Dhaka , Tuesday, 28 July 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
হারায়ে খুঁজি রাজধানীতে টিসিবির পণ্য নিতে এসে দেয়াল ধসে নিহত ১ সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি জনসেবা : বিভাগীয় কমিশনার পাইকগাছা পৌরসভার অন্যতম প্রধান সড়কে ভয়াবহ ধস; ঝুঁকিতে হাজারো মানুষের চলাচল, দ্রুত সংস্কারের দাবি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ৮ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি অস্ত্র মামলার ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোহাম্মাদ হোসেন গ্রেফতার মৃত্যুকে ভয় পাই না, আমি নিজেই একজন জুলাই যোদ্ধা: হিরো আলম চায়না অর্থায়নে নির্মিত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট পরিদর্শন করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বায়েজিদ বোস্তামী থানার অভিযানে বিদেশি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ চিহিৃত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন’র ২ সহযোগী গ্রেফতার চট্টগ্রামের ‎আনোয়ারায় ‘সিইআইজেড’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মাদারীপুরে মৃত্যুফাঁদ খ্যাত সেই সড়কের মেরামতের কাজ শুরু দক্ষিণ মিঠাছড়ির সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে গিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ ৫ বনকর্মী আহত লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্রাকচালককে অপহরণ ও কুপিয়ে ছিনতাই মামলায় ৩ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ট্রাক-সিএনজির সংঘর্ষে সাবেক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু প্রফেসর ড. রামদুলাল রায়ের আরোগ্য কামনায় গীতা পাঠ ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জের দুইশত পরিবার আবারো উচ্ছেদ আতঙ্কে \ অনাবাসিক জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি নগরীর আমবাগান বস্তিতে মিললো থানা লুটের জোড়া অস্ত্র দূর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি সীতাকুণ্ডে মহাসড়ক পার হতে গিয়ে মিনিবাসের ধাক্কায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু বছরের পর বছর গ্যাস সংকটে জর্জরিত আশুলিয়ার শ্রীপুর — বিল দিচ্ছেন, গ্যাস পাচ্ছেন না; চরম দুর্ভোগে হাজারো পরিবার রামুতে ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া সংগঠনের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করলেন এমপি লুৎফুর রহমান কাজল মাদক মামলায় ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কাশেম র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে র‍্যাবের অভিযানে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার মাদারীপুর পৌরসভায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কর্মশালা। মাদারীপুরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় দুই প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পলাতক বহিরাগত নয়, নোবিপ্রবির শিক্ষককেই ট্রেজারার চান শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রামে ০৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হরমুজে তেলের ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ সৌদিতে ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার

গাজীপুরে ৫ হত্যা: আগেই হত্যার হুমকি দিয়েছিল ফুরকান

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 08:05:25 pm, Saturday, 9 May 2026
  • 59 বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক,

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত স্বামী ফুরকান মিয়ার কম্পিউটারে টাইপ করা দুটি অভিযোগপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলোর পাশেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ওই কাগজে স্ত্রী শারমিন বেগমের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়াও একটি চিরকুট, মাদকের বোতল এবং কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের আবাসিক কলোনি থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন গৃহকর্তা ফুরকান মিয়া। প্রাথমিক তদন্তে তাকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহতরা হলেন— ফুরকানের স্ত্রী শারমিন বেগম (৩০), বড় মেয়ে মীম (১৫), মেজো মেয়ে মারিয়া (৮), ছোট ছেলে ফরিদ (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। তারা গোপালগঞ্জ থেকে জীবিকার তাগিদে কাপাসিয়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দুটি কক্ষজুড়ে রক্তের দাগ ছড়িয়ে রয়েছে। এক কক্ষে খাটের ওপর কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল রসুল মিয়ার মরদেহ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অন্য কক্ষে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুর গলাকাটা মরদেহ। আর স্ত্রী শারমিন বেগমকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো সকালে সবাই কাজে ব্যস্ত থাকলেও বেলা গড়িয়ে গেলেও ওই পরিবারের কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রতিবেশীরা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে ভেতরের ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রতিবেশী রেহানা বেগম জানান, ফুরকান ও শারমিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। প্রায়ই তাদের ঘর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা যেত। তবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা কেউ কল্পনাও করেননি।

