থেকে যেমন নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা তেমনি এ গোলপাতা আহরণে রয়েছে শর্তও। গোলপাতা আহরণের সময় বনের অন্য কোনো ধরনের গাছপালা কাটা যাবে না। কোনো বাওয়ালী যদি গোলপাতার পাশাপাশি অন্য প্রজাতির গাছ কাটেন কিংবা বনের ক্ষতি করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহাজন সুলতান মাহমুদ জানান, গোলপাতা আহরণে বন কর্মকর্তারা আমাদের যথেষ্ট সহোযোগিতা করছে। সরকারী রাজস্বের বাইরে বনবিভাগের কোন চাহিদা না থাকলেও গোলপাতার চাহিদা কমে যাওয়ায় বিক্রি করতে আমাদের হিমসিম খেতে হয়। এ ব্যবসা বাব-দাদা চৌদ্দ পুরুষ আমল থেকেই চলে আসছে তাই ছাড়তে পারি না। কিন্তু এ ব্যবসাটা তেমন লাভবান না।
মহাজন গফফার হাওলাদার বলেন, সরকারী রাজস্বের বাইরে বনবিভাগের কোন চাহিদা না থাকলেও গত বছরের তুলনায় নৌকা অনেক কমে গেছে কেননা গোলপাতায় ব্যবসা এখন অনেক কম। নৌকার খরচ না ও ওঠায় অনেক নৌকা কমে গেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের (মোংলা) স্টেশন অফিসার শেখ মো. আনিসুর রহমান বলেন, সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জে দুটি গোলপাতার কূপ রয়েছে। একটি হলো শ্যালা গোলপাতা কূপ অপরটি চাঁদপাই গোলপাতা কূপ। এসব কূপে বাওয়ালীরা যাতে নির্বিঘ্নে গোলপাতা কাটতে পারেন তার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া নিয়মিত কুপের পক্ষে থেকে তদারকিও করা হচ্ছে। এ মৌসুমে শ্যালা ও চাঁদপাই কূপ থেকে ৭ হাজার মেট্রিক টন গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে নানা সংকটে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ না থাকায় চলতি মৌসুমে গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশংকাও করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এবার মৌসুমে প্রতি কুইন্টাল গোলপাতা আহরণে ভ্যাট ব্যতিত রাজস্ব নেওয়া হচ্ছে ৬০টাকা। তবে দিনদিন গোলপাতার ব্যবহার কমে আসায় কূপ থেকে গোলপাতা আহরণের পরিমাণ কমে আসছে। আগে যেখানে ১৫০-২০০ নৌকা হতো সে তুলনায় এবার প্রচুর কম নৌকা গোলপাতা আহরণে যাচ্ছে। নৌকার সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাওয়ালীর সংখ্যাও কমে গেছে। এবারও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম গোলপাতা আহরণ হবে বলেও জানান বনবিভাগের এ কর্মকর্তা।
সর্বশেষ বনবিভাগ ও বাওয়ালীদের পক্ষে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে বাওয়ালীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে নিয়ম মাফিক গোলপাতা আহরণে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ গোলপাতা আহরণ চলবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পেট ভেদ করে বেরিয়ে গিয়েছিল গুলি, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এবার ‘জুলাই জাতীয় বিশেষ সম্মাননা’ পেলেন ওমর ফারুক সাগর

চাহিদা কমেছে গোলপাতার।।

আপডেট সময় : 08:34:24 am, Friday, 2 February 2024
মোঃ রুবেল খান
মোংলা বাগেরহাট।।
সুন্দরবনে বনজদ্রব্য আহরণ সংকুচিত চাহিদা হ্রাসসহ নানা সংকটে খানিকটা অনাগ্রহের মধ্যেই পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ’র একটি কুপে গোলপাতা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাওয়ালীরা। তবে বন বিভাগের কঠোর নিরাপত্তা ও কড়াকড়ির মধ্যে নির্বিঘ্নে মৌসুমের প্রথম ট্রিপের গোলপাতা কাটতে পেরে খুশি বাওয়ালীরা।