নিহত শারমিনের স্বজনদের অভিযোগ, ফুরকান দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের জন্য শারমিনকে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক সালিসও হয়েছে। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত। শ্যালক রসুল মিয়াকেও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে এনে হত্যা করা হয়েছে।

শারমিনের বাবা শাহাদাত হোসেন বলেন, “ফুরকান আমার মেয়ে, দুই নাতনি ও এক নাতিকে হত্যা করে পালিয়েছে। সে আগেও সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করিনি।”

অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া অভিযোগপত্রে ফুরকান দাবি করেছেন, স্ত্রী শারমিন তার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর আলম জানান, উদ্ধার হওয়া কাগজপত্রে কোনো স্বাক্ষর বা তারিখ নেই। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়া ঘর থেকে মাদক সেবনের আলামত, রান্না করা সেমাই, কোমল পানীয় এবং একটি মদের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে। খাবারের সঙ্গে কোনো চেতনানাশক মেশানো হয়েছিল কিনা, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। পলাতক ফুরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হারায়ে খুঁজি

গাজীপুরে ৫ হত্যা: আগেই হত্যার হুমকি দিয়েছিল ফুরকান

আপডেট সময় : 08:05:25 pm, Saturday, 9 May 2026

নিউজ ডেস্ক,

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত স্বামী ফুরকান মিয়ার কম্পিউটারে টাইপ করা দুটি অভিযোগপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলোর পাশেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ওই কাগজে স্ত্রী শারমিন বেগমের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়াও একটি চিরকুট, মাদকের বোতল এবং কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের আবাসিক কলোনি থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন গৃহকর্তা ফুরকান মিয়া। প্রাথমিক তদন্তে তাকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহতরা হলেন— ফুরকানের স্ত্রী শারমিন বেগম (৩০), বড় মেয়ে মীম (১৫), মেজো মেয়ে মারিয়া (৮), ছোট ছেলে ফরিদ (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। তারা গোপালগঞ্জ থেকে জীবিকার তাগিদে কাপাসিয়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দুটি কক্ষজুড়ে রক্তের দাগ ছড়িয়ে রয়েছে। এক কক্ষে খাটের ওপর কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল রসুল মিয়ার মরদেহ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অন্য কক্ষে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুর গলাকাটা মরদেহ। আর স্ত্রী শারমিন বেগমকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো সকালে সবাই কাজে ব্যস্ত থাকলেও বেলা গড়িয়ে গেলেও ওই পরিবারের কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রতিবেশীরা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে ভেতরের ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রতিবেশী রেহানা বেগম জানান, ফুরকান ও শারমিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। প্রায়ই তাদের ঘর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা যেত। তবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা কেউ কল্পনাও করেননি।

নিহত শারমিনের স্বজনদের অভিযোগ, ফুরকান দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের জন্য শারমিনকে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক সালিসও হয়েছে। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত। শ্যালক রসুল মিয়াকেও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে এনে হত্যা করা হয়েছে।

শারমিনের বাবা শাহাদাত হোসেন বলেন, “ফুরকান আমার মেয়ে, দুই নাতনি ও এক নাতিকে হত্যা করে পালিয়েছে। সে আগেও সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করিনি।”

অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া অভিযোগপত্রে ফুরকান দাবি করেছেন, স্ত্রী শারমিন তার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর আলম জানান, উদ্ধার হওয়া কাগজপত্রে কোনো স্বাক্ষর বা তারিখ নেই। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়া ঘর থেকে মাদক সেবনের আলামত, রান্না করা সেমাই, কোমল পানীয় এবং একটি মদের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে। খাবারের সঙ্গে কোনো চেতনানাশক মেশানো হয়েছিল কিনা, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। পলাতক ফুরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।