বনবিভাগের বিভিন্ন সুত্র ও বাওয়ালীরা জানায়, ক্রমশ গোলপাতার চাহিদা হ্রাস ও সুন্দরবন থেকে বনজদ্রব্য আহরণ সঙ্কুচিত হওয়ায় সুন্দরবনে গোলপাতা সংগ্রহে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন বাওয়ালীরা। আহরণের ভরা মৌসুমেও এবার বাওয়ালীদের বিএলসি-অনুমতি-দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর ছিল বন বিভাগ। সকল আইন মেনেই সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা কূপ-জোন-থেকে ব্যবসায়ীরা পারমিট গ্রহণ করে গোলপাতা আহরণে সুন্দরবন অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেন বাওয়ালী ও এর উপর নির্ভরশীল শ্রমজীবীরা। যদিও বনের উপর চাপ কমাতে বনজদ্রব্য আহরণ সঙ্কুচিত করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছে বন বিভাগ।
বাওয়ালিরা সুন্দরবনে যাতে নির্বিঘ্নে গোলপাতা কাটতে পারে তার জন্য বনবিভাগ থেকে যেমন নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা তেমনি এ গোলপাতা আহরণে রয়েছে শর্তও। গোলপাতা আহরণের সময় বনের অন্য কোনো ধরনের গাছপালা কাটা যাবে না। কোনো বাওয়ালী যদি গোলপাতার পাশাপাশি অন্য প্রজাতির গাছ কাটেন কিংবা বনের ক্ষতি করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহাজন সুলতান মাহমুদ জানান, গোলপাতা আহরণে বন কর্মকর্তারা আমাদের যথেষ্ট সহোযোগিতা করছে। সরকারী রাজস্বের বাইরে বনবিভাগের কোন চাহিদা না থাকলেও গোলপাতার চাহিদা কমে যাওয়ায় বিক্রি করতে আমাদের হিমসিম খেতে হয়। এ ব্যবসা বাব-দাদা চৌদ্দ পুরুষ আমল থেকেই চলে আসছে তাই ছাড়তে পারি না। কিন্তু এ ব্যবসাটা তেমন লাভবান না।
মহাজন গফফার হাওলাদার বলেন, সরকারী রাজস্বের বাইরে বনবিভাগের কোন চাহিদা না থাকলেও গত বছরের তুলনায় নৌকা অনেক কমে গেছে কেননা গোলপাতায় ব্যবসা এখন অনেক কম। নৌকার খরচ না ও ওঠায় অনেক নৌকা কমে গেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের (মোংলা) স্টেশন অফিসার শেখ মো. আনিসুর রহমান বলেন, সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জে দুটি গোলপাতার কূপ রয়েছে। একটি হলো শ্যালা গোলপাতা কূপ অপরটি চাঁদপাই গোলপাতা কূপ। এসব কূপে বাওয়ালীরা যাতে নির্বিঘ্নে গোলপাতা কাটতে পারেন তার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া নিয়মিত কুপের পক্ষে থেকে তদারকিও করা হচ্ছে। এ মৌসুমে শ্যালা ও চাঁদপাই কূপ থেকে ৭ হাজার মেট্রিক টন গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে নানা সংকটে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ না থাকায় চলতি মৌসুমে গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশংকাও করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এবার মৌসুমে প্রতি কুইন্টাল গোলপাতা আহরণে ভ্যাট ব্যতিত রাজস্ব নেওয়া হচ্ছে ৬০টাকা। তবে দিনদিন গোলপাতার ব্যবহার কমে আসায় কূপ থেকে গোলপাতা আহরণের পরিমাণ কমে আসছে। আগে যেখানে ১৫০-২০০ নৌকা হতো সে তুলনায় এবার প্রচুর কম নৌকা গোলপাতা আহরণে যাচ্ছে। নৌকার সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাওয়ালীর সংখ্যাও কমে গেছে। এবারও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম গোলপাতা আহরণ হবে বলেও জানান বনবিভাগের এ কর্মকর্তা।
সর্বশেষ বনবিভাগ ও বাওয়ালীদের পক্ষে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে বাওয়ালীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে নিয়ম মাফিক গোলপাতা আহরণে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ গোলপাতা আহরণ চলবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত।